আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৬ ১০:১৪

জাপানে চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ

বিডিটাইমস ডেস্ক
জাপানে চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ

বাংলাদেশের কাছে জাপান সূর্যোদয়ের দেশ বলেই পরিচিত। তবে সারাবিশ্ব জাপানকে তথ্য প্রযুক্তিতে উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ বলেই চেনে। বিশ্ব অর্থনীতিতে জাপানের অবস্থান ৩য়। কিন্তু গত একদশক ধরে ক্রমাগত হারে জনসংখ্যার নিন্মগতি জাপানের অর্থনীতির জন্য মারাত্ত্বক হুমকি হিসেবে দাড়িয়েছে। বিশ্ব জনসংখ্যা রিভিউইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১০ সালে জাপানের জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৫ লক্ষ যা ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৫ লক্ষ তে। গত ৫ বছরেই কমে গেছে প্রায় ১০ লক্ষ লোক। পরিসংখ্যান টি আরও বলছে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে ১৩,৯৩২ জন শিশু কিন্তু তার বিপরীতে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ১৮,৫৫২ জন মানুষ। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে কতটা মারাত্বক হয়ে দাড়িয়েছে এই জনসংখ্যা সমস্যা টি। এছাড়া প্রতিনিয়ত বাড়ছে বয়স্ক লোকের সংখ্যা। এমতবস্থায় জাপানের এই অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখার মত জনসংখ্যা জাপানের কাছে নেই। এই চলমান পরিস্থিতি কে মোকাবেলা করতে জাপান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে সম্ভাবনাময় দক্ষ জনশক্তি কে জাপানে চাকরি ও শিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করতে। এই দেশগুলোর তালিকার মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফিলিপাইনের নাম। জাপানের গ্লোবাল ৩০ ভিশন অনুযায়ী” জাপান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ আন্তঃজার্তিক স্টুডেন্ট নেবে। এই সুযোগ বাংলাদেশের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। 

কেন জাপান?

জাপানের শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানের। প্রায় ৭৫০ টির মত বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামুলকভাবে অনেক কম খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। পড়াশোনার পাশাপাশি সাপ্তাহিক ২৮ ঘন্টা পার্টটাইম জবের সুযোগ দিচ্ছে জাপান সরকার যা ইউরোপ বা আমেরিকার কোন উন্নত দেশেই নেই । তাছাড়া বাৎসরিক অবকাশকালীন সময়ে পার্ট-টাইম জবের সময় নিয়ে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। জাপানে প্রতি ঘন্টায় পার্ট-টাইম জবের বেতন সর্বনিন্ম ৮০০ জাপানিজ ইয়েন। কাজ ও ভাষার দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথে এই বেতনও বাড়ে। এভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন অনেকে। তাছাড়া পড়াশোনা শেষেই ফুলটাইম চাকরির সুযোগ মিলছে জাপানে এবং ৫ বছর ওয়ার্ক ভিসা থাকার পরই আবেদন করা যায় পারমানেন্ট রেসিডেন্স স্ট্যাসাসের জন্য। তাছাড়া জাপান এমব্যাসি এখন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক নমনীয়।

কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন?

জাপানের প্রায় ৭৫০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিয়ারিং, ব্যবসায়, কলা, ডিপ্লোমা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। 

শিক্ষাগত যোগ্যতা?

এইচএসসি/ডিপ্লোমা/স্নাতক/স্নাতকোত্তর বা সমমানের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। জাপানিজ ভাষার দক্ষতার জন্য নাট টেস্ট/জেএলপিটি এন-ফাইভ অথবা ১৫০ ঘন্টার জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ কোর্স করতে হবে।

কিভাবে যাবেন জাপানে?

শুরুতে জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউটগুলোতে ইন্টারভিউ দিতে হবে। ইন্টারভিউতে পাশ করলে প্রয়োজনীর কাগজ-পত্র জাপান ইমিগ্রেশনে জমা দিতে হবে। ইমিগ্রেশন থেকে ইলিজিবিলিটি লেটার ইস্যু করার পর ১ বছরের টিউশন ফি জমা দিতে হবে। এরপর বাংলাদেশের জাপান এমব্যাসিতে প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র জমা দিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এমব্যাসি সবকিছু দেখে ভিসা ইস্যু করবে। 

কার কাছ থেকে সহায়তা নেবেন?

জাপানে পড়াশোনা বিষয়ে সহায়তার করার জন্য বাংলাদেশে কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এরমধ্যে ড্যাফোডিল জাপান আইটি অন্যতম। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় তরুণদের চাকরি ও পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছে প্রতিষ্ঠান টি। তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড্যাফোডিল জাপান আইটির ম্যানাজিং ডিরেক্টর “তরু অকাজাকি” জানান তাদের প্রতিষ্টান থেকে জাপানিজ ভাষার কোর্স করে ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রী পাড়ি জমিয়েছেন জাপানে। তিনি আরও জানান, যেহেতু জাপানে যাওয়ার জন্য জানাপিজ ভাষা জানাটা আবশ্যক, সেহেতু ড্যাফোডিল জাপান আইটির রয়েছে স্পেশাল জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ কোর্স। এসব কোর্সের ক্লাস নেন জাপানিজ ও বাংলাদেশি শিক্ষকরা। 

এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪৭১৪০১১১ ও ০১৮৪৭১৪০১১০ নম্বরে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এনএন

উপরে