আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৬ ২১:৪৯

দিতির মৃত্যুতে তারকাদের শোক

বিনোদন ডেস্ক
দিতির মৃত্যুতে তারকাদের শোক

আজ রোববার বিকেলে দিতির মৃত্যুর খবর জানার পর এনিয়ে শোক জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন তারকা। এই প্রজন্মের অনেক অভিনয়শিল্পীরা দিতিকে আইডল হিসেবে মানেন। গুণী এই অভিনেত্রীর সঙ্গে সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে অনেক কিছুই শিখেছেন তারা। শুধু এই প্রজন্মে নয়, দিতির সমসাময়িক তারকাদের হৃদয়ে জমে আছে অনেক স্মৃতি। অনেক কথা।

প্রিয় মানুষকে হারানোর কষ্টের ছায়াও তাদের মধ্যে ভর করেছে। শোকের এই ছায়া পড়েছে পুরো চলচ্চিত্রাঙ্গনেও। সদ্য প্রয়াত অভিনেত্রী দিতির সহশিল্পীদের স্মৃতিচারণ নিয়ে এই প্রতিবেদন।

অরুণা বিশ্বাস : অরুণা বিশ্বাসও বহু চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন দিতির সঙ্গে। তাঁর মৃত্যুসংবাদ শোনার পর অরুণা বলেন, “দিতি আপা আমাকে আদর করে বকা দিতেন। উনি আমাকে অভিভাবকের মতো দেখতেন। আমি একজন অভিভাবক হারালাম। চেন্নাই থেকে আসার পর দিতি আপার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল। উনি তখন আমাকে বলেছিলেন যে, ‘তুই এত চিন্তা করিস না। আমি এত দ্রুত মারা যাব না। আরো অনেক কাজ করব।’ দিতি আপার এভাবে চলে যাওয়া কোনোমতেই মেনে নিতে পারছি না।”

ইমন  : আমি কিছুক্ষণ আগে এই দুঃসংবাদটি পেয়েছি। এখন আমি শুটিংয়ে আছি। খবরটি শোনার পর শুটিংও ঠিকমতো করতে পারছি না। খুব খারাপ লাগছে। কষ্ট লাগছে। আমি দিতি আপুর সঙ্গে অন্তরঙ্গ চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। এই চলচ্চিত্র চাষী নজরু ইসলাম স্যারের সর্বশেষ চলচ্চিত্র। দিতি আপু অভিনীতও শেষ চলচ্চিত্র এটি। নজরুল স্যার অসুস্থ হওয়ার পর আমি আর দিতি আপু শুটিং সেটে আলোচনা করছিলাম, সিনিয়র সবাই কেমন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তারপর-ই অসুস্থ হন দিতি আপু। অবশেষে উনিও চলে গেলেন। গুরুজন, প্রিয়জনকে একএক করে হারাচ্ছি।

অঞ্জনা : চিত্রনায়িকা অঞ্জনা বলেন, ‘এফডিসির প্রিয়মুখ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিতির সাথে পরিচয় হয়েছিল। তখন থেকেই ঘনিষ্ঠতা। আমাদের বাসা ছিল পাশাপাশি, এমনকি দুজনের রুমের জানালাও ছিল পাশাপাশি। সেই জানালা দিয়েই দুজন কথা বলতাম। আমার মাও দিতিকে খুব পছন্দ করতেন। মায়ের সাথেও দিতির কথা হতো। দিতিকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তখন খুব খারাপ লেগেছিল। কিন্তু আমি ওর লাশ দেখতে যাব না। জসিম ভাইয়ের লাশ দেখার পর থেকে আমি আর কারো লাশ দেখতে পারি না।’

রিয়াজ : খবরটি শোনার পরপরই ইউনাইটেড হাসপাতালে চলে যান রিয়াজ। নিজের প্রতিক্রিয়ায় রিয়াজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দিতি আপা অনেক আদর করতেন আমাকে। অনেক বড় একজন অভিনেত্রীকে হারালাম আমরা। কিছু বলার পাচ্ছি না।’

বাঁধন : এই প্রজন্মের নায়িকা হলেও টিভি নাটকে দিতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ বাঁধনের হয়েছে। দিতির প্রয়াণের খবর পেয়ে বাঁধন বলেন, ‘আমি পুবাইল থেকে শুটিং বাতিল করে চলে আসছি। দিতি আপার কাছে যাচ্ছি। আমি কিচ্ছু বলতে পারব না, কিচ্ছু না।’

ওমর সানি : হ্যাঁ আমি শুনেছি। এখন ইউনাইটেড হাসপাতালে যাচ্ছি (অনেকটা ধরা কণ্ঠে)। দিতিকে নিয়ে এত স্মৃতি জমা আছে যে, তার কটা বলব (এ কথা বলেই কেঁদে ফেলেন এই অভিনেতা)। আমি একটু স্টেবল হয়ে নেই। তারপর কথা বলি?

মাহিয়া মাহি  : আমি শ্বাশু মার (দিতি) সঙ্গে তবুও ভালোবাসি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। এ চলচ্চিত্রে উনি আমার শ্বাশুরির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তারপর থেকেই আমি ওনাকে শ্বাশু মা বলে ডাকতাম। উনি অদ্ভুদ একজন মানুষ ছিলেন। অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন। মানুষের টাকার প্রতি একটা নেশা থাকে। উনার মধ্যে এই বিষয়টি ছিল না। অভিনয় করে যে টাকা আয় করতেন তা নিয়ে ঘুরা-ফেরা ও আনন্দ করে ব্যয় করতেন। আমি শ্বাশুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে