আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:৪০

৯২ ভাগ স্কুলে নেই কম্পিউটার সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯২ ভাগ স্কুলে নেই কম্পিউটার সুবিধা

তিন বছর আগে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ই-বুক সেবা চালু হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এখনও কম্পিউটার পৌঁছায়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি ২০১৪ অনুযায়ী দেশের শতকরা ৯২ ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় কম্পিউটার সুবিধার বাইরে রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থায় অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে কম্পিউটার ব্যবহার। জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষা ব্যবস্থায় কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায়ও (এসডিজি) সবার জন্য টেকসই গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার সেবা না থাকাকে টেকসই উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞরা।

অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার না পৌঁছানোর বিষয়টি স্বীকার করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বড় অংশে এখনো কম্পিউটার পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমরা প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোয় কম্পিউটার সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকাশিত শুমারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্য ও প্রযুক্তি উপকরণের সঙ্গে পরিচিত শিক্ষক রয়েছেন- এ রকম ১৪ শতাংশ বিদ্যালয় পাওয়া গেছে। এছাড়া ই-কন্টেন্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষকের।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক জালাল উদ্দিন বলেন, একটি বিদ্যালয়ে যেকোনো সেবা চালু করার আগে শিক্ষকদের ওই বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান বাধ্যতামূলক। কেননা শিক্ষকরাই এসব সুবিধাদি শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করবেন। এছাড়া শিক্ষকদের আইটি বিষয়ে দক্ষতার অভাবে অনেক সময় কম্পিউটার, প্রজেক্টরসহ অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার হয় না। তাই সবার আগে শিক্ষকদের ই-বুক, ডিজিটাল কন্টেন্টসহ আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রথম-পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-বিষয়ক ১৭টি বইয়ের ইন্টারঅ্যাক্টিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট তৈরি করা হয়। বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-বিষয়ক ১২টি বই ব্র্যাক এবং ইংরেজি বিষয়ের পাঁচটি বইয়ের কন্টেন্ট তৈরিতে সেভ দ্য চিলড্রেন কারিগরি সহায়তা করেছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক বা প্রশিক্ষক, ব্যাকরণ ও উচ্চারণ বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, শিশু মনোবিদ, কালার বিশেষজ্ঞ, প্রোগামিং ও অ্যানিমেশন বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা কন্টেন্ট ইন্টারঅ্যাক্টিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক ক্লাসরুম, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করতে পারলেই শ্রেণীকক্ষে ইন্টারঅ্যাক্টিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল কন্টেন্টের সুফল পাবে শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল কন্টেন্ট চালু একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কেননা টেকসই, গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষায় ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনেক। তবে এ ধরনের সেবা চালুর সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ এসেছে। কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক ক্লাসরুম, বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত সংখ্যক তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিতের মাধ্যমে সব বিদ্যালয়ে এ সেবা নিশ্চিত করতে তবে। অন্যথায় এখানেও এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হবে।

বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৫৩৭টি  প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫২ হাজার ৯৭৯। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে মেয়ে শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে রয়েছেন ৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৮৪ জন শিক্ষক।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো স্যানিটেশন সেবার বাইরে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রয়েছে ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ বিদ্যালয়ে। এছাড়া ২০১৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ছিল ১:৪৬। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ১:৪৯।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে