আপডেট : ৩ মে, ২০১৬ ১৩:০৭

আবারও শাহজালালে যাত্রীর মলের সঙ্গে বেরুলো সোনার বার

অনলাইন ডেস্ক
আবারও শাহজালালে যাত্রীর মলের সঙ্গে বেরুলো সোনার বার

কিছুদিন পরপরই বিদেশ যান নূর আলম। সবাই জানেন ঘুরতে যান কিন্তু আসলে তিনি বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে সোনা আনতে যান। এবারও গিয়েছিলেন, ঠিকমতো শাহজালাল বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌছলেনও। কিন্তু বিধিবাম। এবার ধরা খেতে হলো শুল্ক কর্মকর্তাদের হাতে। ধরা খেয়ে প্রথমে অস্বীকার পরে স্বীকার করতে বাধ্য হন তার মলদ্বারে লুকানো আছে সোনার বার!

২ মে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। মালয়েশিয়া থেকে ওডি ১৬২ উড়োজাহাজে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন নূর আলম। ছয় নম্বর বেল্ট থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হওয়ার সময় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের নজরে পড়েন। প্রথমে সোনা লুকিয়ে আনার কথা অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। হুমকিও দেন। পরে বুঝতে পারেন উপায় নেই। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নূর আলম স্বীকার করেন, ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি মলদ্বারে বিশেষভাবে ১০০ গ্রাম ওজনের সোনার বারগুলো লুকিয়ে আনেন। সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করে সেগুলো বের করার জন্য নূর আলমকে চাপ দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের ভয় দেখানো হয়। শরীরের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুকানো আছে—এ কথাও বোঝানো হয়। একপর্যায়ে রাজি হন নূর আলম।

পরপর চার গ্লাস পানি খেলেন। কাস্টমস হলে হাঁটাহাঁটি করলেন। এরপর আরও পানি পান করলেন। অস্ত্রোপচারের ভয়ে এসব করতে বাধ্য হলেন নূর আলম। এত সব ধাপ পার হয়ে অবশেষে শৌচাগারে যাওয়া। একে একে মলদ্বারে বিশেষ কায়দার লুকিয়ে রাখা ছয়টি সোনার বার বের করলেন বিমানযাত্রী নূর আলম। সেগুলো হাতে করে টেবিলে রেখে শুল্ক কর্মকর্তাদের বললেন, ‘এই নিন আপনার রাষ্ট্রীয় সম্পদ।’

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনি বহুবার বিদেশ সফর করেছেন। পেশার সঙ্গে এই ভ্রমণ বেমানান। গত পাঁচ মাসে তিনি ছয়বার বিদেশ গেছেন।

শুল্ক বিভাগের ভাষ্যমতে, নূর আলমের কাছ থেকে পাওয়া মোট সোনার পরিমাণ ৭০০ গ্রাম। আনুমানিক দাম প্রায় ৩০ লাখ টাকা। নূরের কাছ থেকে ১০০০ এমএল যৌন উত্তেজক জেলও জব্দ করা হয়। নূরের বাড়ি খুলনায়। তাঁকে জেলহাজতে রাখা হয়েছে।

উপরে