আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০১৬ ১২:৪০

উচ্চশিক্ষার মান যাচাইয়ে কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে সরকার

বিডিটাইমস ডেস্ক
উচ্চশিক্ষার মান যাচাইয়ে কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে সরকার

দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে একটি অ্যাক্রেডিটেশন (স্বীকৃত) কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এই কাউন্সিল শিক্ষা কার্যক্রম যাচাই করে এ বিষয়ে স্বীকৃতি দেবে। তারা সরকারি ও বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করবে।

এ লক্ষ্যে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৬-এর খসড়া অনুমোদনের জন্য আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের কথা রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

দেশে বর্তমানে ৩৮টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত এবং ৯২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, অনেকে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু গুণগত মান যাচাইয়ের কোনো সূচক নেই। ফলে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার মান ভালো না মন্দ, তা বলা কঠিন। এ জন্য এই কাউন্সিল গঠন করা জরুরি। এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৬ অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠনের বিধান রয়েছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি হলে খুব ভালো হবে। এটা উচ্চশিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।

কাউন্সিলের মূল দায়িত্ব হবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, শিক্ষা কার্যক্রম যাচাই করে স্বীকৃতি দেওয়া। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি বিভাগ, কোর্স বা প্রোগ্রামের (ডিসিপ্লিন) জন্য পৃথক কমিটি গঠন করে এ সম্পর্কে যাচাই করবে কাউন্সিল। এরপর ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাক্রেডিটেশন ও কনফিডেন্স’ সনদ দেওয়া হবে। এই সনদের একটি নির্ধারিত মেয়াদ থাকবে। সনদ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে দিতে হবে।

এই কাউন্সিল যৌক্তিক কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এর অধীন কোনো ডিগ্রি প্রোগ্রামের ‘অ্যাক্রেডিটেশন ও কনফিডেন্স’ সনদ বাতিলও করবে। কাউন্সিলকে তার কাজের জন্য সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, একজন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্য নিয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে। গুণগত মান ও স্বীকৃতির বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কমপক্ষে ২৫ বছরের শিক্ষকতা (এর মধ্যে কমপক্ষে ১০ বছর অধ্যাপক) ও উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অধ্যাপক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন।

সদস্যদের মধ্যে অধ্যাপক পদমর্যাদার চারজন শিক্ষাবিদ পূর্ণকালীন সদস্য ও ছয়জন খণ্ডকালীন সদস্য থাকবেন। খণ্ডকালীন সদস্যদের মধ্যে থাকবেন ইউজিসির একজন সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি (অতিরিক্ত সচিবের নিচে), অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি বা তাঁর মনোনীত ওই অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য, কাউন্সিলের মনোনীত বিদেশি কোনো অ্যাক্রেডিটেশন সংস্থার একজন বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী সংস্থার একজন প্রতিনিধি এবং সরকার মনোনীত ফেডারেশন অব চেম্বারের একজন শিল্প উদ্যোক্তা।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, আইনের খসড়া করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও দপ্তরের মতামত নেওয়া হয়। এরপর আইনের খসড়া ওয়েবসাইটে দিয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এ ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সেমিনার করেও মতামত নেওয়া হয়। এরপর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে