আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ১৬:১০

সারাজীবন বিএনপি করেও প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য পেলেন আমজাদ হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
সারাজীবন বিএনপি করেও প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য পেলেন আমজাদ হোসেন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত চেনা মুখ গুণী নির্মাতা আমজাদ হোসেন গত রোববার সকালে নিজ বাসভবনে ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এর পর তাকে দ্রুত রাজধানীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হয়। গণমাধ্যমে ঠিকমতো আসেনি তখনও সংবাদটা, তার আগেই জেনে যান দুস্থ এবং নিপীড়িত মানুষের শেষ ভরসারস্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয় প্রধানমন্ত্রীল কার্যালয় থেকে, জানিয়ে দেয়া হয় গুণী পরিচালক আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ছেলে সোহেল আরমান মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই তিনি আইসিইউতে লাইফসাপোর্টে।

বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) এর একজন প্রভাবশালী নেতা আমজাদ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত শুরু থেকেই। বিএনপির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। কিন্তু তার রাজনৈতিক পক্ষ বিবেচনা পায়নি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে। শেখ হাসিনাকে যারা কাছ থেকে চেনেন, তাঁর এই মানবিক দিকটি তাদের অজানা নয়। তিনি কারো রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রাধান্য দেন না সহযোগিতার ক্ষেত্রে। কিছুদিন আগে গণভবনে সংলাপ চলাকালীন সময়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে চান সরাসরি। একইসাথে তাকে জানান, যদি দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়, তিনি (শেখ হাসিনা) যথাসম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন।

পরিবারসূত্রে জানা যায়, গত রোববার গণমাধ্যমে আমজাদ হোসেনকে নিয়ে সংবাদ হয় দেশের শীর্ষ কিছু সংবাদমাধ্যমে, যা চোখ এড়ায়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আর তাই তিনি নিজ থেকে আমজাদ হোসেনের ছেলেদের ডেকে পাঠালেন তার সঙ্গে দেখা করতে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি তুলে ধরে সোহেল আরমান বলেন, ‘আজ সকালে ঘুম ভাঙে প্রধানমন্ত্রীর পিএস খোরশেদ ভাইয়ের ফোনে। তিনি আমাকে বললেন, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চান, আপনারা চলে আসুন। এরপর বিশেষ পাস নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি বাবার সব দায়িত্ব নিয়েছেন। যদি বিদেশে নিয়ে যাওয়া লাগে সেটিও তিনি ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।’

এর পর প্রধানমন্ত্রী বাবার বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথাও জিজ্ঞেস করেন। বর্ষীয়ান এই চলচ্চিত্র পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে