আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৩৯

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৪, ঘোষণার আগেই বিতর্ক!

বিনোদন ডেস্ক
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৪, ঘোষণার আগেই বিতর্ক!

চূড়ান্ত হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪-এর খসড়া। শেষ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে এমনটাই জানা গিয়েছিলো একাধিক জুরি বোর্ডের সদস্যদের কাছ থেকে। তবে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই জানাজানি হয়ে গেল সব তথ্য। কোন ক্যাটাগরিতে কোন ছবি বা শিল্পী পুরস্কার পাচ্ছেন অনেকেই সেটা এখন অনেকেরই জানা। অবশ্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এসব তথ্য আগাম জানানোর খবর অস্বীকার করেছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪ খসড়া চূড়ান্ত করেছে জুরি বোর্ড। আগামী সপ্তাহেই আসবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কয়েকদিনে এ নিয়ে জলঘোলাও কম হয়নি। কে পেলেন, কে পেলেন না, কার পাওয়া উচিত বা অনুচিত- এসব বিষয় নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানান কথা।

সম্প্রতি ‘ফাঁস’ হয়ে যাওয়া তালিকায় বিজয়ী হিসেবে একেক গণমাধ্যমে আসছে একেক জনের নাম। এ নিয়ে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। দুঃখজনক হলেও সত্যি, জুরিবোর্ডের বিচারকদের নামে উঠছে দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির অভিযোগ।

এদিকে বিজয়ীর তালিকায় প্রথমে নিজের নাম আছে জেনে পরে এর সত্যতা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। আবার অনেকে বলছেন, সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই হলো না, এখনই জলঘোলা কেনো? তারা তাচ্ছিল্যের সুরে জানান, যে দেশে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, সেখানে পুরস্কারজয়ীর তালিকা তো ডালভাত! এ নিয়ে মাথা ঘামানোরই বা কী আছে?

নির্ধারিত সময়ের আগে এই তালিকা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্দ হয়েছেন চলচ্চিত্রপ্রেমী অনেক মানুষ। এমন ঘটনা সত্যি বিরল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের খবর সরকারিভাবে প্রকাশ করার আগে কেউ জানতে পারে না। এটা ফাঁস করার দুঃসাহস দেখায় না তাদের গণমাধ্যম।

সম্প্রতি দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে ২০১৪ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কয়েকটি বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম দেখে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে সমালোচনা ও বিতর্ক।

এবার বিশেষ করে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মৌসুমী ও বিদ্যা সিনহা মিমের যৌথভাবে পুরস্কারপ্রাপ্তির খবরে বিস্মিত হয়েছেন অনেকে। সমালোচকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে এই বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কার দেওয়ার চল হয়ে গেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, পার্শ্ব চরিত্রে রূপদান করেও সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। এ ক্ষেত্রে মনোক্ষুণ্ন হচ্ছেন মূল চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেত্রী। ‘তারকাঁটা’ (মৌসুমী) ও ‘জোনাকির আলো’ (মিম) ছবি থেকে নির্বাচন করা হয়েছে এবারের সেরা অভিনেত্রী। গত বছর ‘মৃত্তিকা মায়া’ (শর্মীমালা) ও ‘দেবদাস’ (মৌসুমী) থেকে যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রী নির্বাচন করা হয়। এ নিয়েও তখন সমালোচনা কম হয়নি।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত জানান, তার কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে পুরস্কারের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে! কিন্তু তিনি এতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।  

একই প্রসঙ্গে এবারও আগে থেকেই সমালোচনা শুরু হলো। চলচ্চিত্রবোদ্ধারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করা স্বাভাবিক হতো সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর। জুরিবোর্ডের সদস্যরা নিয়ম ভেঙে সাংবাদিকদের আংশিক (ভুলভাল) তথ্য দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তারা। এতে তারা বাণিজ্যের সুযোগ পান বলেও উল্লেখ করা হয়। ভবিষ্যতে তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি সুন্দরভাবে দেখভাল করবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

আগামী ৩ এপ্রিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগেই আগামী মার্চে গেজেট আকারে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা হবে বিজয়ীদের নাম।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে