আপডেট : ১০ মার্চ, ২০১৬ ১৮:২১

সব সম্পত্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে লিখে দিলেন সন্তান হারানো বাবা

বিডিটাইমস ডেস্ক
সব সম্পত্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে লিখে  দিলেন সন্তান হারানো বাবা

মৃত্যুর পর নিজের সব সম্পত্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন ছাত্রলীগের ‘গেস্টরুম’ এর নির্মম বলি হাফিজুর রহমানের বাবা ইসহাক মোল্লা। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে জীবনের সব স্বপ্ন-আশা শেষ হয়ে যায় দরিদ্র বাবা-মার। সম্পদ বলতে নিজেদের ভিটেমাটি ও একমাত্র সন্তান হাফিজই ছিল। হাফিজ যেহেতু বেঁচে নেই, তাই বাকি সম্পত্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তারা।

হাফিজের বাবা-মাকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার জন্য গত রোববার ঢাকায় আমন্ত্রণ জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিন হাফিজের বাবা ইসহাক মোল্লা ও মা হালিমা বেগমের হাতে চার লাখ টাকা তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এদিন অর্থ সহয়তা গ্রহণের সময় তাদের মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের অস্থাবর-স্থাবর সব সম্পত্তি দান করে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তারা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের দরিদ্র অটোরিকশাচালক ইসহাক মোল্লা ও হালিমা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান হাফিজুর। সদরপুর জাকের মঞ্জিল উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় মেধাবী এ ছাত্র। উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন।

আর্থিক অনটনের কারণে ছাত্রাবাসে উঠতে পারেননি। ছাত্রলীগের এক বড় ভাইয়ের হাত ধরে হাফিজুরের স্থান হয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে। সিট সংকটের কারণে তাকে থাকতে হয় হলের মেঝেতে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে মেঝেতে থাকায় হাফিজুর আক্রান্ত হন নিউমোনিয়া ও টাইফয়েডে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও ছাত্রলীগের ‘গেস্টরুম’ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল হাফিজুরকে। পরে গত ২৭ জানুয়ারি অসুস্থ শরীর নিয়ে বাড়ি আসেন তিনি। বাড়িতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মম অবস্থার কথা জানান বাবা-মাকে।

অবস্থা খারাপ হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা শেষে তার নিউমোনিয়া ও টাইফয়েড ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দেন। আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারা। পথে ফেরিতেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে যান হাফিজ।

দরিদ্র পরিবারের একমাত্র ভরসা হাফিজুরকে হারিয়ে নিঃস্ব বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতেই গত রোববার আমন্ত্রণ জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আরেফীন সিদ্দিক এ সময় তাদের হাতে চার লাখ টাকা তুলে দেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকা, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ৫০ হাজার, মার্কেটিং বিভাগ ৫০ হাজার, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল কর্তৃপক্ষ ৫০ হাজার, মার্কেটিং বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ৫০ হাজার, অধ্যাপক ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ৫০ হাজার এবং হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

হাফিজুরের বাবা ইসহাক মোল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে জানান, অটোরিকশা চালিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসারের ব্যয় ও হাফিজুরের লেখাপড়ার খরচ নির্বাহ হতো। সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই তাদের। একমাত্র হাফিজুরই তাদের সঞ্চয় ছিল। বুকের ধন হাফিজুরই যখন নেই, তখন সম্পদ দিয়ে আর কী হবে। তাই তাদের মৃত্যুর পর নিজের ভিটেমাটি যা আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। তিনি বলেন, এমন করে আর কোনো বাবা-মার বুক যেন খালি না হয়, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

 

উপরে