আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০১৮ ২১:১০

তারা যখন হতাশ থাকেন..

অনলাইন ডেস্ক
তারা যখন হতাশ থাকেন..

হতাশা কিংবা মানসিক চাপ শুধু সাধারণ মানুষই নয়, তারকারাও হারিয়ে যান। অনেকের নিজের অন্ধকার সময়টাকে পেরিয়ে সামনে আসার শক্তি খুঁজে পায়না, অনেকে আবার নিজের মনের শক্তি দিয়ে হতাশা-সংশয় কাটিয়ে ফিরে আসেন। খোঁজা হল, তারকারা কীভাবে সেই সময়টা কাটিয়ে উঠেন। শুরু করেন নতুন জীবন…

ববিতা

আমার সকল হতাশার আশা আমার একমাত্র ছেলে অনিক। একা থাকি, এত মানুষের ভীড়ে থাকতাম। মাঝেমধ্যে তো খারাপ লাগেই।  লোনলিনেসের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে নিয়েছি। চারপাশে আলাদা একটা দুনিয়া বানিয়ে রেখেছি। সকাল-বিকাল ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। আমার ময়না ও তোতা দুটি পাখি আছে। ওদের সঙ্গে কথা বলি। ড্রয়িংরুমের লাগোয়া বারান্দায় খাঁচাবন্দি দুই পাখির তুমুল ঝগড়া দেখি। অবাক হবে, ময়না বলে, ‘অনিক কই? অনিক কই?’ তোতা বলবে, ‘এইটা এই দিকে দে, ওই এই দিকে আয়।’ একবার-দুবার না, টানা বলে যাবে। মনে হবে দুজন নারী-পুরুষের মধ্যে কথার পিঠে কথার প্রতিযোগিতা চলছে। অবাক করার বিষয়, ময়নার কণ্ঠটা অবিকল আমার।

এখন সময় কাটে যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠন ডিসিআইআইয়ের (ডিস্ট্রেসড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল) শুভেচ্ছাদূত আমি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করি। এটা করে খুবই আনন্দ পাই। ওদের পড়ালেখা করানোর ব্যবস্থা করে দেই। এর বাইরে সারাক্ষণ কথা বলি ছেলের সঙ্গে। কানাডা যাই কিছুদিন পর পরই। ঈদের আগেই ওর কাছে যেতে চেয়েছিলাম। জাতীয় পুরস্কারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ওভাবে বললে জহির ভাই (জহির রায়হান) যখন চলে গেল, তখন আমরা একদম একা হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিলো আমার ক্যারিয়ার আর সামনে আগাবে না। কিন্তু আগাচ্ছি তো। আর জহির ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার সাহেব হারিয়ে গেলেই অন্যমনস্ক হয়ে যায়। পাগলের মতো এদিক ওদিক ছুটতো। ধার্মিক হয়ে গিয়েছিলেন। জীবনে এমন অনেক খারাপ সময় কেটেছে। অনিকের বাবা চলে যাওয়াও এক হতাশা। সবটা তো কাটিয়ে উঠেছি।

শাকিব খান

যেকোনো ভিলেনকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন শাকিব খান। সেই শাকিব খানের কী হতাশায় জীবন কাটে না। সবসময় কী তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয় হতাশাকে? ‘ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টা সবচেয়ে খারাপ গেছে। পছন্দমতো , মনমতো হচ্ছিলো না অনেককিছু। ভাগ্যিস আমাকে কখনো নেশা আটকে ধরতে পারেনি। তাহলে হয়তো আজকের অবস্থানে আসতে পারতাম না। হতাশায় নিজেকে নিজের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি অনেকবার। নিজের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা অনেক কঠিন একটি কাজ। নিজের মধ্যে দুশ্চিন্তা ভর করলে সবকিছু ছেড়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাই। প্রকৃতিতে নিজেকে ছেড়ে দেন, দিন কয়েকের এমন বিরতিই আবারও শক্তি যোগায়, কাজে মন টেনে আনে।

মাহিয়া মাহি

হতাশা তো কত আসে। জীবনে ছোট বড় ধাক্কা আসে। সেই ধাক্কা সামলে সামনে আগাই। কিন্তু একটা হতাশা কখনোই আমাকে ছেড়ে যায়নি। একটি দূর্ঘটনা আমাকে সারাজীবন কাঁদাচ্ছে। তখন আমি চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী। রুপালি নামে স্কুলে এক মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব হলো। ও আমার এত ভালো বান্ধবী ছিল যে আমি কোন কারণে ক্লাস ফাইভে দুই বছর পড়ি। ও আমার জন্য ড্রপ দিয়েছিল। ও কারো সঙ্গে মিশলে আমার খুব রাগ লাগতো। উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হলাম আমরা। ক্লাস সিক্সের ফাইনাল পরীক্ষার আগের ঘটনা। হঠাৎ একদিন গিয়ে দেখি, আরেকটি মেয়ের সঙ্গে ও চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। আমি রেগে চলে এলাম। ও আসছিল কিন্তু আমি পাত্তা দেইনি। রুপা আম্মুর মোবাইলে টানা দুইদিন কল দিয়েছে। মেসেজ করেছে কিন্তু আমি তার উত্তর দেইনি। পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখি ও নেই। আমি ভেবেছিলাম হলে গিয়ে ওকে আচ্ছামতো বকে সব মিটমাট করে নিবো। এক বান্ধবী বললো রুপা মারা গেছে। আমি আর কিছু লিখতে পারলাম না। রুপাদের বাড়িতে গেলাম। উত্তরায় ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখি শত শত মানুষ। গিয়ে দেখি ওর রুমে নিথর দেহে পড়ে আছে। ওর মা জানাল, সেদিন সকালেই সে আত্মহত্যা করেছে। সেদিন মনে পড়লো আগের দিন ও ম্যাসেজ করছিল তুই যদি কথা না বলিস আমি আত্নহত্যা করবো। আজও একটি দিনের জন্যও রুপার কথা ভুলতে পারিনি। সবসময় অপরাধবোধে ভুগি। এটা আমার ভুল , হতাশা , অপরাধ যাই বলেন না কেন। আমি সবকিছু মাথা পেতে নিব। ওর পরিবারকেও জানিয়েছিলাম। তারা আমাকে মাফ করে দিয়েছে। কিন্তু আমি আমাকে মাফ করতে পারিনি। এখনো উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে থাকেন রুপার মা-বাবা, নিয়মিত যোগাযোগ রাখি তাঁদের সঙ্গে। স্থানীয়দের অনেকেই জানেন এই ঘটনার কথা।

মৌসুমী হামিদ

আমার প্রথম ব্রেকআপের পর সময়টা বেশ খারাপ গেছে। অনেক বেশি সিরিয়াস ছিলাম। ২০১৩-তে ব্রেকআপ হয়। খুব বাজেভাবে সম্পর্কটা শেষ হয়েছে। ও এমন কিছু কাজ করেছে, ব্রেকআপ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। প্রথম দিকে ও আমার বেশ ভালো টেক কেয়ার করত। যে কারণে ওর প্রতারণার বিষয়টা আমি বুঝতে পারিনি কখনো। পরে একদিন হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলাম। ও সম্পর্কের ব্যাপারে সৎ ছিল না। অন্য মেয়েদের সঙ্গে আমার অজান্তে যোগাযোগ করত। একপর্যায়ে তাদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এর একটা কারণও আছে, ২০১৩ সালে আমি একটা দুর্ঘটনায় পড়ি। তখনই মূল সমস্যাটা শুরু হয়। ও হয়তো ভেবেছে, আমি শেষ হয়ে যাব। আমার বেশকিছু জায়গা মারাত্নকভাবে ফ্রাকচার হয়। ও ভেবেছিল ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার—কোনো মাধ্যমেই ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। আমার সঙ্গে যোগাযোগ কমাতে থাকে। আমিও খবর পাই, অন্য মেয়েদের সঙ্গে ওর সম্পর্কের খুঁটিনাটি। একটা সময় কথাগুলো আর নিজের কাছে রাখতে পারিনি। সরাসরি ওকে জিজ্ঞেস করি। ও কোনো উত্তর দিতে পারেনি। কারণ ওর কাছে আসলে কোনো উত্তর ছিল না। সেদিনই ওর সঙ্গে আমার শেষ কথা।

ভেঙ্গে পড়েছিলাম সেই সময়। নিজেকে নিজেই বোঝাতে থাকি। উপরওয়ালার ইচ্ছে আমি সুস্থ হতে থাকি। অভিনয়েও নিয়মিত হতে পারি। আর যখন অভিনয়ে নিয়মিত হই। তখন তো সবকিছু ভুলে যাই।

উপরে