আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১১:০১

মধ্যরাতে জেনেভা ক্যাম্পের রাস্তায় খ্যামটা নাচ!

গোটা তিনেক মেয়ে আবেদনময়ী পোশাকে। এর মধ্যে দুইজন বসে আছে। একজন নাচছে। সেতো কোনও নাচ নয়, স্রেফ অশ্লীলতা।
অনলাইন ডেস্ক
মধ্যরাতে জেনেভা ক্যাম্পের রাস্তায় খ্যামটা নাচ!

তখন মধ্যরাত পার হয়েছে মাত্র। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের মুস্তাকিম-মুরসালিনের কাবাবের দোকানের সামনে সাধারণত এই সময় রাতের যৌবন নামে। আর থার্সডে নাইট হলে তো কথাই নেই। রাত যত বাড়ে এখানে মানুষের আনাগোনা আরা হৈ-হল্লা বাড়তে থাকে। কাবাব খাওয়ার ধুম পড়ে। 
তবে এবারের বৃহস্পতিবার দিনগত রাতটি ছিলো ভিন্ন। একদম থমথমে। মুস্তাকিমের কাবাব ঘরের সাটার পড়ে গেছে রাত ১২টার আগেই। মুরসালিনের কাবাব ঘরের চুলা নিভেছে। এখন শুধুই গোছানোর পালা। আবদুল খালিদের হাতে পরিচালিত পানের দোকানটিই যা একটু জৌলুস ছড়াচ্ছে গোটা মোড়টাতে। কেউ কোনও কথা বলতে চায় না। মালিকদের বা বড়দের কেউ নেই। দোকানের কয়েকজন কর্মচারী। তাদের মুখে রা নেই। জিজ্ঞাসা করলেই বলেন আমরা কী জানি। 
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই জেনেভা ক্যাম্পে চলেছে সংঘর্ষ। সে সংঘর্ষ মাদক ব্যবসা নিয়ে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্স এতটাই সহিংসতায় রূপ নেয় যে তার রেশ এই মধ্যরাতেও চলছে। মুস্তাকিমের কাবাব ঘরের সামনে দেখা হলো এক তরুণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, রাতে খাবার কেনার জন্য এসেছিলেন কিন্তু না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বললেন, আজ থার্সডে নাইট। এই রাতে আমাদের অনেক রাত অবধি ফূর্তি হয়নি এমনটা খুব কমই আছে। কিন্তু আজ আর ফূর্তি নেই। কেন? সে প্রশ্নের উত্তরে বরং পাল্টা ছুঁড়ে দিলেন, আপনি সাংবাদিক, আপনি জানেন না, কেন। 
মূলত মাদককে কেন্দ্র করে জেনেভা ক্যাম্পে দীর্ঘ সহিংসতা। এই মাদক আর কাঁচা টাকার ঝনঝনানি, অপেক্ষাকৃত ছোটদের বখে যাওয়া, কথায় কথায় এর ওপর ও চড়াও হওয়া এসব ভালো মনে করেন না এই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমরাও এই ক্যাম্পেই বড় হয়েছি। কিন্তু আমরাতো এসব মাদকের মধ্যে যাই নি, বরং ব্যবসা করে উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। মনখারাপ করে চলেই গেলেন ওই ব্যবসায়ী। দোকানে কর্মচারীদের মধ্যেও যেনো প্রাণ নেই। এবার উল্টোদিকে ক্যাম্পে ঢোকার মূল সড়ক ধরে ঢুকে দেখা গেলো সেখানে অধিকাংশ দোকানপাটই বন্ধ। ওষুধের দোকানসহ কয়েকটি খোলা। তেমনই একটি ওষুধের দোকানে দেখা হলো অারেক যুবকের সঙ্গে। তিনিও ক্ষিপ্ত। লেখাপড়া করে বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বলেন, আগে এমনটা ছিলো না। আমাদের ছেলেবেলায় দেখেছি এখানে মুরুব্বিদের কথা কেউ ফেলতে পারতো না। এখন কেউ কাউকে মানে না। মুরুব্বি যারা তারাই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়। আর পুলিশকে জেনেভা ক্যাম্পের অসাধু চক্রের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলেই মনে হয় এই যুবকের। 
রাত ১টার মধ্যেই ওষুধের দোকানও বন্ধের উদ্যোগ নিলেন দোকানি। সেখান থেকে এগিয়ে অপর গলির ভেতর থেকে আসছিলো উচ্চ শব্দের হিন্দি গান। এগিয়ে গিয়ে দেখা গেলো সেখানে গানের সঙ্গে খ্যামটা নাচের আসর বসেছে। গোটা তিনেক মেয়ে আবেদনময়ী পোশাকে। এর মধ্যে দুইজন বসে আছে। একজন নাচছে। সেতো কোনও নাচ নয়, স্রেফ অশ্লীলতা। আর এক যুবক হাতে টাকার বান্ডিল নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই মেয়েকে একের পর এক একশ’ টাকার নোট তুলে দিচ্ছে। নাচের আসর আরও জমবে, অন্য মেয়েরাও নাচবে। তাতে পয়সা ছিটানো হবে। রাজধানীর ভেতরেই কোনও একটি গলিতে এমন একটি দৃশ্য অনেকের পক্ষে ভাবনায় আনাও অসম্ভব। কিন্তু জেনেভা ক্যাম্পের গলিতে এটাই বাস্তবতা। বিশেষ করে যখন গোটা ক্যাম্প আগের দিনের সংর্ঘর্ষের জেরে অনেকটাই প্রাণহীন তখন এই নাচতো আরও বেমানান। কিন্তু এটাই নাকি জেনেভা ক্যাম্পের বিশেষত্ব, বললেন অনেকেই।

সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

উপরে