আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:১৬

আমার কবরটাও যদি বারী ভাইয়ের পাশে হতো...!

অনলাইন ডেস্ক
আমার কবরটাও যদি বারী ভাইয়ের পাশে হতো...!

‘মনের দুঃখ মনে রইল রে, বুঝল না রে সোনার চান, চন্দ্র সূর্য যতো বড় আমার দুঃখ তার সমান।’— বারী সিদ্দিকীর গাওয়া এই গান শুনে কেঁদেছেন লাখ লাখ মানুষ। নন্দিত এই শিল্পীর মৃত্যু শ্রোতাদের কাঁদিয়েছে আরও বেশি। সেই গানের গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী। শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণায় দাফন করা হবে বারী সিদ্দিকীকে। লাশবাহী গাড়ি ছুটে চলেছে সেই দিকে। সারা পথ প্রিয় মানুষটির লাশের পাশে আছেন শহীদুল্লাহ ফরায়জীও।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্ব ছিল অনেক গভীর। আমরা ছিলাম একই পরিবারের মানুষের মতো। বারী ভাই যখন কোথাও গাইতে যেতেন আমাকে ডাকতেন। যাওয়া হতো না। কিন্তু নানা মাধ্যমে দেখেছি জেনেছি কীভাবে মানুষ তার গান গ্রহণ করেছে।’

শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, “কত মানুষের মন জয় করেছে আমাদের গানগুলো। আমাকে বলত আমাদের কবরটাও যদি পাশাপাশি হতো! আমার আগেই চলে গেলেন তিনি। কবরের পাশে না হলেও আমি তার পাশেই আছি এখন। তাকে মনে মনে বলছি ‘বারী ভাই আমিও আসছি’। আবার দেখা হবে আমাদের।”

বারী সিদ্দিকীর গাওয়া মৌলিক গানের সংখ্যা ১৬০টি। এর মধ্যে ৮০-৮৫টির গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী। এই গীতিকার ও সুরকার-শিল্পী জুটির খুব জনপ্রিয় হওয়া গানের মধ্যে রয়েছে ‘ছোট্ট একটা মাটির ঘর, কেউ আসে না নিতে খবর’, ‘চন্দ্র সূর্য যত বড়, আমার দুঃখ তার সমান’, ‘আমার মন্দ স্বভাব জেনেও তুমি কেন চাইলে আমারে’, ‘এক মুঠো মাটির মালিকানা’ ও ‘আমি নাকি মন পোড়ানো কয়লার ব্যাপারী’।

শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, “বারী সিদ্দিকীর প্রথম অ্যালবাম ‘দুঃখ রইল মনে’। এই অ্যালবামের সব কটি গান আমিই লিখেছি। এই অ্যালবামের লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল। এখনো ইউটিউবে এই অ্যালবামের সব’কটি গান খুব জনপ্রিয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে জানাজার পর বারী সিদ্দিকীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নেত্রকোণায়। সেখানে কারলি গ্রামে ‘বাউল বাড়ি’তে সমাহিত করা হবে তাকে।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোণায় জন্মগ্রহণ করেন বারী সিদ্দিকী। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মারা যান। ১৭ নভেম্বর থেকে ওই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে