আপডেট : ২৫ মার্চ, ২০১৬ ১২:৪৯

ঢাকায় হেঁটে স্কুলে যায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী

বিডিটাইমস ডেস্ক
ঢাকায় হেঁটে স্কুলে যায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী

বর্তমানে ঢাকার ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করে। এই সংখ্যা বাড়ানো গেলে রাজধানীর যানজট সমস্যা অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে অর্থ সাশ্রয়, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নতি ঘটবে। এ জন্য হাঁটার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন, মানসম্মত স্কুলসহ সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তন ‘যানজট হ্রাসে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই মন্তব্য করা হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও আরো দুটি এনজিও এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পক্ষ থেকে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য রায়েরবাজার এলাকার আলী হোসেন বালিকা বিদ্যালয়, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ স্কুল এবং ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে হেঁটে যাতায়াতের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই তিনটি বিদ্যালয়ের হাজার খানেক শিক্ষার্থী হেঁটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয় সে বিষয়ে করা জরিপের ফল সভায় তুলে ধরা হয়।

জরিপে দেখা যায়, ওই তিনটি বিদ্যালয়ের ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী হেঁটে যাতায়াত করে। ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বাস করে। হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তার মধ্যে গাড়ির গতি এবং দেয়ালের দিকে ঘেঁষে গাড়ি চালানো, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, গাড়ির হর্ন, ফুটপাতে হাঁটতে না পারা অন্যতম।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মারুফ হোসেন। তাতে বলা হয়, নগরে বেশির ভাগ শিশুর প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম হয় না। শিশুদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হাঁপানি, নিদ্রাহীনতার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করলে অর্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বাঁচবে।

হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের যেসব সুবিধা রয়েছে তার মধ্যে পরিবেশদূষণ হ্রাসে অবদান রাখা, বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটা ও গল্প করা, প্রতিবেশীর সঙ্গে চেনাজানা, যাতায়াত খরচ সাশ্রয়, স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি অন্যতম। এ ছাড়া সুস্থ শরীরের শর্ত, প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রমও।

সভাপতির বক্তব্যে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক আকতার মাহমুদ বলেন, সব এলাকায় মানসম্মত স্কুল না থাকায় অন্য এলাকায় যেতে হয়। যানজট কমাতে মহল্লাভিত্তিক উন্নয়ন ও মানসম্মত স্কুল করতে হবে। ফুটপাত সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচল উপযোগী করতে হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়কে হাঁটার সময় শিক্ষার্থীদের সতর্ক হতে হবে। পার হওয়ার সময় পদচারী-সেতু ব্যবহার করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, যানজট হ্রাসে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ২০১০ সালে ঢাকা শহরে স্কুলবাস চালু করা হয়। কিন্তু স্কুলবাস সার্ভিস চালুর উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। শিক্ষার্থীদের হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে উৎসাহিত করতে গাড়ির গতি নির্ধারণ, হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা, সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার জায়গা দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা, জলাবদ্ধতা হ্রাসে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইশরাত ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা হেঁটে চললেই যানজট সমস্যার সমাধান হবে না। ফুটপাত হাঁটার উপযোগী করতে হবে। সড়কে চলাচলের নিরাপত্তা দিতে হবে।

সভায় পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বাপার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জে কে বড়াল, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিডিটািইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে