আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০১৬ ২০:০৩

কীর্তিকলাপ সুবিধার ছিলো না এস আই মাসুদের

নিজ এলাকায় ছিলো মাদকের সঙ্গে সখ্য
বিডিটাইমস ডেস্ক
কীর্তিকলাপ সুবিধার ছিলো না এস আই মাসুদের

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে নির্যাতনকারী এস আই মাসুদ শিকদারের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে।এলাকার মানুষ তার এবং তার ভাইদের কর্মকান্ডে ব্যাপক ক্ষুব্ধ।

তাদের দাপট ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং হয়রানিতে এলাকার মানুষ তটস্থ হয়ে থাকে সব সময়। এক সময় পারিবারিকভাবে অস্বচ্ছল থাকলে পুলিশে চাকরির সুবাদে এখন বিত্তশালী পরিবার হিসাবে এলাকায় পরিচিত। গ্রামের বাড়িতে টিনশেট ঘর থাকলেও সোয়াইতপুর বাজারে রয়েছে একটি বিশাল বাউন্ডারি করা বাসাবাড়ি। ছুটিতে বাড়িতে আসলে সেই বাসায় বসেই এলাকায় রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করত মাসুদ।

পুলিশের উপ-পরিদর্শক হওয়ায় এলাকার মানুষ তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায়না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানান, মাসুদ শিকদারের সঙ্গে উঠতি বয়সের যুবকদের শক্তিশালী একটি বাহিনী আছে। সেই যুবকদের দিয়ে ঢাকায় চাঁদাবাজি করানোর অভিযোগও রয়েছে। ছুটিতে বাড়ি আসলে সেই বাহিনীর সাথে আরও যোগ হয় উপজেলা শহরের ৭/৮ জনের একটি গ্রুপ। সারারাত সোয়াইতপুর বাজারের বাসায় চলে রমরমা মাদকের আড্ডা ও বেচাকেনা। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীদের মানুষ বলে পাত্তাই দেয় না সে।

কৃষক পরিবারের জন্ম নেয়া মাসুদ শিকদার এলাকায় চলাফেরা ও উঠতি বয়সের যুবকদের মধ্যে টাকা পয়সা ছড়ানো দেখে মনে হয় কোটিপতির ঘরে জন্ম তার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোয়াইতপুর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, মাসুদ শিকদারের ভাই দম্ভোক্তি করে বলছে, আমার ভাইয়ের কিছুই হবে না, তাকে ক্লোজড করা হয়েছে মিডিয়াকে দেখানোর জন্য, তার হাত অনেক লম্বা, কয়েকদিন পর সব আগের মতো হয়ে যাবে। সোয়াইতপুর গ্রামের মরহুম সিরাজ আলী শিকাদারের পুত্র এস আই মাসুদ শিকদার এলাকায় আবদুল্লাহ নামে পরিচিত।

পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরীতে যোগদান করে প্রায় ১৪ বছর আগে বিবাহ করেন পাশ্ববর্তী সোয়াইতপুর পূর্বপাড়া গ্রামের ডাকাত সর্দার হিসেবে পরিচিত আনসার ডাকাতের কন্যা রুমাকে। সেই থেকে মাসুদ শিকদারের উত্থান। এস আই মাসুদ শিকদারের পিতা সিরাজ আলী শিকদার বিয়ে করেছিলেন ৩ টি। ছোট স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে সবার বড় মাসুদ শিকদার পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি নেন।

ছোট ভাই স্থানীয় আলাদীন’স পার্কে চাকরি’র আড়লে নারী ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। আরেক ভাই বিদেশে থাকেন বলে পরিচয় দিলেও সে মূলত: ঢাকায় মাসুদ শিকদারের মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি’র টাকা আনা নেয়া করে বলে একাধিক সূত্র জানায়। ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে নির্যাতন ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর ঘটনা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারেন এলাকাবাসী। এঘটনা জানাজানির পর থেকে সোয়াইতপুর গ্রামসহ উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচার দাবী করেছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/

উপরে