আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:৩৪

কেমন আছেন সালমান শাহ'র স্ত্রী সামিরা?

অনলাইন ডেস্ক
কেমন আছেন সালমান শাহ'র স্ত্রী সামিরা?

প্রয়াত অভিনেতা সালমান শাহ’র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় তার স্ত্রী সামিরা। রহস্যময়ী এই নারীও সালমানের মতোই গেঁথে আছেন বাংলাদেশি সিনেমাপ্রেমীদের মনে। তিনিও জড়িয়ে আছে সালমান ভক্তদের কাছে ভালো-মন্দ অনুভূতির মিশ্রণে।

অনেকেই জানতে চান কী করেন, কেমন আছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা? অনেকেই মনে করেন, ঢালিউডের শাহরুখ-গৌরী হতে পারতেন সালমান-সামিরা। কেউ কেউ সামিরার প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকাতেই আছেন সামিরা। তিন সন্তানের জননী তিনি। ছেলে থাকে মালয়েশিয়া আর মেয়ে দুটি ঢাকাতেই একটি স্কুলে পড়াশোনা করে। সালমানের মৃত্যুর কয়েক বছর পরই তিনি বিয়ে করেছিলেন মুস্তাক ওয়াইজ নামে এক ব্যবসায়ীকে। সেও সালমানের ছোটবেলার বন্ধু ছিল। তাকে নিয়ে থাইল্যান্ডে ছিলেন দীর্ঘদিন। সেখানে সামিরার ছোট দুই বোন ফাহরিয়া হক ও হুনায়জা শেখ তাদের স্বামী সন্তান নিয়ে বাস করেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশে খুব একটা আসেন না। আসলেও এড়িয়ে চলেন মিডিয়া বা কোলাহল। একান্তই নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করেন। সালমানের মৃত্যুর পর থেকেই নিজেকে সবকিছুর আড়ালে নিয়ে যান তিনি।

কিন্তু বরাবরের মতোই চুপ ছিলেন সালমানের স্ত্রী সামিরা। সালমান মৃত্যুর দীর্ঘ ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও কখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি তিনি। গতবছর এক সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুলেন তিনি। সেখানে বলেন, ‘ইমনের (সালমান শাহ) কথা ভেবেই আমি কোথাও মুখ খুলিনি। আমাকে যেসব অপবাদ দেয়া হয়েছে সেসব নিয়ে রিঅ্যাক্ট করিনি। কারণ আমার যেখানে কথা বলার দরকার সেখানে আমি কথা বলেছি। বারবার তদন্ত হয়েছে সালমানের মৃত্যু রহস্য নিয়ে। আমাকে তলব করা হয়েছে। আমি গোয়েন্দা, পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে জবানবন্দি দিয়েছি। যখন যে যা জিজ্ঞেস করেছে আমি তার জবাব দিয়েছি। আমার যেখানে যেখানে যেটা ক্লিয়ার করার আমি করে যাচ্ছি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ক্লিয়ার করেই যাচ্ছি। কিন্তু আমি কি বাঁচবো না? আর কত? আমি জানি ইমন আত্মহত্যাই করেছে। সেদিন আমাদের বাসায় বাইরে থেকে কেউ আসেনি, কেউ বেরও হয়নি। মানসিক প্রেসার ছিল ইমনের। কিন্তু এমন কিছু করে বসবে ভাবনাতে ছিল না।’

বিয়ে নিয়ে বলেন, ‘তিনটা বছর একা একা কাটালাম। একটা সময় আমি ভেবেছি বিদেশ চলে যাব পড়াশোনা করতে। সেটা আর হয়নি। আমি ইমনের মৃত্যু মানতে পারছিলাম না। তার স্মৃতি নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাইলাম। তখন খুব প্রয়োজন বোধ করলাম যদি একটি সন্তান আমাদের থাকত! একটা সময় ইমনেরই বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজ আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল। তাকে ফিরিয়ে দেই। কিন্তু আমার ও ওয়াইজের পরিবার অনেক বুঝালো। তবে সে সময় নতুন করে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভালো করেছি। হয়তো এজন্যই আজ বেঁচে আছি। ’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে