আপডেট : ১৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:০৮

শিক্ষকদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষকদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়

স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশন সমিতির ডাকা পূর্ণ কর্মবিরতির কারণে অচল হয়ে পড়েছে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

গত ১১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষকদের এ আন্দোলন শুরু হয়ে এখন চলছে। ক্লাসে-ক্লাসে তালা ঝুলছে। এ নিয়ে সেশন জটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে রোববার (১৭ জানুয়ারি) শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিট আবেদন করেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকাসহ মিডিয়ায় শিক্ষকদের কর্মবিরতির প্রতিবেদন দেখে রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক বলেছেন, ‘সরকার চাইলে এটি সমাধান করতে পারত। কিন্তু সমাধান না করে সরকার উল্টো শিক্ষকদের ক্ষেপাচ্ছেন। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেছেন, জবি শিক্ষক সমিতি আন্দোলনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্লাস পরীক্ষা হবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রবি হোসাইন বলেন, ২০১৫-১৬ সেশনে নতুন ভর্তি হলাম। কিন্তু প্রায় একমাস হলেও এখনো পর্যন্ত ক্লাস করতে পারিনি। শিক্ষকরা নিজেদের স্বার্থে আন্দোলন করছে আর ক্ষতি করছে আমাদের। এ আন্দোলনে ফলে আমাদের আগের ব্যাচের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না যার ফলে আমরা দুই এক ব্যাচ এক হয়ে যাচ্ছি। তাই আমাদের সেশন জটের আশঙ্কাও থাকছে।

শিক্ষকদের এ আন্দোলনে মুখ থুবড়ে পড়েছে শিক্ষাকার্যক্রম। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সরকার ও শিক্ষকদের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা হওয়া উচিত। না হলে তাদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা বলছেন, তাদের দাবি মেনে নিলেই এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে