আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:৩৩

শিক্ষক নিয়োগে অভিন্ন পদ্ধতি বাস্তবায়নে বসছেন ভিসিরা

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষক নিয়োগে অভিন্ন পদ্ধতি বাস্তবায়নে বসছেন ভিসিরা

দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্যে দুই যুগ পর নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী।

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মঞ্জুরি কমিশন এ নীতিমালা চূড়ান্ত করতে ইউজিসির অডিটোরিয়ামে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছে। সেখানে উপাচার্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ১১ বছরেই অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ থাকে। কোথাও প্রভাষক পদে যোগ দিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম শ্রেণি বাধ্যতামূলক। আবার কোথাও যেকোনো একটিতে প্রথম শ্রেণি থাকলেই হয়। অভিন্ন নীতিমালা হলে এমন সুযোগ বন্ধ হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, অনেক দিনের সর্বোচ্চ চেষ্টায় অভিন্ন নীতিমালাটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। শিক্ষার মান বজায় রাখতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একই মানে উন্নীতকরণের চেষ্টায় আছি আমরা। এটা হলে চূড়ান্তভাবে শিক্ষার মান উন্নত হবে। শিক্ষকদের মধ্যে পদোন্নতি বৈষম্যও দূর হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন স্কেলে বৈষম্যের প্রতিবাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে তারা নিয়োগ ও পদোন্নতির বৈষম্য তুলে ধরেন। তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি মানসম্মত অভিন্ন নীতিমালা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে এ দায়িত্ব দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মঞ্জুরি কমিশন এ নীতিমালা চূড়ান্ত করতে বুধবার ইউজিসির অডিটোরিয়ামে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছে। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর উদ্বোধন করবেন।

ভিসিসহ সংশ্লিষ্টদের দেয়া সুপারিশ মঞ্জুরি কমিশনের পূর্ণাঙ্গা কমিটিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণের পর নীতিমালাটি চূড়ান্ত হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নীতিমালাটি হলে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্য, রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য, পদোন্নতি জটিলতা, লেজুড়ভিত্তিক শিক্ষক রাজনীতির প্রভাব কমাসহ শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আসবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে সমন্বিত নীতিমালা না থাকায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানও সমান নয় এবং ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বৈষম্যও দেখা দেয়।

এ বৈষম্য দূর করতে ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নে নীতিমালা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠায়। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক সমিতিসহ রাজনৈতিক চাপের কারণে নীতিমালাটি আলোর মুখ দেখেনি।

ইউজিসি সূত্র জানায়, নীতিমালা তৈরি করতে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ আলী মোল্লাকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. শাহ নওয়াজ আলি, প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন এবং ইউজিসি সচিব ড. মোহাম্মদ খালেদ। কমিটির সদস্য সচিব করা হয় ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক খন্দকার হামিদুর রহমানকে।

কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতির নীতিমালা, কমিশনের বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেশন ও বিভিন্ন শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসে খসড়া নীতিমালাটি তৈরি করেন।

এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য খন্দকার হামিদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করার চেষ্টা চলছে। সবার মতামত নিয়ে খসড়া নীতিমালা তৈরি হয়েছে। আশা করি সবাই এটি গ্রহণ করবেন। ভিসিরা কর্মশালায় তা চূড়ান্ত করবেন।

উপরে