আপডেট : ১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:৩৭

বাঁধন অবশ্যই লোভী: বন্যা মির্জা

অনলাইন ডেস্ক
বাঁধন অবশ্যই লোভী: বন্যা মির্জা

লাক্স তারকা আজমেরী হক বাঁধন। ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই ব্যবসায়ী মাশরুর সিদ্দিকীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পারিবারিকভাবেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। জানা গেছে, তিন বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে বাঁধনের। তখন মিডিয়ায় খুব বেশি চাউর না হলেও বিষয়টি অনেকেই জানতেন। বিচ্ছেদের পর গেল তিন বছর ভালোই ছিলেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি বেঁধেছে সম্প্রতি। বাঁধনের সাবেক স্বামী তাদের একমাত্র মেয়েসন্তান সায়রাকে ফেরত নিতে চাইছেন। আর এ জন্য মেয়ের অধিকার পেতে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধন। এতে করে বিচ্ছেদের এই কাহিনী ও দাম্পত্য জীবনের কলহ নিয়ে সংবাদগুলো ঘুরছে পত্র-পত্রিকায়।

অভিনেত্রী বাঁধনকে লোভী বলেছেন মাশরুর। এই পরিবার নিয়ে সর্বত্র কানাঘুষা চলছে, এদিকে, বাঁধন, মাশরুর ও সায়রাকে নিয়ে বিস্তারিত একটি পোস্ট লিখেছেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন- ‘আমার পক্ষ নেয়া নিয়ে নানান মানুষের সমস্যা আছে। অন্যের পক্ষ নেওয়া নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। যে কেউ যে কোনো পক্ষই নিতে পারেন। সমস্যা হলো তাঁরা বোঝেন না যে আমি তাঁদের পক্ষ না নিলেই শত্রু হয়ে যাই না।

সারাক্ষণ শুনতে হয় আমি ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ সিনেমার পক্ষ নিলাম কেন? আমি ‘রিজওয়ান’-এর পক্ষ নিলাম কেন? তাতে আমি বিদ্রোহী বা বিপ্লবী খেতাবও পেয়ে গেলাম। যদিও কেন রোহিঙ্গা নিয়ে কিছু লিখছি না কিংবা কেন পাহাড়িদের নিয়ে লিখছি এসব অভিযোগ আছে। সেরকম ক্ষেত্রে পাহাড়িদের নিয়ে লিখলে ‘বিদ্রোহী’ শুনতে হয় না, কটাক্ষ করে হলেও। আবার রোহিঙ্গা নিয়ে না লেখাতে তিরস্কারই শুনতে হয়। এসব কথা আমার সরাসরিই শুনতে হয়।

আমি যে উত্তর করি তা নয়। চুপই থাকি। কিন্তু মাঝেমধ্যে আমি আসলেই পক্ষ নির্ধারণ করি। শক্তভাবেই করি। এবং আমি আমার অবস্থানে আড় থাকি। যেমন আমার বন্ধু বা সহকর্মীর পরিবার নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে আমি বন্ধুর পক্ষ নিয়ে থাকি। অন্যদের এসব মন্তব্য আমার তখন অযথা মনে হয়। তেমন ঠিক এই মুহূর্তে আজমেরী হক বাঁধনের পক্ষ নেবার প্রয়োজন পড়েছে আমার। এই প্রশ্নে আমার অন্যান্য সহকর্মীর অবস্থানও আমার ভীষণ ভালো লাগছে।

বাঁধনকে লোভী বলেছেন তাঁর স্বামী, মাশরুর সিদ্দিকী সনেট। যথার্থ বলেছেন তিনি, লোভী তো বাঁধন অবশ্যই! সংসারের লোভ তো মেয়েদের বড় সমস্যা! থাকাই ঠিক না! স্বামী সন্তানসমেত যে সংসার তার লোভ মেয়েদের সনাতন! কী আর করা! সেই লোভই বাঁধনের জীবনের কাল হলো।

বাঁধন তাঁর বাবার বাড়িতে থাকেন। কন্যা সায়রাসমেত। যখন থেকে বাঁধনের স্বামী বাঁধনের থাকে না তখন বা তার পরবর্তী সময়ে বাঁধনের কন্যা সায়রা আমাদের সকলের কন্যা হয়ে গেছে। বাঁধন দীর্ঘ সময় কাজ করেননি সায়রার জন্য। আজও ভোর পাঁচটায় উঠে সায়রাকে স্কুলে দেওয়া-আনার কাজটা তিনিই করে থাকেন। বাঁধন তাঁর মায়ের বাড়িতে থাকেন বিধায় সায়রাকে রেখে অনায়াসে পেশাগত কাজ করে যেতে পারতেন। তিনি তা করেননি। শতভাগই করতে চেয়েছেন মেয়ের জন্য।

অথবা বাঁধন বেশিই করেন, কারণ বাবা ও মায়ের দায়িত্ব তিনি একা পালন করেছেন। তবুও বাবা সম্পর্কে একটুকু কটু কথা মেয়েকে বলেননি। যখন দেখতে চেয়েছেন তখনই সায়রার বাবা মেয়েকে দেখেছেন। নিজের কাছে নিয়ে গেছেন। এমনকি ওই লোকের আবার বিয়ের পরও। বিয়ের কথা গোপন রেখে, বাঁধন ও সায়রারা কে নিয়ে মালয়েশিয়া ঘুরতে গেছেন।

আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি বাঁধনকে। ফলে ওই লোকের বর্তমান স্ত্রী যা যা ফোনে বলেছেন তা আমি শুনেছি। চাইলে আপনারাও শুনতে পারেন। মেয়েকে বাঁধন ঠিকমতো মানুষ করতে পারছেন না বলে তাঁর (সনেটের নতুন স্ত্রী) দাবি! তাঁর কাছে কানাডায় থাকলে সায়রা মানুষ হবে! কী অদ্ভুত কথা! ছোট্ট সায়রাকেও বিষিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন তাঁরা। অভিনেতা-মায়েরা নাকি ভাল নয়! সায়রার কথা ভেবে অনেক কিছুই জানানো যাচ্ছে না। আরও কারণ সায়রা তার বাবাকে অসম্মানিত হতে দেখুক তা আমাদের কারো কাম্য নয়। পরিশেষে বাধ্য হয়ে পারিবারিক আদালতে কন্যার কাস্টডি পেতে মামলা করতে হয়েছে বাঁধনকে।

বাঁধন খারাপ মা তা প্রমাণ কোনোভাবেই সহজ হবে না। বাঁধনের মতো মা সবাই হতে পারবে কি-না তাও আমি জানি না। কিন্তু আমি জানি যে, যেসব অভিনেতা-মা আছেন, বা যারা টেলিভিশনে কাজ করেন তাঁরা প্রত্যেকে একেকজন অসাধারণ মা। কাছে থেকে দেখি, তাই আমি জানি। যা হোক, বাঁধন মেয়ের কাস্টডি পাবেন, তা নিয়ে আমার সংশয় নেই। কিন্তু সায়রার জন্য আমার চিন্তা হচ্ছে যেন আশপাশের কোনো ক্ষুদ্রতা তাকে স্পর্শ না করে। সায়রার জন্য ভালবাসা। ভালো থাকিস মা, সোনা বাচ্চা আমাদের’!

উপরে