আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:১৯

সরকারি হস্তক্ষেপে নাখোশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা

বিডিটাইমস ডেস্ক
সরকারি হস্তক্ষেপে নাখোশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ সংশোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ট্রাস্টি বোর্ডে সরকারের প্রতিনিধি ঢোকানোর প্রক্রিয়া শুরু করা এবং শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা বলায় ক্ষুব্ধ এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও উদ্যোক্তারা।

তাদের প্রশ্ন তবে কি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আধা-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত হতে যাচ্ছে?

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি আমলারা নানাভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান দেখভাল বা এগুলোর সুষ্ঠু বিকাশে সহায়ক ভূমিকার বদলে নিয়ন্ত্রণের দিকেই তাদের ঝোঁক।

সর্বশেষ ২০১০ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন হয়, যেটির মূল আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির ১২তম বৈঠকে আইনটি সংশোধনে পাঁচ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। গত ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কমিটির ১৩ তম বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও মালিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, এ ধরনের সংশোধনী আনা হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। ফলে কার্যত এগুলো আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ সালে সংশোধনের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় টিউশন ফি নির্ধারণ করে দিয়েছিল। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিষয়টি পাস হয়। কিন্তু উদ্যোক্তাদের দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এ বিষয়টি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করে। তাদের সেই সুপারিশ বহাল রেখে আইনটি পাস হয়।

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এখন প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধি আছেন, যাদের অনেকেই ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত সংশোধিত নতুন আইনের খসড়ায় ট্রাস্টি বোর্ডে সরকারের প্রতিনিধি দেওয়াসহ সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি, শৃঙ্খলা কমিটি, শিক্ষক নিয়োগ কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটিতে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির প্রতিনিধি রাখার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “বিভিন্ন মহল থেকে সংশ্লিষ্ট আইনটি সংশোধনের দাবি উঠেছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশোধনী চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া হবে।”

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আইনে যেসব অসঙ্গতি আছে সেগুলো দূর করার চেষ্টা চলছে। তবে ইউজিসি কেবল সুপারিশ করতে পারে, চূড়ান্ত করার ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো টিউশন ফি নিজেরাই নির্ধারণ করে। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, টিউশন ফি নির্ধারণের আগে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো অভিযোগ উঠেছে-কোনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে গলাকাটা হারে টিউশন ফি আদায় করা হচ্ছে। এ অবস্থায় টিউশন ফি যৌক্তিক করতে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

এ আইন সংশোধন করলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের ইচ্ছামতো ফি আদায় করতে পারবে না। প্রয়োজন ছাড়া ফি বাড়াতে পারবে না। ফলে একই বিষয়ে একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফির ব্যবধান কমে আসবে।

আইন সংশোধনের এই উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারা ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চতুর্থবারের মতো সময় দিয়ে ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিজস্ব ক্যাম্পাসে যারা গেছে তাদের ধন্যবাদ দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে যেগুলো একেবারেই শর্ত মানবে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসরকারি পর্যায়ের উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার থাকলেও সরকার, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাই একবাক্যে শিকার করবেন যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে। তা ছাড়া আগে যেখানে হাতেগোনা দুচারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত শিক্ষা দিতে, এখন ওই সংখ্যা এক ডজনেরও বেশি।

দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯১টি। এগুলোতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

 

 

 

উপরে