আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০১৭ ১০:৪৫

ক্ষ্যাপাটে বৃদ্ধের অদ্ভুত কাণ্ড!

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষ্যাপাটে বৃদ্ধের অদ্ভুত কাণ্ড!
ছবি: ডিএমপি নিউজ

১১ জুলাই মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা। রামপুরা থানায় ফোন এল ১৯৯/এ, উলন রোডের চারতলার বাসার নিচতলায় পরপর পাঁচ থেকে ছয়টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টহল দলসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা জানতে পারেন, ওই বাড়ির মালিক এস এম আবদুর রহমান (৮৫) তাঁর লাইসেন্সকৃত রিভলবার থেকে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলি করেছেন। এস এম আবদুর রহমান বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। একটি গুলি বাড়ির নিচতলার পশ্চিম পাশের ভাড়াটে দ্বীপ দীপ্তি লন্ড্রি অ্যান্ড সেলুনের মালিক নারায়ণ চন্দ্র দাসের (৪৭) ডান কাঁধের পেছনের চামড়ায় লাগে। এতে তিনি আহত হয়েছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, আবদুর রহমানের স্ত্রী ও অন্য স্বজনেরা বিভিন্ন কৌশলে তাঁকে বাইরে আসার জন্য অনুরোধ করলে তিনি দরজা বরাবর আরও একবার গুলি করেন। ওই গুলি দরজা ভেদ করে তাঁর স্ত্রীর গলার পাশ দিয়ে চলে যায়। এতে স্ত্রী সামান্য জখম হন।

এরপর পুলিশসহ অন্যরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। পরে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।

আত্মীয়েরা বলেন, এস এম আবদুর রহমানের তিন মেয়ের মধ্যে রত্না ও ছবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং রুবি যুক্তরাজ্য থাকেন। দুই ছেলের মধ্যে শাহীন বাংলাদেশে লাইট ফ্রিজের ব্যবসা করে এবং মাসুদ অষ্ট্রেলিয়াপ্রবাসী। তিনি স্ত্রীর বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকেন। গত এক মাস একাকী নিচতলার একটি কক্ষে থাকেন। সম্প্রতি তার আচরণে পরিবর্তন এসেছে। তিনি তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে সহ্য করতে পারছিলেন না। তিনি যা ইচ্ছা তা–ই করতেন। কিছুদিন আগে বাসায় আইনজীবী ডেকে এ বাড়িটি তাঁর নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু স্ত্রী দলিলে সই না করায় স্ত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হন এস এম আবদুর রহমান।
এস এম আবদুর রহমান নারায়ণ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে প্রতিদিন এক হাজার টাকা নিয়ে ইচ্ছেমতো খাওয়াদাওয়া করতেন। ডায়াবেটিক রোগ থাকা সত্ত্বেও খাওয়ার কোনো নিয়ম মানতেন না। ঘটনার দিন সকালবেলা বিমানবাহিনীর এই অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ফোনে নারায়ণের কাছে এক হাজার টাকা চান। নারায়ণ জানান, দোকান খোলার পর টাকা দেবেন। চাওয়ামাত্র টাকা না পেয়ে তিনি নিজের কক্ষের মধ্যে ঢুকে তাঁর লাইসেন্স করা রিভলবার দিয়ে কক্ষের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন।
এস এম আবদুর রহমানের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ উদ্ধার অভিযান থেকে বিরত থাকে এবং তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। এভাবেই কেটে যায় একটি দিন। পরের দিন, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুর রহমান হাতে ধারালো দা নিয়ে দরজায় কোপাতে শুরু করেন এবং চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে ধারালো দা হাতে চেয়ারে বসে পড়লে পুলিশ পশ্চিম পাশের প্লাইউড ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে জাপটে ধরে। হাত থেকে দা কেড়ে নিয়ে রিভলবার হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এস এম আবদুর রহমানের রিভলবার পরীক্ষা করে দেখা যায়, রিভলবারে থাকা সব গুলি খরচ করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগের ভেতর ৩৩টি গুলির খোসা পাওয়া গেছে। আবদুর রহমানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহত ব্যক্তিদেরও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে রামপুরা থানার পুলিশ। তবে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের এমন কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত মেলেনি।

সূত্র: ডিএমপি নিউজ

উপরে