আপডেট : ২৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ২০:০০

রাজ্জাকের কান্নায় জলে ভাসলো সবার চোখ

বিডিটাইমস ডেস্ক
রাজ্জাকের কান্নায় জলে ভাসলো সবার চোখ

জন্মদিন আনন্দের উপলক্ষ হলেও ৭৫তম জন্মবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে এফডিসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলার কিংবদন্তীতুল্য নায়ক ‘নায়করাজ রাজ্জাক’ স্মৃতিতাড়িত হয়ে কেঁদেছেন। এসময় উপস্থিত অতিথিরাও তাদের কান্না চেঁপে রাখতে পারেনি।

শনিবার বিকেলে এফডিসির পরিচালক সমিতিতে জন্মদিন উদ্‌যাপন উপলক্ষে বহুদিন পর প্রিয় প্রাঙ্গনে এসেছিলেন নায়করাজ। তার সঙ্গে ছিলেন দুই পুত্র বাপ্পারাজ, সম্রাট এবং তার নাতনি।

জন্মদিন উপলক্ষে পরিচালক সমিতির আয়োজনটিতে অংশ নেন পরিচালক, প্রযোজকসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে। তারা সবাই রাজ্জাককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাজ্জাক তার চলচ্চিত্র জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিকথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। রাজ্জাকের কান্নায় পাশে বসে থাকা নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেন, অভিনেতা হাসান ইমাম, চিত্রগ্রাহক আফজাল এইচ খানসহ অনেকেই সে সময় তাদের অশ্রুসিক্ত চোখ মুছতে থাকেন।

রাজ্জাক বলেন, ‘সারাটা জীবন আমি চলচ্চিত্র নিয়ে থেকেছি। এই পেশাকে ভালোবেসে আমার দুই ছেলেকেও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছি। আর এই চলচ্চিত্রই আমাকে ‘রাজ্জাক’ বানিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাকে যে পরিমাণ ভালোবাসেন, তা চলচ্চিত্রের কারণে। আজ বহুদিন পর আমি এফডিসিতে এলাম। এখন এফডিসিতে এলে খুব কান্না পায়। যে এফডিসি একসময় খুব সরগরম ছিল, সেই এফডিসি কিনা এখন অনেকটাই নিষ্প্রাণ। আমি সবার কাছে অনুরোধ করছি, আসুন আবার আমরা এফডিসিকে চাঙা করে তুলি। ফ্লোরগুলো সিনেমার শুটিং দিয়ে জমজমাট করে রাখি। আসুন সবাই এক হয়ে কাজ করি।’

সবাইকে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে গেলে চলচ্চিত্রের এখনকার এই অবস্থা আর থাকবে না। আমার এখন বয়স হয়েছে। সব সময় আসাও সম্ভব না। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, আপনারা যখনই ডাকবেন, আমি অবশ্যই চলে আসব। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমি এফডিসির হয়েই থাকব।’
কথা বলতে বলতেই রাজ্জাকের গলা একসময় ভারী হয়ে আসে। পুরো অনুষ্ঠানস্থলে তখন অন্যরকম এক আবহের সৃষ্টি হয়। রাজ্জাকের আবেগাপ্লুত এমন অবস্থা দেখে উপস্থিত অনেকেই তখন তাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে