আপডেট : ২০ মে, ২০১৮ ১৫:১৫

অশ্লীলতা ছুঁয়েছিল তাঁদেরও!

অনলাইন ডেস্ক
অশ্লীলতা ছুঁয়েছিল তাঁদেরও!

‘অশ্লীল নয়, কমার্শিয়াল কাজ করেছি’ মন্তব্য পলির। এই কমার্শিয়াল কাজ শুধু পলিরাই করেননি। অশ্লীলতায় ডুবে গিয়েছিল পুরো বাংলা চলচ্চিত্র। সে অশ্লীলতার জল ছুঁয়েছিল আমাদের অনেক তারকা শিল্পীকেও। যেমন মান্না- মৌসুমী। মান্নার যেমন আছে ‘রাজা’,‘মরন কামর‘,‘ফায়ার’র মতো, কমপক্ষে ২০ টি সিনেমা অশ্লীল তকমা পাওয়া। তেমনি মৌসুমীর ক্যারিয়ারে আছে ‘বউয়ের সম্মান’,‘বিগ বস’,‘মেজর সাহেব’র মতো অসংখ্য সিনেমা। দুজনে জুটি হয়ে এমন বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁদের অবদান অস্বীকার করার কিছু নেই। কিন্তু বহু অশ্লীল সিনেমাতেও তাঁরা অভিনয় করেছেন। হয়তো তারা এতটা বেপরোয়া হয়ে অশ্লীলতা করেননি। কিছুটা সংযত ছিলেন। কিন্তু এমন অনেক উদাহরণ আছে যেখানে তাঁদের সহশিল্পীরা চুরান্ত লেভেলের খোলামেলা হয়েছেন। তাঁরা কি সেসব খবর রাখেননি? কোন প্রতিবাদ করেছেন? যখন প্রতিবাদ করেছেন। তখন সরকার থেকেই হস্তক্ষেপ নিয়েছে। তাঁদের অর্থ প্রতিপ্রত্তির এতটা দরকার ছিল যে এসব সিনেমায় অভিনয় করবেন?

শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ূন ফরিদীর ক্যারিয়ারে আছে ‘রাঙা বউ’,‘প্রবেশ নিষেধ’র মতো সিনেমা। বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান সুপাস্টার শাকিব খানের আছে ‘রুখে দাঁড়াও’,‘নগ্ন হামলা’, ‘খুনী শিকদার’,‘জাত শত্রু’, ‘মরণ নিশান’র মতো ছবি। আমিন খানের আছে ‘হীরা চুন্নি পান্না’,‘নিষিদ্ধ নারী’,‘কাটা রাইফেল’।  

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ মুনমুন ও ময়ূরীর পরিচিতি বেড়ে গেল। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ম্যাডাম ফুলি-খ্যাত নায়ক আলেকজেন্ডার বোও পা বাড়ালেন অশ্লীলতার পথে। মান্নাও ছিলেন। রুবেলের উপস্থিতিও ছিল দেখার মতো। রুবেল অভিনীত ও পরিচালিত অনেক ছবিই ছিল অশ্লীলতা পূর্ণ। রিয়াজ-ফেরদৌসের উপস্থিতি খানিকটা কমে গেল। তবে হঠাৎ হঠাৎ দেখাও যেত। অমিত হাসান প্রধান সারিতে ঢুকে গেলেন। নায়িকাদের মধ্যে আলোচনায় এলেন পলি, মনিকা। এরা মূলত গল্পের ব্যাকআপ হিসেবে থাকতেন। ওদিকে ছবির যাবতীয় অশ্লীল কাজ-কারবার করত সাইড নায়ক-নায়িকারা। ডন, মেহেদি, সোহেল, আসিফ ইকবাল, আবরাজ খান, শিখা, ঝর্ণা, শাপলা, শায়লা ও নাম জানা-অজানা আরও অনেকে।

নব্বই দশকের নায়করা অশ্লীল যুগে উপস্থিত থাকলেও নায়িকাদের উপস্থিতি অনেকটা কম ছিল। পুর্ণিমা ও শাবনূর মান্নার সাথে কিছু ছবি করেন এবং ছবিগুলো বেশ সংযত ছিল। রুবেল ও মান্নার সঙ্গে জুটি বেঁধে কিছু ছবিতে অভিনয় করেন পপি। তিনিও যথেষ্ঠ খোলামেলা ছিলেন। দিলদারের সঙ্গের জনপ্রিয় জুটি, নব্বই দশকের নিয়মিত ও পরিচিত মুখ নাসরিন ছিল অশ্লীল যুগের অন্যতম তারকা শিল্পী। প্রায় সকল ছবিতে তাঁর উপস্থিতি থাকত।

আশ্চর্য্য হলেও সত্য, শাবানার প্রযোজনার ছবিতেও ছিলো এমন সুড়সুরি। `স্বামী কেন আসামী’  এবং `মেয়েরাও মানুষ’ ছবি দুটি প্রযোজনা করেছেন শাবানা। সেসব ছবিতে ওপার বাংলার ঋতুপর্ণা এমন দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। একটা সময়ে তাকে বাংলাদেশে ডেকে এমন অশ্লীলতা করা হত। ‘লাভ ইন থাইল্যান্ড’,‘পালটা হামলা’ ছবিতেও ঋতুপর্ণা ছিলেন খুল্লাম খুল্লা।

মিশা সওদাগরও সমানতালে অশ্লীল সিনেমা করেছেন। ডন, কাবিলা কিংবা ডিপজলরা তো ছিলেনই। মিজু আহমেদের অশ্লীল খিস্তি কেউ ভুলেননি।

বিডিটাইমস৩৬৫/জামি

উপরে