আপডেট : ২১ এপ্রিল, ২০১৮ ১০:১৫

ইয়াবা বিক্রিতে বাধা দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের পায়ের রগ কর্তন

অনলাইন ডেস্ক
ইয়াবা বিক্রিতে বাধা দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের পায়ের রগ কর্তন

বর্তমানে মাদকাসক্তি আমাদের সমাজে এক সর্বনাশা ব্যাধিরূপে বিস্তার লাভ করছে। দুরারোগ্য ব্যাধির মতোই তা আমাদের তরুণ সমাজকে গ্রাস করছে। এর তীব্র দংশনে ছটফট করছে আমাদের সমাজের আগামী দিনের ভবিষ্যতরা।মাদকের ভয়াবহ পরিণতি দেখে আজ প্রশাসন বিচলিত, অভিভাবকরা আতঙ্কিত, চিকিৎসকেরা দিশেহারা।

যে তরুণ যুবশক্তি দেশের প্রাণ মেরুদণ্ড, নেশার ছোবলে আজ সেই মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়ে যেতে বসেছে। নেশার ছোবলে মৃত্যুতে ঢলে পড়ছে লক্ষ প্রাণ, ধ্বংস হচ্ছে পরিবার ও সামাজিক শান্তি। রাষ্ট্র অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি দেখতে পাচ্ছে।প্রতিদিনই নতুন নতুন পৈশাচিক সব ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী আর মাদকাসক্তরা। এই নেশার জাল এতই লোভনীয় যে তাতে তরুণরা অন্ধ হয়ে যায়, দিনে দিনে হয়ে ওঠে আরো বেপরোয়া। জন্ম দিয়ে যায় একের পর এক পৈশাচিক ঘটনার।

এমনই আরেকটি অমানবিক আর পৈশাচিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে গতকাল বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা গ্রামের মানুষ। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ভরপাশা গ্রামের মানুষদের একটাই অভিযোগ, নেশার প্রকোপে অন্ধকারের পথে চলে যাচ্ছে তাদের সন্তানেরা। চোখের সামনে দিনের পর দিন ইয়াবা বিক্রি করে যাচ্ছে গ্রামেরই আল-আমিন হাওলাদার, শহিদ খান ও হুমায়ুন কবির খান। শেষতক এই ঘটানায় প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আকবর আলী খানের পুত্র আওলাদ হোসেন লিটন খান। মাদক বিক্রিতে তিনি দেয়াল হয়ে বাঁধা দিয়ে যাচ্ছিলেন আল-আমিন হাওলাদার, শহিদ খান ও হুমায়ুন কবির খানকে। আর এই বাঁধাতেই তিনি ব্যবসায়ীদের চক্ষুশুল হয়ে দাঁড়ান। মাদক বিক্রির পথের বাঁধাকে সরিয়ে দিতেই গতকাল মুক্তিযোদ্ধার পুত্র লিটন খানের পায়ের রগ কর্তনসহ তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে আল-আমিন হাওলাদারের দল। মুমূর্ষু অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্র আওলাদ হোসেন লিটন খানকে (৩৭) উদ্ধার করে প্রথমে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেলে এবং অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ছে।

একদল মাদক ব্যবসায়ী এই দেশকেই স্বাধীন করে নিয়ে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে, পায়ের রগ কেটে দিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে! এরচেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে? যেই দেশের মাটিকে স্বাধীন করার তাগিদে তার পিতাকে একদিন জীবন বাজি রাখতে হয়েছিল, আজ সে দেশের মাটিতেই তরুণ সমাজকে ধ্বংসকারী একদল মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে কুপিয়ে আবর্জনার মত ছুঁড়ে ফেলে গেছে। তার পায়ের রগ কেটে বাংলাদেশের মানুষের মুখে থুতু দিয়ে গেছে সেই মাদক ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সকালে লিটন খানের অসহায় বৃদ্ধা মা আমেনা বেগম বাকেরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ভরপাশা গ্রামের আল-আমিন হাওলাদার, শহিদ খান ও হুমায়ুন কবির খান দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। সম্প্রতি বিষয়টি জেনে তাদের মাদক বিক্রিতে বাধা প্রদান করেন লিটন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লিটনের মাছের ঘেরে বিষপ্রয়োগ করে পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে ফেলে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টার দিকে লিটন খান তার চাচাত ভাই ইসরাইল আলম দুলালকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কৃষ্ণকাঠী খানাবাড়ি নামক এলাকায় পৌঁছলে আল-আমিন হাওলাদার, শহিদ খান, মাসুম, মুসা খান ও হুমায়ুন কবিরসহ ১৪/১৫ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে লিটনের পায়ের রগ কেটে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

স্থানীয়রা তাদের চিৎকারে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর অবস্থায় লিটনকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু অবস্থায় লিটনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

বিডিটাইমস৩৬৫/জামি

উপরে