আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৮:৫৪

নাম ফোটাতে যারা বেছে নিয়েছেন 'যৌনতা'

অনলাইন ডেস্ক
নাম ফোটাতে যারা বেছে নিয়েছেন 'যৌনতা'
`বাংলাদেশের সানি লিওনের সাথে পরিচিত হও` ঠিক এমনভাবেই নিজ দেশের পাঠকদের নিকট নায়লা নাঈমকে পরিচয় করিয়ে দিল ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়া। গণমাধ্যমটি বাংলাদেশের তথাকথিত মডেল নায়লা নাঈমকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন করে। প্রতিবেদনে নায়লা নাঈমকে বাংলাদেশি সানি লিওন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়, `নায়লাকে বাংলাদেশের সানি লিওন, নিজ দেশে তাকে সানি লিওন বলে ডাকা হয়।` এ নিয়ে নায়লা গণমাধ্যমে জানায়, ‘আমাকে সানি লিওনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এটাতে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’ তিনি তো করবেনই নিজেকে পর্নোস্টারের সঙ্গে তুলনা করায়। হলিউড আর বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশি মডেলরাও বেশ সাহসি হয়ে উঠছে পোশাক পরিচ্ছেদ নির্বাচনে। এখানে আসলে তাদের ঠিক মডেল পরিচয় দেয়াটাও ভুল। তাঁদের পরিচয় খুঁজতে হবে। পোষাক- পরিচ্ছদে তাঁরা যেমন রাতারাতি আলোচিত হচ্ছেন। আবার এ নিয়ে কম সমালোচিতও হচ্ছেন না। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য কী? এমন কিছু নারী শোবিজে ঘোরেন। যারা আসলে মডেল, অভিনয়- কোন মাধ্যমেই দক্ষতা দেখাতে পারেন না। তাদের আলোচনায় থাকার একমাত্র উপায় খোলামেলা হওয়া। আর এই খোলামেলা তো নাটক-সিনেমার প্ল্যাটফর্মে খুব একটা হতে পারে না। তখন তারা বেছে নিয়েছে স্যোশাল মিডিয়াকে। সেখানে তো সেন্সর নেই। বরং তাদের উষ্ণতা পেয়ে এক শ্রেনীর মানুষ তাদের ফলোও করে। আর এর মাধ্যমে তারা হয়ে যায় স্যোশাল মিডিয়া স্টার, ভাইরাল। আর এরই বদৌলতে হিট কামানোর জন্য পরিচালকরা তাদের বেছে নেয় কাজে। আসলে আমরা কোথায় অবস্থান করছি? একটা শ্রেনীর মধ্যে হয়তো ধারণাই হয়ে গেছে শোবিজে কাজ করলে আমার খোলামেলা হতে হবে। প্রথমে এরা আলোচনায় উঠে আসেন নিজেদের ফেসবুকের মাধ্যমে খোলামেলা ছবি আপলোড করে। সাহসি পোশাকে ক্যামেরার সামনেও উপস্থিত হতে দ্বিধা করছেন না। উষ্ণতা ছড়াতে এক টাইপের পরিচালকরাও তাঁদের দরজায় কড়া নাড়ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই খোলামেলা ভিডিও, ফটোশ্যুট করে এরই মাঝে তুমুল হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পেশায় দন্ত-চিকিৎসক নায়লা পাঁচ বছর ধরে মডেলিং জগতের সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিজ্ঞাপনচিত্র ও মিউজিক ভিডিওতেও দেখা গেছে। তন্ময় তানসেন পরিচালিত ‘রান আউট’ ছবির একটি আইটেম গানে অংশ নিয়েছেন নায়লা। এসব কিছুর পেছনেই তার খোলামেলা হওয়া। তার মত এতো খোলামেলা ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার সাহস অন্য মডেলদের হয়নি বললেই চলে। মডেলিং এ তার এই সাহসী উপস্থাপন একদিকে যেমন সমালোচনা কুড়িয়েছে, তেমনি বেড়েছে ফলোয়ারও। জ্যাকুলিন মিথিলাও এ পথের যাত্রী। যদিও তিনি আত্নহত্যা করেছেন গত বছর। ফেসবুকে অশ্লীল ছবি আপলোড আর খোলামেলাভাবে লাইভে এসেই দর্শকের আকর্ষণে চলে আসে। তিনি অবশ্য নিজেই নিজেকে বাংলাদেশের সানি লিয়ন দাবি করতেন। এর সুবাধে বাংলা সিনেমাতেও আইটেম গান করার সুযোগ পেয়েছেন। র‌্যাম্পের তৃণও খোলামেলা বলে পরিচিত। ব্রাজিলের পতাকা গায়ে জড়িয়ে বেশ খোলামেলা ভাবে ছবি দিয়ে একবার বেশ সমলোচনায় পড়েছিলেন। কিন্তু সেসবের জবাব দিতে থোরাই কেয়ার। ফেসবুকে ঢু মারলেই রেশমি অ্যলনের খোলামেলা ছবি চোখে পড়ে। তার রগরগে পোশাককে আন্তর্জাতিক মানের বলে মনে করছেন তিনি! তিনি ১০ টির মতো সিনেমাত্রে অভিনয় করেছেন। যদিও কোনটাই প্রথম সারির নয়। শুধু যে অখ্যাতরা তা নয়। অল্প পরিচিতরাও আজকাল হাটছে সে পথে। পিয়া বিপাশা মডেলিং, নাটক, সিনেমা সব মাধ্যমেই কাজ করেছেন। কোনখানেই তিনি স্থায়ী হতে পারেননি। তিনিও বরাবরই খোলামেলা হতে বেশ পছন্দ করে। ছোটপর্দাতেও রয়েছে তার অশ্লীলতা। অপ্রয়োজনীয়ভাবে শরীর প্রদর্শন। স্যোশাল মিডিয়া ফেসবুকে তো নিয়মিত এমন ছবি আপলোড করেই। অভিনেত্রী ভাবনার বিভিন্ন সময়ে খোলামেলা ছবি পাওয়া যায় ফেসবুকে। বিভিন্ন নাটকে কোন কারণ ছাড়াই অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দিয়ে তিনি দর্শক ধরে রাখতে চান। ওয়েব সিরিজের নামে যে নতুন অশ্লীলতা শুরু হয়েছে শিল্প মাধ্যমে। সেখানে নায়িকা হয়ে আধিপত্য বিস্তার করছে স্পর্শিয়া ও টয়া। কুরুচিপূর্ণ অশ্লীলতা দিয়ে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। ঢাকাই সিনেমায় যেমনটা হয়েছে ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত। এ সময় অশ্লীল সিনেমার নায়িকা হিসেবে খ্যাত মুনমুন, ময়ূরী, পলি, ঝুমকাসহ আরও অনেকে। তাদের অস্তীত্ব মুছে গেছে ঢাকাই সিনেমা থেকে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, বর্তমান প্রজন্মের কয়েকজন অভিনেত্রী দ্রুত নিজেকে টাইমলাইনে নিয়ে আসার জন্য বেশ খোলামেলা পোশাকে নিজেদের উপস্থাপন করছেন। তারা হয়তো জানে না যে, অশ্লীলতা আমাদের সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে একেবারেই বেমানান, এদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা কোনোদিনই অশ্লীলতাকে সমর্থন করেননি। হলিউড কিংবা বলিউডে অনেক কিছু সহজ। কারণ সেসব দেশের সংস্কৃতি তেমণ। কলকতায় নানা সময়ে খোলামেলা হতে দেখা গেছে পাওলি দামের মতো নায়িকাদের। কিন্তু এই খোলামেলা হওয়াটাই তাদের একমাত্র যোগ্যতা ছিল না। তারা ভালো অভিনেত্রীও। কিন্তু বাংলাদেশের এক শ্রেনীর মডেল ও নায়িকারা অশ্লীলতাকে পুঁজি করে ছড়িয়ে পড়ছে। তারা এটাই সংস্কৃতি তৈরী করতে চাচ্ছে বাংলাদেশে।
উপরে