আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৪১

নতুন অনুমোদন পেল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

বিডিটাইমস ডেস্ক
নতুন অনুমোদন পেল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

নানামুখী বিতর্কের মাঝেই অনুমোদন পেল আরো একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। নব্য প্রতিষ্ঠানটিসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২টি। এর মাঝে ৪০টি অনুমোদন পেয়েছে গত চার বছরে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন দেন। রাজধানীর মিরপুর-১৪, ব্লক-ডি, প্লট নং-এ/৫ এ অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম 'সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা হিসেবে আছেন প্রফেসর ড. এম আর খান। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিলো ৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। যার মধ্যে দুইটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হবে গুলশান ও তেজগাঁও থেকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যথারীতি সম্পৃক্ত আছেন ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনাকে। এজন্যেই দেখা গেছে কয়েক মাস আগে কুমিল্লার একটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রাতারাতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে। যার পেছনে আছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু।

মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিগত চার বছরে অনুমোদন পাওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগেরই উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৫ নভেম্বর থেকে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া শুরু হয়। গত ২৪ বছরে যতগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার অধিকাংশের পেছনেই ছিলো রাজনৈতিক বিবেচনা বা দলীয় আনুগত্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যোগসাজশে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেয়েছেন কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বিএনপি জামায়াত সরকারের আমলে তাদের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের এই দলটির লোকজনই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপথ্যে থেকেছেন। মজার তথ্য হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে আছেন একজন সাবেক উপদেষ্টা।

এসব কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের হিসাব রাখে বিএনপি, তত্ত্বাবধায়ক ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমল ভিত্তিক। মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বিএনপির প্রথম সরকার (১৯৯১-১৯৯৬) এর সময় অনুমোদন পেয়েছিলো ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অনুমোদন পায় দুটি বিশ্ববিদ্যালয়, আওয়ামী লীগের (১৯৯৬-২০০১) সরকারের সময় অনুমোদন পায় ৫টি, বিএনপির (২০০১-২০০৬) সরকারের সময় অনুমোদন পায় ৩১টি এবং ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অনুমোদন পেয়েছিল আরো দুইটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমান আওয়ামী সরকারের দুই আমলে অনুমোদন পেয়েছে ৪০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ ভাগ আসনই ফাঁকা থাকছে। প্রশ্নবিদ্ধ মানের কারণে বর্তমানে চলমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। সেখানে নিত্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বেসরকারি খাতে পরিচালিত উচ্চ শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মান নিয়েই প্রশ্নের সৃষ্টি করছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে