আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:০৭

ফের আটকে যাচ্ছে এমপিওভুক্তি?

অনলাইন ডেস্ক
ফের আটকে যাচ্ছে এমপিওভুক্তি?

বর্তমান সরকারের মেয়াদে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের উপছুক্ততা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত আসায় এই সংশয় তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, শুধু কাগজে-কলমে যাচাই, বাছাই করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি দেয়া যাবে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করে তারপর এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ কাজের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচন কিংবা সরকারের মেয়াদের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যাছাই-বাচাইয়ের পর উপযুক্ত সময়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও দেয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে।

বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন শিক্ষামন্ত্রী। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের কাছে অনলাইনে আবেদন চেয়েছি। ইতোমধ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি মিলে মোট নয় হাজার ৪৯৮টি আবেদন জমা পড়েছে। এগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

নির্বাচনের আগে এমপিও দেওয়া হবে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্তির বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি নির্বাচন কিংবা সরকারের মেয়াদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নয়। তিনি বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে গিয়েও ফিজিক্যালি করবো। যাচাই বাছাই-শেষ হলে এটা নিশ্চিত যে এবার এমপিও দেয়া হবে, এটা আমি নিশ্চিত করতেছি। যাচাই বাছাইয়ের পরে উপযুক্ত সময়েই দেয়া হবে। এটার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা। সংখ্যা কত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থপ্রাপ্তি সব কিছু মিলে সরকারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেব। কী পদ্ধতিতে দেব সেটাও সেখানে সিদ্ধান্ত হবে।

এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রসঙ্গ ওঠে। ওই সময় মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য প্রসঙ্গটি তুলে শিগগির এটি নিষ্পত্তির জন্য অভিমত দেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে, তাতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব নয়। এমপিওভুক্ত করা হবে, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই কেবল এমপিওভুক্ত করা হবে। এ জন্য তিনি প্রকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাই করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল কাগজে-কলমে যাচাই নয়, সরেজমিন প্রতিষ্ঠান যাচাই করতে হবে। এতে কিছুটা সময় লাগলে লাগবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এমপিওভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময়ে সময়ে এটি হবে। তাই ভালোভাবে দেখেশুনে এমপিওভুক্ত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সর্বশেষ সরকার ১ হাজার ৬২৪টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে। এরপর থেকে শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির জন্য আন্দোলন করে আসছেন। এমনকি সংসদ সদস্যরাও এমপিওভুক্তির জন্য জাতীয় সংসদে একাধিবার বলেছেন। গত জুন মাসে এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্তির জন্য দুটি কমিটি গঠন করে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণের পর তাদের যাচাই-বাছাইয়ে ১ হাজার ৫৩৭টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে