আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৪০

বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে গিলে ফেলেছে ভারত!

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে গিলে ফেলেছে ভারত!

ভারতীয় সংস্কৃতি- সিনেমা, টিভি সিরিয়াল, নায়ক নায়িকার স্টাইল-ফ্যাশন সবই তো আমাদের মধ্যবিত্ত মানসিকতায় অনেককাল ধরে লেগে আছে। বাংলাদেশি হলেও ভারতীয় অনেক কিছুর ওপরই আমাদের নির্ভরতা। সেক্ষেত্রে ভারতীয় গরু, শাড়ি, কলম, বই, টেলিভিশন, পোশাক, পেঁয়াজ-আরও কত কী? কোথায় ভারতীয় বিষয়টি নেই?

বুঝতে হবে, আমাদের সঙ্গে ভারতীয়দের পার্থক্য কী? ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১ এই সালগুলোর গুরুত্ব কী? অনেকে গুরুত্ব জেনেও বেমালুম না জানার ভান করে। আসলে ভারতীয় সংস্কৃতির কোনো দোষ নেই। দোষটা আমাদের নিজেদের। আমরা পরজীবী হয়ে পড়ছি। চাল-ডাল বলেন আর সাহিত্য-সংস্কৃতি বলেন, সর্বক্ষেত্রে পরাশ্রায়ী হয়ে বেঁচে থাকাটাই আমাদের ইচ্ছা।

শোনা যায়, ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় ভারতীয় চলচ্চিত্র পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। বিষয়টি শুধুমাত্রই রাজনৈতিক। কিন্তু সেই রাজনৈতিক আইনটি পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধুর সরকার কিন্তু বিলুপ্ত করেননি। ফলে ভারতীয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করল না। সে সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রের একটা নিজস্ব ধারা ঢং শুরু হয়েছিল। একটা সময়ে তা আর বেঁধে রাখা গেল না। পরিচালকরা লাইন দিয়ে শুরু করল ভারতীয় সিনেমার রিমেক। আর সেসব সিনেমায় ব্যবহৃত যাবতীয় কীর্তিকলাপ ব্যবহৃত হত আমাদের সামাজিক জীবনে।

আশির দশকে ভিডিও ক্যাসেটে আসা শুরু করে ভারতীয় সিনেমা। নব্বইয়ের দশকে আসে সিরিয়াল। চলমান দশকে তো মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের যুগে আটকে আছে সব বয়সী মানুষ। ভারতীয় বাজার অনেক বড়। বাংলাদেশের তুলনায় বহুগুন অর্থ তারা ব্যায় করতে পারে যে কোন খাতে। সেখানে বাংলাদেশের এই স্বল্প বাজেটে টিকে থাকা খুবই কষ্টকর।

বাংলাদেশ এখন হয়ে উঠেছে ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চার উর্বর ক্ষেত্র। ভারতীয় শিল্পীরা এখন বাংলাদেশকে রমরমা বাণিজ্য ক্ষেত্র হিসেবেও বেছে নিয়েছে। দু`দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি থাকলেও এসব চলছে চুক্তির তোয়াক্কা না করেই। এ দেশের বিদ্যমান আইন না মেনে তারা চালাচ্ছেন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এতে আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংসের পাশাপাশি ভারতে চলে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারা। ভারতের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিষয়টি দেশের চিন্তাশীল মানুষদের ভাবিয়ে তুলেছে। কিন্তু কে বেঁধে রাখবে?

একটা কথা মনে রাখা জরুরি। বলিউড হলো সফট পাওয়ার। এই পাওয়ার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো কামানের গোলাবর্ষণ করে না ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের রুমে যে বাক্সটি রয়েছে তার ভিতর দিয়ে সংস্কৃতির গুলীবর্ষণ করে। আর সে গুলি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তছনছ করে দেয়। অভিভাবকরাও আজকাল শিশু-কিশোরদের হিন্দী কথামালায় উদ্বিগ্ন হন না। বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে এভাবে তছনছ করার সুযোগ এদেশের সরকার, সংস্কৃতিকর্মী ও মিডিয়া আরও কতদিন দেবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এই বুঝটা একটা সময় নেপাল কিংবা ভুটানের হয়েছে। তাই পরজীবি না হয়ে তারা আপন সংস্কৃতিকে ক্রমশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে