আপডেট : ২৬ মার্চ, ২০১৬ ১৯:২৬

কৃষ্ণকলি ও তার স্বামীর নেশার বলি জান্নাত!

বিডিটাইমস ডেস্ক
কৃষ্ণকলি ও তার স্বামীর নেশার বলি জান্নাত!

কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলি ও তার স্বামী খালিকুর রহমানের নেশার কারণেই অকাল মৃত্যুর শিকার হতে হয়েছে গৃহকর্মী জান্নাত আক্তার শিল্পীকে।

এ অভিযোগ কৃষ্ণকলিরই অনেক ‌‌আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের।

তাদের অভিযোগ, নেশাগ্রস্ত থাকতেন বলেই যখন তখন ক্ষেপে যেতেন কৃষ্ণকলি ও তার স্বামী। তাদের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ আছে। গৃহকর্তার নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছে জান্নাতের।

কিন্তু অভিযোগ থেকে তাদের ‍বাঁচিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এক শ্রেণির সুশীল। তবে সচেতন মহল মনে করেন, কোনো ব্যক্তির দিকে না তাকিয়ে আইনকে তার আপন গতিতে চলতে দেওয়া উচিৎ।

বর্তমানে নিহত গৃহকর্মীর গলা ও মুখে ‌এবং কৃষ্ণকলির স্বামীর মুখাবয়বে যে আঘাত ও আঁচড়ের চিহ্ন আছে সেগুলোকে ঘিরেই এগিয়ে চলছে তদন্তের কাজ।

কৃষ্ণকলির রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলার বাসায় দেড় মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে জান্নাত। বুধবার (২৩ মার্চ) ওই বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান খালিকুর রহমান। সেখানে জান্নাতকে মৃত ঘোষণার পর হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়না তদন্ত করা হয়।

এ সময় খালিকুর রহমানের মুখে খামচি ও আঁচড়ের দাগ দেখে তাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সন্দেহজনক ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে জান্নাতের মা হালিমা খাতুন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেছেন। জান্নাতের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার কালদোয়ার গ্রামে।

এ মামলার ভিত্তিতে হলে গৃহকর্মী জান্নাতকে হত্যা করা হয়েছে- এ সন্দেহে খালিকুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ।

দু’দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুশীল কুমার বর্মণ জানান, কৃষ্ণকলি ও তার স্বামী খালিকুর রহমানের নির্যাতনের শিকার হয়ে জান্নাত আক্তার শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে- পরিবারের  করা এমন অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত চলছে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গৃহকর্তা খালিকুর রহমানের মুখে কালো দাগ রয়েছে। জান্নাতের গলা ও মুখেও আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে খালিকুর তার মুখের কালো দাগের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য দেননি। তাই এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে কৃষ্ণকলির মোবাইল নম্বরে একাধিক বার ফোন দিয়েও তিনি রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত গৃহকর্মীর মা হালিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, কৃষ্ণকলি ও তার স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার মেয়ে মারা গেছে। মৃত্যুর আগে  বাসার কাজ নিয়ে তারা বিভিন্ন সময় বকাবকি করতেন।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে,  এটি হত্যা না কি আত্মহত্যা সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এর আগে জান্নাতের মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোজাম্মেল হকও জানান, নিহত মেয়েটির মুখে ও গলায় দাগ ছিল। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা তা বোঝা যাবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে