আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:৩৫

শাকিব হোক আর যেই হোক চাবি দেবেন না বাড়িওয়ালা

অনলাইন ডেস্ক
শাকিব হোক আর যেই হোক চাবি দেবেন না বাড়িওয়ালা

স্বামী শাকিব খান হোক বা যে-ই হোক, অপু বিশ্বাসের সঙ্গে কথা না বলে কাউকে তাঁর ফ্ল্যাটের চাবি দেবেন না বাড়িওয়ালা। ফলে এখনই ফ্ল্যাটে গৃহকর্মীর সঙ্গে থাকা শিশু ছেলে আব্রাম খান জয়কে দেখতে পারছেন না বাবা শাকিব খান।

আজ শনিবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে গুলশান ১ নম্বরের নিকেতন হাউজিং সোসাইটিতে অপু বিশ্বাসের ভাড়া বাসায় গেলে বাড়ির দারোয়ান নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের আটকে দেন। তাঁর কাছে বাড়িওয়ালার নাম ও মুঠোফোন নম্বর চাইলেও তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

নজরুল ইসলাম জানান, চিত্রনায়ক শাকিব খান গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাসায় এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী অপু বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে তালা দেওয়া থাকায় তিনি ঢুকতে পারেননি। পরে তিনি বাইরে থেকে অনেকক্ষণ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে বের হয়ে যান।

নজরুল ইসলাম আরো জানান, শাকিব খান বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ফ্ল্যাটের চাবি না পেয়ে নিকেতন হাউজিং সোসাইটির বাড়ির মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যেন তাঁরা বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্ল্যাটের চাবি দিয়ে তা খোলার ব্যবস্থা করেন। কেননা সেই ফ্ল্যাটে তাঁর শিশু ছেলে ও কাজের মেয়ে আছে। তার ছেলে কী অবস্থায় আছে এ নিয়ে উনি খুব আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ফ্ল্যাটের চাবি কার কাছে জানতে চাইলে বাড়ির দারোয়ান বলেন, বাড়িওয়ালার কাছে একটি চাবি আছে। সেটি তিনি অপু বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলা ছাড়া কাউকে দেবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে শাকিব খান যেহেতু তাঁর শিশু ছেলের জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাই কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বাড়িওয়ালা তালা খুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

দারোয়ান নজরুল ইসলাম জানান, ‘গতকাল সকাল ৮টায় অপু বিশ্বাস বাসা থেকে বেরিয়ে যান। উনি অসুস্থ কি না সেটি লক্ষ করিনি। উনি শুনেছেন, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গেছেন।’

এর আগে গতকাল থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে ছেলেকে দেখতে গিয়ে ফেরত আসেন শাকিব খান। কারণ, অপু বিশ্বাসের বাসা তালাবদ্ধ ছিল। গৃহপরিচারিকার কাছে তিনি জানতে পান অপু চিকিৎসা করাতে কলকাতায় গেছেন। এমতাবস্থায় ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন শাকিব খান।

শাকিব খান বলেন, ‘গতকাল সকালে দেশে ফিরে বাসায় যাই। দুপুরের দিকে শুনতে পাই আমার ছেলে তালাবদ্ধ। সন্ধ্যার পর আমি নিজেই ছেলেকে দেখতে যাই। বারবার দরজায় নক করার পর ভেতর থেকে আমার সঙ্গে কথা বলে শেলী নামের একজন কাজের লোক। দরজা খুলতে বলা হলে সে জানায় তার কাছে চাবি নেই। শুনার পর থেকে আমি নিজেই অসুস্থবোধ করি। আমার সন্তান ঘরের ভেতর আর বাইরে দিয়ে তালা। এখন যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কী হবে আমার ছেলের।’

শঙ্কা প্রকাশ করে শাকিব খান বলেন, ‘ঢাকা শহরে আমরা আসলে কতটা নিরাপদ, যেখানে সামান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। এখন যদি কোনো খারাপ কিছু হয়, তা হলে কী হবে বিষয়টা। যদি কোনো কাজে বাইরে যেতেই হয়, তা হলে আমার বাসায়, আমার বাবা-মায়ের কাছে ছেলেকে সে রেখে যেতে পারত। আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। মোবাইল ফোনে সব সময় শেলীর সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিচ্ছি। আবার নিকেতন হাউজিংয়ের সঙ্গে কথা বলছি, যেন তালা খুলে ছেলেকে বাইরে আনা যায়। আমি বিষয়টা একেবারেই মেনে নিতে পারছি না।’

কলকাতায় অপু বিশ্বাস চিকিৎসার কাজে গেছেন জানিয়ে শাকিব বলেন, ‘শেলী বলেছে বাথরুমে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়ে কলকাতায় চিকিৎসা নিতে গেছে। আমাদের দেশে কি হাসপাতাল নেই, যেখানে তার চিকিৎসা করাতে পারবে। আর যদি যেতেই হয় তা হলে ছেলেকে নিয়ে যেতে বা আমার বাসায় রেখে যেতে পারত। একজন মা এতটা কেয়ারলেস কীভাবে হয়, আমি অবাক, স্তব্ধ।’

বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে শাকিব খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিকেতন সোসাইটির কমিটিকে জানিয়েছি, ওনারা অপুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এখনই বাসার তালা ভাঙতে আমাকে না করেছেন। প্রয়োজন হলে ওনারাই পুলিশের সাথে যোগাযোগ করবেন বলেছেন।

গত এপ্রিলে ঢাকাই ছবির নতুন নায়িকা শবনম বুবলীর সঙ্গে শাকিব ঘরোয়া পরিবেশে একটি ছবি তোলেন। ছবিটিতে ‘ফ্যামিলি টাইম’ ক্যাপশন লিখে নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলী। এর পরই অপু বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে শাকিব খানের। ছবিটি প্রকাশের পর পরই গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন গোপনে থাকা বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি খোলাসা করেন অপু।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে