আপডেট : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৯:০৯

নিরাপদে মাদক ব্যবসা করতে বাড়ির সামনে সিসি ক্যামেরা

বিডিটাইমস ডেস্ক
নিরাপদে মাদক ব্যবসা করতে বাড়ির সামনে সিসি ক্যামেরা

বাড়িতে ঢোকার পথেই একটি গাছে লাগানো তিনটি সিসি ক্যামেরা। উদ্দেশ্য বাড়িতে কে বা কারা আসে নজর রাখা। বিশেষ করে পুলিশ আসে কিনা তা খেয়াল রাখাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। যাতে করে নিরাপদে মাদক ব্যবসা করা যায়। বেশ কিছুদিন ধরেই চলাছিল মাদক ব্যাবসা। কিন্তু বিধিবাম। নিজেই মাদক সেবন করতে গিয়ে ধরা খেলেন পুলিশের হাতে।

ঘটনাটি ধুনট উপজেলার মাঠপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর। পৌর এলাকার অফিসারপাড়ার মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি করে আসছিল ইউসুফ। মাদক বিক্রির মূল জায়গা ছিল ইউসুফের বাড়ি। তাইতো বাড়িতে ঢোকার মুখে সিসি ক্যামেরা।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে মাদক সেবন করার সময় শেরপুর-ধুনট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাতেই তাঁদের ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুর রহমানের সামনে হাজির করা হয়।আদালতের সামনে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করায় তাঁদের এক বছর করে কারাদণ্ড দেন হাফিজুর রহমান।

তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ইউসুফ আলীর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় গাছের সঙ্গে বাঁধা তিনটি সিসি ক্যামেরা পাওয়া যায়। ধনুট থানার ওসি (তদন্ত) পঞ্চনন্দ সরকার বিডিটাইমস৩৬৫.কমকে জানান, ‘পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিরাপদে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিল ইউসুফ। এ কারণে পুলিশ তাঁর বাড়ির কাছে এলে তা আগেই জানতে পারত সে। মাদকদ্রব্যসহ পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত। প্রায় মাস খানেক আগে এ ক্যামেরাগুলো বসানো হয়।’

পঞ্চনন্দন সরকার আরও জানান, ‘ইউসুফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সিসি ক্যামেরা, একটি টিভি, একটি মনিটর, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও মাদক সেবনের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। আজ বিকেল তিনটার দিকে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তবে ভিন্ন দাবি ইউসুফের। তার দাবী ‘আমার বাড়িতে কে আসে বা যায়, সেটা দেখার জন্যই সিসি ক্যামেরাগুলো লাগানো হয়েছে। কারও বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগানো কি অপরাধ? আমার নিকট কোনো মাদক ছিল না। পুলিশ সন্দেহ করে আমাকে গ্রেপ্তার করে আর ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিয়েছে।’

ধুনট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম মাসুদ রানা বলেন, ‘ইউসুফ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। শুধু আমি কেন, এলাকার সবাই বিষয়টি জানে। অনেকবার পুলিশকে দিয়ে তাঁকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করানো হয়েছিল। জামিনে বের হয়ে ইউসুফ আবারও মাদক ব্যবসা শুরু করে।’

উপরে