আপডেট : ২৩ মে, ২০১৮ ১৯:৫৫

প্রয়াত তাজিনের কাছে কেন ক্ষমা চাইছেন শ্রাবন্তী?

অনলাইন ডেস্ক
প্রয়াত তাজিনের কাছে কেন ক্ষমা চাইছেন শ্রাবন্তী?

আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি বুঝিনি তোমার মূল্য। আমাকে মাফ করে দাও তাজিন আপু- কথা গুলো ইপ্সিতা শবনম শ্রাবন্তীর। আর এই ক্ষমা প্রার্থনা প্রয়াত তাজিন আহমেদের নিকট।

কিন্তু কেন ক্ষমা চাইছেন তাজিনের কাছে। তাজিনের শেষ দিন গুলো কেটেছে বড্ড একাকীত্বে। কে জানতো তার মনের অবস্থা!

গত বছরের মে মাসের কথা। তাজিন ফেসবুকে মেসেজ দেন শ্রাবন্তীকে। শ্রাবণ কেমন আছিস তুইরে? একটা যোগাযোগও তো করিস না মাঝে মধ্যে যা একটু ছবিতে বা স্ট্যাটাসে লাইক আর কমেন্ট দিস ব্যাস! আর কোনো যোগাযোগ করিস না কেন রে...।

এরপর মেসেঞ্জারে ফোনও দিয়েছিলেন শ্রাবন্তীকে। সেই ফোনটিও শ্রাবন্তী ধরেননি। হয়তো এটাই এখন অনুশোচনায় ভোগাচ্ছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই পুরো বিষয়টি শেয়ার করে মাফ চেয়েছেন প্রবাসী এই অভিনেত্রী।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর ৪ টা ৩৪ মিনিটে মারা যান তাজিন আহমেদ।

শেষ কয়েক বছর অবর্ণনীয় অর্থকষ্ট ও মানসিক বিষাদে ভুগছিলেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। তাজিনের মৃত্যুর পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ তথ্য জানান নির্মাতা মাহাদী হাসান সোমেন। তিনি তার স্ট্যাটাসে জানান, পাঁচশ টাকার অভাবে মায়ের জন্য খাবার কিনেও পাঠাতে পারতেন না তাজিন। 

সোমেন তার স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘তাজিন আহমেদ। গত ৩টা বছর ধরে কি অমানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছি তা অব্যক্ত। আজ কত কত মানুষ ঐ মৃত মুখটা দেখতে আসছেন, কিন্তু জীবিত অবস্থায় যদি একবারের জন্যও এই মানুষগুলো পাশে দাঁড়াতো তাহলে অন্তত এভাবে নীরবে চলে যেতে হত না। পরপর ২টা চাকরি চলে গেল, কেউ ঐভাবে কাজেও ডাকতো না, মাঝে মাঝে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার জন্য কত জনের কাছে হাত পেতেছেন, এই আমি তার সাক্ষী।

৫০০ টাকা হলে মায়ের জন্য কারাগারে খাবার পাঠানো যায়, সেই টাকাটাও থাকত না মাঝে মাঝে এই আমি তার সাক্ষী। আমাকে পাঠানো সর্বশেষ মেসেজ এখন কী করবা? আমি বুঝে উঠতে পারিনি। যেতে যেতেই অভিমানে বিদায়...।’

অন্যদিকে নির্মাতা অনিমেষ আইচও তার একটি স্ট্যাটাসে তাজিনের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরেন। অনিমেষ আইচ লিখেন, ‘মরে গেলেই আহা...উহু! বেঁচে থাকতে কেউ পুছে না। ঈদ নাটক মানেই সব টাকা দিয়ে একটা মোশাররফ করিম, জাহিদ হাসান, অপূর্ব এবং স্টার কাস্ট কিনতে হবে। মরে গিয়ে বেঁচে গেলেন তাজিন। 
একজন শিল্পির অপমৃত্যুর জন্য আমরাই দায়ী। সামনে অকালমৃত্যুর দীর্ঘ সারি।’

তাজিনের কাছের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর দুয়েক ধরে অর্থনৈতিকভাবে খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে ছিলেন তিনি। না ছিল চাকরি, না ছিল শুটিং। ধারণা করা হচ্ছে আর্থিক সঙ্কট, জেলবন্দী মা, স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব, হাতে কাজ না থাকা ইস্যুতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তাজিন।  

২২ মে, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের রিজেন্ট হাসপাতালে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তাজিন। এরপর থেকেই এই অভিনেত্রীর জীবনের অর্থনৈতিক টানাপড়নের বিষয়টি তার আশপাশে থাকা পরিচিত মানুষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন পোস্টে প্রকাশ পায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে