আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৫৮

অনিয়মের হেড কোয়ার্টার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বিডিটাইমস ডেস্ক
অনিয়মের হেড কোয়ার্টার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও সিনেট এখনো ‘অকার্যকর’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন উপাচার্যের কেউ কোনো সিনেট অধিবেশনই আহ্বান করতে পারেননি।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত এবং ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির সম্মতিপ্রাপ্ত ২০০৯ সালের ২৯নং আইন দ্বারা পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানের ১৯(১) ধারা অনুযায়ী, সিনেট চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে বৎসরে ন্যূনতম একবার সিনেটের সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, সিনেট চেয়ারম্যান শিক্ষাবর্ষের যেকোনো সময় সিনেটের বিশেষ সভা আহ্বান করতে পারবেন। এই আইনের ২০নং ধারার (ক) ও (খ)নং অনুচ্ছেদে উল্লেখিত সিনেটের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।

 সিনেট সদস্য লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোতাহার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটা অনিয়মের হেড কোয়ার্টার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকবার বলেছি, আমাদের সিনেট সদস্য বানালেন কিন্তু বছর পার হয়ে গেল আজ পর্যন্ত কোনো মিটিং নেই। উপাচার্য শুধু বলেন, তিনি এটি দেখছেন।’

সিনেট সদস্য গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মাহবুব আরা গিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সিনেট সভা আহ্বানের ব্যাপারে তার বরাবর কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু ছালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান (তুহিন ওয়াদুদ) বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে নয় বছর ধরে সিনেট হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-সংবিধি ও প্রবিধি করবার জন্য সিনেটের প্রয়োজন। এ ছাড়া বার্ষিক প্রতিবেদন, বার্ষিক হিসাব ও বার্ষিক সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সিনেটে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিনেট না হলে পরে সেখানে এগুলো অনুমোদন হয় না। আর এগুলো অনুমোদন না হলে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আর এম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল রাখতে হলে বছরে অন্তত একবার সিনেট আহ্বান করা জরুরি। কিন্তু কোনোভাবেই কেউ সেটা কার্যকর করছেন না। সিনেট হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যার সমাধান হওয়ার সুযোগ থাকে কিন্তু সে সুযোগ হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিনেট সভা না হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সমস্যা সরকারকে জানানো সম্ভব হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন নবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, অস্থিতিশীল পরিবেশ ও নানা জটিলতার কারণে এত দিন সিনেট আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী মে-জুন মাসের দিকে সিনেট সভা আহ্বান করা হবে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে