আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৫৩

১৮ মহিলা কলেজ শিক্ষকের পদোন্নতি ২০০০ বিধিতেই

বিডিটাইমস ডেস্ক
১৮ মহিলা কলেজ শিক্ষকের পদোন্নতি ২০০০ বিধিতেই

১৮টি সরকারি মহিলা কলেজের পায় সাড়ে পাঁচশত শিক্ষকের চাকরি নিয়মিতকরণ, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুবিধাদি সরকার প্রণীত আত্মীকরণ বিধিমালা ২০০০  অনুযায়ী দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য আপিল বিভাগ। আত্মীকরণ বিধি ১৯৮১ অনুযায়ী ১৮ কলেজ শিক্ষকরা সুবিধাদি পেয়ে্ আসছিলেন । যা আপিল বিভাগ অবৈধ ঘোষণা করেছেন এবং আদেশ দিয়েছেন যে তাদেরকে শুধু ২০০০ বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি ও নিয়মিতকরণ করতে হবে। ইতিপূর্বে যত সুবিধা ৮১ বিধি অনুযায়ী তারা নিয়েছেন তা সব অবৈধ এবং বাতিল করতে  হবে।

সরকারের হঠাৎ ঘোষণায় ১৮ মহিলা কলেজ আত্মীকৃত হয় কয়েকবছর আগে কিন্তু তাদের চাকুরি নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতিতে নানা জটিলতা তৈরি হয়। অবশেষে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত রিভিউয়ের এই চূড়ান্ত রায় হয়। সরকার পক্ষে এ্যার্টর্নি জেনারেল আদালতে উপস্থিত থেকে লড়েছেন। শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা দৈনিকশিক্ষাকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

সরাসরি বি সি এস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া নিরপেক্ষ শিক্ষকরা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় পেয়ে খুবই খুশী।

তারা বলেন, ১৮ কলেজ থেকে আত্মীকৃত হওয়া প্রায় ৫৫০ জন ৮১ বিধি অনুযায়ী নানা অবৈধ সুবিধা নিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে। তবে, শেষ রক্ষা হলো না আজকের রায়ের কারণে। তাদেরকে ২০০০ বিধি মেনেই পদোন্নতিসহ নানা সুবিধা নিতে হবে।

১৮ মহিলা কলেজ আত্মীকরণের বিপক্ষে মামলা চালানোর নামে  লাখ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয় সরাসরি বি সি এসএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া তরুণ শিক্ষকদের কাছ থেকে। কিন্তু বিতর্কিত ও জামাত-শিবিরপন্থীদের শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতার দায়ে অভিযুক্ত বি সি এস শিক্ষা সমিতির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক মো. মাসুমে রাববানী খান পুরো টাকাটা মেরে দেন। শুধু তা-ই নয়, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষও নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবু, রিভিউ আবেদন করেননি। ওই সময়ে সমিতির সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন।

শিক্ষা ক্যাডার থেকে অবসরে যাওয়া ইংরেজির অধ্যাপক মসিউর রহমান বলেন, মাসুমের স্ত্রীর আপন বড় বোন ১৮ মহিলা কলেজ থেকে আত্মীকৃতদের একজন। তিনি কুড়িগ্রাম মহিলা কলেজ থেকে আত্মীকৃত হন। সেখানেই সব রহস্য।

তিনি বলেন, ক্যাডারের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বড় তা আরেকবার প্রমাণ করে ছাড়লেন মাসুম, এমন অভিযোগ শিক্ষা ক্যাডারের সবার মুখে মুখে। নায়েমে বিভিন্ন ফোরামের গোপণ বৈঠকে ফাাহিমা ও মাসুমের বিরুদ্ধে যুক্তি, তথ্যপ্রমাণ ও কাগজ তুলে ধরছেন দীর্ঘদিন যাবত মাসুম গংদের ছলা-কলায় ভুলে থাকা শিক্ষা ক্যাডারের তরুণ সদস্যরা। তারা মুখোশ উন্মোচন করে দিচ্ছেন সিনিয়রদের।

উল্লেখ্য, সরকারি কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে একটা অংশ সরাসরি বি সি এস পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত অপর অংশ বেসরকারি কলেজ সরকারি হওয়ার সুবাদে আত্মীকৃত হওয়া।

যারা সরাসরি নিয়োগ পাওয়া তারা মনে করেন, আত্মীকৃদের তাদের সমান সুবিধা দেওয়া উচিত না।

অপরদিকে আত্মীকৃতরা বলেন, তারা সরকারি হতে চাননি বা জোর করে জাতীয়করণ হননি, সরকারগুলোই তাদের প্রয়োজনে বেসরকারি কলেজ সরকারি ঘোষণা করেছেন। তাই সরকার সুযোগ সুবিধা কম দিতে পারেন না। একই বই পড়ান। একই পরীক্ষা নেন ও খাতা দেখেন। সরকার অবশ্য সুযোগ সুবিধা কম দেয়ওনা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে