আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:২১

‘নতুন মুখের সন্ধান’ করে কী করবে বেকার এফডিসি?

অনলাইন ডেস্ক
‘নতুন মুখের সন্ধান’ করে কী করবে বেকার এফডিসি?

একদিকে আধুনিক নির্মাণশৈলী, মৌলিক গল্পের অভাব, সিন্ডিকেট ও ফটকা প্রযোজকদের পদচারণা ঘিরে রেখেছে সমগ্র সিনেপাড়া। অন্যদিকে চলচ্চিত্রের সংকট কাটাতে ঢাকাই ছবির জন্য তারকা খোঁজার সেই পুরনো কৌশল সামনে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও এফডিসি।

শিল্পী বাছাইয়ের নতুন রিয়ালিটি শো ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের বর্ণাঢ্য আয়োজন হলো। দেশের চলচ্চিত্রে শিল্পী সংকট দূর করতে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির উদ্যোগে আবার শুরু হচ্ছে এই প্রতিযোগিতা। কিন্তু এই প্রতিযোগিতা থেকে কী পাবো?

তাঁরা কী বলেন?

আসলে কতটা সমস্যা দূর হবে? বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ব্যস্ত নায়ক শাকিব খান। তিনি বলেন,‘ নতুন মুখের বিষয়টা নিয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। তবে এর আগে চলচ্চিত্রের মানুষের রেষারেষিটা কমানো বেশি দরকার। হতে পারে তারা হয়তো আমার মতো আরেকটি শাকিব খান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তবে এখনকার দশর্ক হলো মূল বিষয়। তারা যাকে চাইবেন তিনিই কাজ করবেন ইন্ডাস্ট্রিতে। আর ইন্ডাস্ট্রির সেই জায়গা নেই যে একটা নতুন মুখ তৈরী করে তার উপর নির্ভর করে সিনেমা নির্মাণ সম্ভব। তার জন্য যে ডিরেক্টর দরকার। তার সবচেয়ে বেশি সংকট এখন ইন্ডাস্ট্রিতে। নতুনরা এসে কি করবে? দুদিন পর হয়তো ছোটপর্দা বা অন্য কোথাও চলে যাবে। তাছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে আমি যেহেতু জানি না। মন্তব্য করাও ঠিক না। তবে সবার কাছ থেকে শুনে যা মনে করছি, আগে ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো মানের পরিচালক তৈরী করেন।’ 

পরিচালক মালেক আফসারী বলেন, ‘আগে যা হয়েছে সে হিসেব করে এত টাকা খরচ করে নতুন মুখের আয়োজন করে কোন লাভ নেই। বতর্মান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখন তো ফেসবুকের যুগ। পরিচালকদের ফেসবুক ইনবক্সে প্রতিদিন একাধিক নতুন মুখ অভিনয়ের সুযোগ চান। সুতরাং কেউ চাইলেই সেখান থেকে নতুন মুখ নিয়ে কাজ করতে পারেন। তাছাড়া নতুন মুখ এনে কি লাভ হবে? তাদেরকে দিয়ে ছবি করানোর মতো প্রোডিউসার কোথায়? যদি লগ্নিকারীই না থাকে তাহলে নতুন শিল্পী এনে তাদের কাজে লাগাবে কীভাবে? নতুন মুখ যারা তৈরী করছে। তারা আগে সিনেমা নির্মাণ নিয়ে ভাবুক।’

চার বছর ধরে চলচ্চিত্র জগতে আছে আইরিন। তিনি বলেন,‘ চলচ্চিত্রে নায়ক-নায়িকা সংকট নেই। অনেক নায়ক-নায়িকা আছেন। তাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। শিল্পী নয়, আমাদের সংকট প্রযোজক ও ছবি নির্মাণের মানসিকতার। এই দুই লেভেলে ঘাটতি আছে। ভালো কোয়ালিটির ছবি হতে হবে। ওই ছবিগুলো ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচিয়ে রাখবে। যত শিল্পী আছেন, তারা যদি বছরে তিন-চারটি ছবি করেন তবে শিল্পী সংকট কোথায়? আমরা সিনেমায় অভিনয় করার জন্য এসেছি। আমরা কিন্তু এরকম কোন প্রতিযোগিতা থেকেই এসেছি। কিন্তু আমাদের কাজ নেই। আমরা মডেলিং করে জীবন যাপন করি। আর নতুন করে এসব করে কি হবে তারাই ভালো জানে।’ 

বাস্তবতা কী?

হঠাৎ আবার নতুন মুখ কেন? আমাদের চলচ্চিত্রে কী শিল্পীর অভাব পড়েছে? অনেকে চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ না পেয়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এমন অনেকে এখনো আছে যারা চলচ্চিত্রকে ভালবেসে চলচ্চিত্র পাড়ায় ঘোরাফিরা করেন। তাদের কথা কে ভাবছে? পুরনোদের কথা না ভেবে আবার কেন নতুন মুখ খোঁজার এই উদ্যোগ? পুরনো শিল্পীদের কি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পেরেছি? ধরা যাক, ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এক ঝাক নতুন তারকা খুঁজে বের করা গেল। তাহলেই কী ইন্ডাস্ট্রি বদলে যাবে? যাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। তাদের গাইড করবে কে? এরকম কত প্রশ্ন এখন এফডিসিতে ঘুরছে।

নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতা কিন্তু এবারই প্রথম নয়। একটা সময়ের শিল্পীরা সমৃদ্ধ করেছে ঠিক আছে। তখন তো লোহা আসলে এফডিসিতে পরিচালকদের গুনে সোনা হয়ে যেত। এর আগে একটি টিভি চ্যানেলের উদ্যোগে ‘সুপার হিরো ও সুপার হিরোইন’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নীলয় ও শম্পা হাসনাইন সহ বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে আমরা পেয়েছিলাম। তাদের খোঁজ জানেন? একমাত্র নিলয়ের কিছু সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। তিনি এখন ছোটপর্দায় আসন গেড়েছেন। শম্পা হাসনাইনকে চলচ্চিত্রের পর্দায় তেমন দেখা যায়নি। তাদেরকে কোন বড় বাজেটের সিনেমায় দেখা যায়নি। তাহলে তাদের বের করা হয়েছিল কেন?

আর অভাবটা যে শুধু প্রযোজক, পরিচালক ও স্ক্রীপ্টের তা নয়, একটি ভালো চলচ্চিত্রের অন্যান্য প্রয়োজন মিটানোর জন্য এখনও বিদেশে যেতে হয়। চলচ্চিত্রের শব্দ ধারণ ব্যবস্থা থেকে ক্যামেরা। কোন কিছুরই ঠিক নেই। এমন অবস্থায় নতুন মুখ এনে আমরা আসলে কি করব?

ভাবছেন ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের বিরোধীতা? সেটা ভুল ভাবনা। নতুনদের জন্য আমরা প্রস্তুত? পেছনের মানুষরা ঠিক না হলে সামনের মানুষরা কখনোই তাদের শো করতে পারবে না। নতুনরা এখানে এসে চলচ্চিত্রের দৈন্যদশা, বিভাজন, পারস্পারিক রেষারেষি ছাড়া কিছুই পাবে না। বলতে খারাপ লাগছে, এই অনুষ্ঠান যারা নেচে গেয়ে মাত করছেন। তাদের হাতে যেমন সিনেমা নেই বললেই চলে। তেমনি ক্যারিয়ারেও নেই খুব ভালো সিনেমা। দোষটা অবশ্যই তাদের নয়। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে