আপডেট : ২২ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৫:০৪

প্রেমিককে কোপানো সেই ছাত্রীর জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রেমিককে কোপানো সেই ছাত্রীর জামিন নামঞ্জুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রেমিককে কোপানোর ঘটনায় দায়ের মামলায় ইডেন কলেজের ছাত্রী লাভলী ইয়াসমিন মিতার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম একেএম মইনুদ্দিন সিদ্দিকী এ আদেশ দেন।

আদালতে মিতার জামিন চেয়ে তার আইনজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিতা যা করেছে, সেটি সেলফ ডিফেন্স। আল আমিন (প্রেমিক) মিতার পূর্বপরিচিত। নিজেকে রক্ষার জন্যই এটা করেছেন তিনি। কারণ, অনেক দিন ধরেই মিতাকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন আল আমিন।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘ছুরিটা কোথা থেকে আসল। এটা তো মিতার কাছেই ছিল।’ তবে আইনজীবী বিচারককে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আদালতে বলেন, আল আমি এবং মিতার মধ্যে ৬ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। মিতা পরিকল্পতভাবে আল আলামিনকে ডেকে নিয়ে গুরুতর আঘাত করেছেন। এতে তার মৃত্যুও হতে পারতো। এখনো ভিকটিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন।

গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে বুয়েট ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তায় প্রেমিক আল আমিনের সঙ্গে লাভলী ইয়াসমিন মিতার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চাকু বের করে প্রেমিকের পিঠে আঘাত করেন মিতা। এতে গুরুতর আহত হলে আশপাশের লোকজন আল আমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই ঘটনায় আল আমিনের ছোট ভাই মো. আওলাদ হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ মামলা দায়ের করেন।

আল আমিন-মিতার প্রেম সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের ঘনিষ্ঠরা জানান, পুরান ঢাকার ইসলামবাগে থাকেন আল আমিন। গত সাত বছর থেকেই ভাঙারির ব্যবসা করছেন। বিকালে আড্ডা দিতেন আজিমপুর এলাকায়। আজিমপুরেই থাকেন লাভলী ইয়াসমিন মিতা। সেখানেই পরিচয়। তারপর ফোনে কথা হতো। দেখা হতো। এভাবেই একসময়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান তারা। ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানার রামচন্দ্রপুর বিশ্বাসপাড়ার গোলাম রসুলের মেয়ে লাভলী ইয়াসমিন মিতা। অন্যদিকে পুরান ঢাকার পশ্চিম ইসলামবাগের  মৃত আলেক ব্যাপারীর ছেলে আল আমিন। 

আল আমিন জানান, বুধবার বিকালে ফোনে তাকে ফুলার রোডে যেতে বলেন মিতা। দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছিলো তাদের। আল আমিনকে এড়িয়ে যেতেন মিতা। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। মধুর সম্পর্ক ছিল দুজনের। আল-আমিনের পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি জানতেন। কিন্তু হঠাৎই পাল্টে যায় সব।

আল আমিন আরো জানান, এ অবস্থাতেই গত বুধবার বিকালে আল আমিনকে  ফোনে ডেকে নেন তিনি। মিতার কথানুসারেই ঢাবি জগন্নাথ হল সংলগ্ন ফুলার রোডের উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে যান আল আমিন। ঠিক তখনই ঘটে ঘটনা। মিতার পাশে দাঁড়ানো ছিল চার-পাঁচ তরুণ। এসময় ওই ছেলেরা মারধর করে আল আমিনকে। রক্ষা পেতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে তখনই তাকে ছুরিকাঘাত করেন মিতা। নিজের ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে পরপর দুটি আঘাত করেন তার পিঠে ও হাতের নিচে। রক্তে ভেসে যায় তার শরীর। এসময় ‘ছিনতাইকারী ছিনতাইকারী’ বলে চিৎকার করে পালাতে চেয়েছিলেন মিতা। তাৎক্ষণিকভাবে ঢাবি’র আশেপাশের ছাত্ররা মিতাকে আটক করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মিতাকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর জ্ঞান হারান আল আমিন। তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মিতা জানিয়েছে, দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের। ব্রেকআপ হয়ে যাওয়ার পরও সম্পর্ক রাখতে চেষ্টা করছিলো আল আমিন। এতে অতিষ্ঠ হয়েই তাকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করেছে মিতা। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রুমা

উপরে