আপডেট : ২৮ মে, ২০১৬ ২২:১৮

ভুল চিকিৎসায় কেটে ফেলল স্তন, মামলা তুলে নিতে হুমকি!

অনলাইন ডেস্ক
ভুল চিকিৎসায় কেটে ফেলল স্তন, মামলা তুলে নিতে হুমকি!
শেরপুরের শ্রীবরদীর এক গৃহবধূর অঙ্গহানি আলোচিত মামলায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের চিকিৎসক ডা. শরীফকে গ্রেফতারের পর বাদী পক্ষকে সরকার দলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক,শেরপুর জেলা জজ আদালতের পিপি ও বিএমএ নেতাদের  হুমকিসহ মামলা আপোষ করার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগে এবং নিরাপত্তার দাবিতে ২৭ মে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় শেরপুর প্রেসক্লাব সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে সরকার দলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, মামলার আসামি  ডা. শরীফুল ইসলাম শরীফকে ২০ মে গ্রেফতার করার পর থেকেই শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ আতিক ও  পিপি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল ও বিএমএ নেতারা বাদীকে ডেকে নিয়ে আট লাখ টাকার চেক নিয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি প্রদান করেন। বর্তমানে বাদীর পরিবার প্রভাবশালী চক্রটির হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন এবং তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী সোলায়মান মিয়া, তার স্ত্রী ভিকটিম স্বপ্না বেগম  ও ভিকটিমের ভাই সোহেল হাসান শাহীন বক্তব্য রাখেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৬ নভেম্বর শ্রীবরদী পৌর শহরের শান ক্লিনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের চিকিৎসক শরীফুল ইসলাম শরীফকে স্তনের ফোঁড়া দেখাতে যান স্বপ্না। চিকিৎসক ক্যান্সারের কথা বলে ওই বছরের ১৫ নভেম্বর রোগীর বাম স্তন কেটে ফেলেন। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, স্তনে কোনও ক্যান্সার ছিল না। এ ঘটনায় স্বপ্নার স্বামী মামলা করলে ডা. শরীফুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শেরপুর জেলায় সব ধরনের প্রাইভেট চিকিৎসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে বিএমএ।
মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও আমার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা মাত্র। তিনি বলেন, বাদী ও বিবাদী পক্ষ আমার কাছে মিমাংসার জন্য এসেছিল, আমি তাদেরকে ডেকে আনিনি।
এদিকে হুমকি দেয়ার কথা অস্বীকার করলেও মামলা তুলে নিতে বাদীর সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করেন শেরপুর জেলা বিএমএ'র সভাপতি ডা. এমএ বারেক তোতা। তিনি বলেন, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ডাক্তার শরীফ কারাগারে আটক রয়েছে। তিনি জানান, ডাক্তার শরীফ মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত সারা জেলায় চিকিৎসকরা সব ধরনের প্রাইভেট  চিকিৎসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
বিএমএ’র সভাপতি আরও বলেন তাদের দাবি দ্রুত পূরণ না হলে সরকারি পর্যায়ের সব ধরনের চিকিৎসা বন্ধ করার বিষয়েও তারা  চিন্তাভাবনা করছেন। বাদীকে ডেকে নিয়ে হুমকি প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, হুইপ আতিক সাহেবের কার্যালয়ে বাদী পক্ষকে নিয়ে  বসার পর আপোষের কথাবার্তা হলেও পরবর্তীতে বাদীপক্ষ অস্বীকার করায় তা করা যায়নি।
উপরে