আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২০:৩১

উন্নয়নের ছিটেফোটাও হয়নি, দেড়কোটি টাকা উধাও!

বিএম কলেজের উন্নয়ন তহবিল
বরিশাল প্রতিনিধি
উন্নয়নের ছিটেফোটাও হয়নি, দেড়কোটি টাকা উধাও!

সরকারি বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের ছাত্রী আখি রানী ভক্ত। বুধবার ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বাথরুমে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ হওয়াটা আখির পূর্বের কোন ব্যাধির কারণে নয়। অপরিচ্ছন্ন বাথরুমের কারণে তার এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।

অথচ অনার্স এর চার বছর ও মাস্টার্সের এক বছরে কলেজের উন্নয়ন তহবিলে আখি ১ হাজার টাকা দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের সাথে সমন্বয় করে উন্নয়ন করার কথা। কিন্তু অর্থ নিয়ে তা আত্নসাৎ করেই খালাস কলেজ কতৃপক্ষ। এ কারণে আখির নিজ বিভাগ অর্থনীতিতে বাথরুমতো নেই-ই বরং ইসলাম শিক্ষা বিভাগের যে বাথরুমটি ব্যবহার করে তাও দির্ঘদিন ধরে স্যাতস্যাতে ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উন্নয়ন তহবিলে মোটা অংকের অর্থ দিয়েও ব্যবহার অনুপযোগি ওই বাথরুমটি কলেজের ইসলাম শিক্ষা, ইসলামের ইতিহাস, সংস্কৃত, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাংলা বিভাগের ৮হাজারেরও বেশী শিক্ষার্থী ব্যবহার করে।

একই অবস্থা কলেজের ইংরেজী বিভাগের। এ বিভাগেরও ৫০ বছরের পুরনো একটি স্যাতস্যাতে ব্যবহার অনুপযোগি বাথরুম ওই ভবনে থাকা ৪টি বিভাগের ৫ হ্জার শিক্ষার্থী ব্যবহার করছে। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে প্রতিদিন।

অথচ একজন শিক্ষার্থীকে অনার্স এর চার বছর পার করতে উন্নয়ন তহবিলে প্রতিবছর ২শ টাকা করে ৪ বছরে ৮শ টাকা দিতে হয়। আর মাস্টার্স এ ২শ টাকা। শর্তানুসারে ওই টাকা কলেজের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করার কথা। তবে ওই উন্নয়ন শিক্ষার্থীদের কাজে আসে অবশ্যই এরকম হতে হবে।

কলেজের হিসাব শাখার দেয়া তথ্যানুসারে, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস ২০১৩ সালে খুলনা বিএল কলেজে ট্রান্সফার হন। তখন কলেজের উন্নয়ন তহবিল একেবারে শুন্য ছিলো। কিন্তু এরপর ওই বছর কলেজের অনার্স ভর্তি(৪হাজার২শ), অনার্সের তিনটি পরীক্ষা(অনার্স প্রথম বষ ৪হাজার ২র্শ, দ্বিতীয় বর্ষ ৪হাজার ২শ ও তৃতীয় বর্ষ ৪হাজার ২শ), মাস্টার্সের ভতি(নিয়মিত ৪ হাজার ৪শ ও প্রিলিমিনারি ৪ হাজার ২শ)থেকে মোট ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ২শ টাকা করে মোট ৫০ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। এরপর ২০১৪ সালে একইরুপ উন্নয়ন তহবিলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ও ২০১৫ সালে ৫০ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। তিন বছরে সব মিলিয়ে উন্নয়ন তহবিলে দেড় কোটি টাকা আদায় করা হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। তবে ২০১৬ সালের আদায়কৃত অর্থের হিসাব এখনও হয়নি।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুসারে এ তিন বছরে উন্নয়নের মধ্যে কেবল হয়েছে কলেজের কিছু বিভাগের চুনকাম আর কলেজ অধ্যক্ষর কার্যালয়ের সামনের একটি ফুল বাগান। আর এতেই উন্নয়ন তহবিল ফাকা।  যদিও কলেজ এর হিসাব শাখা বলছে কিছু অর্থ উন্নয়ন তহবিলে রয়েছে। তবে তার পরিমাণ বলা যাবেনা।

বিএম কলেজের ইংরেজী বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের ছাত্র ওবায়দুর রহমান বলেন,  ৭ বছর ধরে এ কলেজে পড়ছি। কিন্তু কোন উন্নয়ন দেখিনি। কলেজের ১৯টি বিভাগে মাত্র ৪টি টয়লেট রয়েছে। যা ব্যবহার করছে কলেজের ২২ হাজার শিক্ষার্থী। অপরদিকে কলেজের সকল ভবনগুলোই বহু বছরের পুরনো ও স্যাতস্যাতে। এখানে কোন চুনকামই করা হয়নি। অপরদিকে যেসকল বেঞ্চে বসিয়ে ক্লাস নেয়া হয় তাও বহু বছরের পুরানো। নতুন বেঞ্চতো দুরের কথা পুরানো বেঞ্চ সংস্কারও করা হয়নি কখনও। ভাঙাচুড়া বেঞ্চেই চলছে ক্লাস। অথচ আমরা উন্নয়ন তহবিলে কেবল টাকা জমা করে যাচ্ছি কলেজ কতৃপক্ষের জন্য।

সরকারি বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক স ম ইমানুল হাকিম বলেন, আমি ২০১৫ সালে যখন দায়িত্ব নেই তখন উন্নয়ন তহবিলে কেবল ৪ লাখ টাকা ছিলো। এরপর তহবিলে যে অর্থ জমা হয়েছে তা দিয়ে কলেজের রং কাম করিয়েছি। পূর্বেও অর্থ কি কাজে ব্যবহৃত হয়েছে তা আমার জানা নেই। এখন তহবিলে অর্থ জমা হলে কলেজের আভ্যন্তরিণ উন্নয়নের কাজে হাত লাগানো হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে