আপডেট : ১১ মে, ২০১৮ ১৮:১৬

বিবিএ পাস করেই কন্ট্রাক্ট কিলার!

অনলাইন ডেস্ক
বিবিএ পাস করেই কন্ট্রাক্ট কিলার!

বিবিএ পাস করেই কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ে জড়িয়ে পড়েন বাড্ডার সাফায়েত তামরিন রানা (২৮)। তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল। আর তার গডফাদার রবিন থাকেন মালয়েশিয়ায়। সেখানে থেকেই তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুর্ধর্ষ একটি সিন্ডিকেটের। সিন্ডিকেটে কাজ করছেন রানা, হেলাল ও অভি নামে আরও তিন দুর্ধর্ষ অপরাধী। কন্ট্রাক্ট কিলিং ছাড়াও তাদের আয়ের অন্যতম উত্স্য বাড্ডা, রামপুরা ও গুলশান এলাকার ডিস ব্যবসা।

বুধবার (০৯মে) রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আবদুর রাজ্জাক বাবুও (৩০) একই সিন্ডিকেটের সদস্য। এই বাবুও দীর্ঘদিন ধরে ডিস ব্যবসা করছিলেন। যে কারণে তার আসল নাম পাল্টে হয়ে যান ডিসবাবু। পরে গতকাল তামরিনও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

পুলিশ জানতে পেরেছে, ডিস ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে খুন হন ডিসবাবু। বাবু গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা অস্ত্রধারীদের ধাওয়া করে। তারা একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সাধারণ মানুষ তখন দোকান বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। পুলিশ এসে সাফায়েত তামরিন রানাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। গতকাল ভোরে তামরিনকে নিয়ে পুলিশ অভিযানে বের হলে আফতাবনগরে তার সহযোগীরা হামলা চালায়। পুলিশ এ সময় পাল্টা গুলি চালালে তামরিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

জানা গেছে, লেখাপড়ার পর রবিনের হাত ধরেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তামরিন। হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে ডজনখানেক মামলার পর ঢাকার সাভারে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন তামরিন। কিলিং সিন্ডিকেটের সদস্যদের সঙ্গে তার বেশির ভাগ সময় ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথা হতো। মাঝে মাঝে তারা মিলিত হতেন গুলশান কমার্স কলেজ ও আফতাবনগর এলাকায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তামরিনকে নিয়ে তার অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য গতকাল ভোরের দিকে আফতাবনগরের এল ব্লকে যায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই এলাকায় ওতপেতে থাকা তামরিনের সহযোগীরা পুলিশের দিকে গুলি শুরু করে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে তামরিন গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। গোলাগুলি থামার পর তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তামরিন সাভার থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে রমনা, বাড্ডা ও গুলশান থানায় অন্তত চারটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আরও অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে