আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৬:০৬

একাদশে ভর্তি অনলাইনে, মত নেই দুই বোর্ড চেয়ারম্যানের!

বিডিটাইমস ডেস্ক
একাদশে ভর্তি অনলাইনে, মত নেই দুই বোর্ড চেয়ারম্যানের!

আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তোড়জোড়। ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিলেট ও কারিগরী শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদ্বয় অনলাইনে ভর্তির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত বছর প্রথমবারের মতো সব কলেজে অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতি অনুসরন করে ব্যাপক সুফল পাওয়া যায়।

আলাপকালে একাধিক বোর্ড চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা বলেছেন, গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্ত:শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের সভায় সিলেট বোর্ড চেয়ারম্যান ও কারিগরী বোর্ড চেয়ারম্যান আশ্চর্যজনকভাবে অনলাইনে ভর্তির বিরোধীতা করেছেন। অথচ গত বছর তারা অনলাইনে ভর্তি করিয়ে ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। যদিও
প্রথমবারের মতো হওয়া কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি ধরা পড়ে। ১১ লাখের বেশি আবেদনকারী ছিলেন।
তবে, বোর্ড চেওয়ারম্যানদের সভার শেষ পর্যায়ে দু’একজন বলেছেন, ৩০০’র বেশি আসনসমৃদ্ধ কলেজেই শুধু অনলাইনে ভর্তি। বাদবাকীদের ম্যানুয়াল পদ্ধতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চেয়ারম্যান বলেন, গত বছর প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ অনলাইনে ভর্তি করার ফলে যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভর্তিসহ নানা অপকর্মের ফিরিস্তি প্রকাশ হয়েছে। আরো জানা গেলো শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন দেওয়া ক্যামব্রিয়ান, কুইন্স ইত্যাদি ভুইফোঁড় কলেজ নেই। ডজন ডজন ভূইফোঁড় কলেজের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গত ৭/৮ বছরের শুধু টাকার বিনিময়ে যারা নতুন কলেজের অনুমোদন দিয়েছেন বা নিয়েছেন সবই খোলাসা হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, মূল হোতা সাবেক এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ ও ঢাকা বোর্ডের বর্তমান সচিব শাহেদুল খবীর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত চন্দ, বোর্ডের পরিদর্শক অদ্বৈত কুমার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী।

অভিযোগ রয়েছে, কারিগরী বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে জোট বেঁধেছে উপ-সচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী। এই বির্তকিত ঢালী মূলত একজন তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি নানা পরিচয়ে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাস থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন। দেশর শিক্ষাখাতকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা ও মন্ত্রণালয়ে গত ১০ বছরে ঘটানো নানা অপকর্মের হোতা এই ঢালী।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করারর হীন চক্রান্তে লিপ্ত আদম ব্যবসায়ী ক্যামব্রিয়ান ও বিএসবির মালিককে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিস্থাপন করিয়েছেন এই ঢালী। বিনিময়ে ঢালী নানা সুবিধা নিয়েছেন। তথ্য প্রমাণ দৈনিকশিক্ষার হাতে রয়েছে।

গতবছর ধরা খাওয়া এবং ছাত্র না পাওয়ায় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়া কতিপয় কলেজ মালিক ঢালী-বাড়ৈ চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনলাইন ভর্তি বাতিলের পায়ঁতারা করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতে, ঢালী আগে চালাতেন পুরো মন্ত্রণালয় এখন চালান কারিগরী বোর্ড ও অধিদপ্তর।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে