আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১১:৩০

কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির প্রয়াণ দিবস আজ

বিনোদন ডেস্ক
কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির প্রয়াণ দিবস আজ

কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে বিষাদের কালো আভা ছড়িয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন অভিনয়ের কিংবদন্তি এ পুরুষ। অভিনয়ের সাবলীলতায় মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের কোটি মানুষকে মোহিত করেছেন এই অভিনেতা। দাপুটে অভিনয় করে মানুষকে হাসিয়েছেন, আবার কখনো বা কাঁদিয়েছেন।

হুমায়ুন ফরীদি ১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন। এটিএম নূরুল ইসলাম ও ফরিদা ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ইউনাইটেড ইসলামিয়া গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক শেষ করে চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলে সান্নিধ্য পান নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের।

তার মাধ্যমেই মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে ছাত্রজীবনেই শুরু হয় হুমায়ুন ফরীদির অভিনয়। তিন দশকে চুটিয়ে অভিনয় করেছেন মঞ্চ,টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে। যেখানেই গিয়েছেন সাফল্যের বরপুত্র হয়েছেন। সব ক্ষেত্রেই যোগ করেছেন বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনা। অভিনয়ের মাধ্যমে সব সময় ছড়িয়েছেন বাঁচার আলো, জীবনের আলো।

ফরীদি নাট্যচর্চার বিখ্যাত নাট্যকার সেলিম আল দীনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। ১৯৭৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নাট্যোৎসব আয়োজনেরও অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দিনগুলোতেই ফরীদি সম্পৃক্ত হন ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সদস্য হিসেবেও অভিনয়ের আলো ছড়িয়ে বেড়ান সারা দেশে।

যদিও এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃনাট্য প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। এখানে তিনি ‘আত্মস্থ ও হিরণ্ময়ীদের বৃত্তান্ত’ নামে একটি নাটক লিখেন, নির্দেশনা দেন এবং অভিনয় করেন। এ নাটকটি পাঁচটি নাটকের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয় বিচারকদের কাছে। এ নাটকের সুবাদে পরিচয় ঘটে ঢাকা থিয়েটারের নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর সঙ্গে। মূলত এখান থেকে হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় যাত্রা শুরু। আর তার মঞ্চযাত্রা শুরু হয় ঢাকা থিয়েটারের মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেছিলেন, চা আনা আর কস্টিউম পরিয়ে দেয়া পর্যন্ত আমার প্রাথমিক গনিত। আর সেলিম আল দীনের ‘চরকাঁকড়ার ডকুমেন্টারি’ নাটকের প্রোডাকশনে কাজ করি। এরপর একই দলের একই লেখক ও নির্দেশকের ‘সংবাদ কার্টুন’-এ ছোট্ট একটি চরিত্রে সুযোগ পাই। তারপর ‘শকুন্তলা’। শকুন্তলা’র পর ‘ফণীমনসা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ এবং ১৯৯০ সালে ‘ভূত’ দিয়ে শেষ হয় হুমায়ুন ফরীদির ঢাকা থিয়েটার জীবন। আর এই ‘ভূত’-এর নির্দেশক ছিলেন তিনি নিজে। মূলত বন্ধু-অভিনেতা আফজাল হোসেনের সাহস এবং উৎসাহে হুমায়ুন ফরীদির টেলিভিশন যাত্রা শুরু হয়। আফজাল হোসেন বন্ধুর কথা ভেবে পর পর অনেক নাটক লেখেন।

যদিও টেলিভিশনে ফরীদির অভিষেকটা ঘটে আতিকুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে। সেটাও অবশ্য আফজাল হোসেন ও রাইসুল ইসলাম আসাদের সুবাদে। সেলিম আল দীনের রচনা এবং নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনায় ধারাবাহিক নাটক ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’ দিয়ে বেশ আলোচনায় আসেন ফরীদি। এখানে তার চরিত্রটি ছিল বয়োজ্যেষ্ঠ সেরাজ তালুকদারের। যা ওই বয়সের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। হুমায়ুন ফরীদি টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ।

টিভি নাটক অথবা মঞ্চে সেলিম আল দীন এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু জুটির বাইরে হুমায়ুন ফরীদির সর্বাধিক সংখ্যক এবং সর্বাধিক সফল কাজ ছিল হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে। আর ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিকে তার অভিনীত চরিত্র কানকাটা রমজানের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে খলনায়ক চরিত্র শুরু হয় তার। তিনি ‘মাতৃত্ব’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৪ সালে।

নিয়মিত টিভি অভিনয়ের পাশাপাশি হুমায়ুন ফরীদি তেমন একটা লিখতেন না, তবে কিছু টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক নির্মাণ করেছেন। দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত এবং রোমান্টিক এ মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে বেলি ফুলের মালা দিয়ে ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেন। তখন এ বিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। এ ঘরে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নাম দেবযানি। পরে তিনি ঘর বাঁধেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে।

কিন্তু ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। সবার প্রিয় অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি দীর্ঘদিন ধরে তার অভিনয় দিয়ে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন আজ তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে এক অচেনা অজানা জগতে। যেখান থেকে দর্শকরা কোনদিন আর তাকে ফিরে পাবে না। তবুও তার কর্ম তার অভিনয় সারাজীবন দর্শকদের হৃদয়ে আল হয়ে থাকবে। প্রেরনার বাতিঘর হয়ে জ্বলবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে