আপডেট : ৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১৪:১৮

বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন মাহমুদউল্লাহ?

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন মাহমুদউল্লাহ?

দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে চোটগ্রস্ত কাঁধের জন্য দুই সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মাহমুদ উল্লাহকে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স-উত্তরা স্পোর্টিংয়ের ম্যাচ। যে ম্যাচটি চলাকালীন কাল দুপুরে লম্বা সময় ধরে রানিং করলেন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। ২০১৫-র আসরে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মাহমুদের ব্যাট থেকে তিন অঙ্কছোঁয়া ইনিংস বেরিয়েছিল ২০১৭-র চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপে সে রকম কিছু করার জন্য তিনি যেতে পারবেন তো? নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ডান কাঁধের চোট নিয়ে ফেরা এবং এরই প্রতিক্রিয়ায় দুই সপ্তাহের বিশ্রাম তুলে দিয়েছে সেই প্রশ্নও।

আশার খবর হলো, মাহমুদ উল্লাহর চোট তাঁর বিশ্বকাপ অনিশ্চিত করে দেওয়ার মতো নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হলেও সেটি আবার একেবারে শুয়ে-বসে কাটানোরও নয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী যেমন বলেছেন, ‘কাঁধের ওপর চাপ না দিয়ে কিছু কার্যক্রম সে চালিয়ে যেতে পারবে। জিম-রানিং করতে পারবে। তবে ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি বিশ্রামেই থাকছে।’ কাল লম্বা সময়ের রানিং মাহমুদ উল্লাহর নিজের ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টারই অংশ। নিউজিল্যান্ড সফরে ডাইভ দিয়ে ফিল্ডিং করতে গিয়ে কাঁধে চোট পাওয়া এ ব্যাটসম্যানের অবশ্য আপাতত ম্যাচ প্রস্তুতির কোনো সুযোগই নেই।

কথা ছিল নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ফিরে কিছুদিনের বিশ্রামের পর শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের হয়ে খেলবেন ডিপিএলে। তবে এই চোটে সেটি আর হচ্ছে না। দেবাশীষ জানিয়েছেন, ‘দুই সপ্তাহ পর আমরা আবার ওর অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখব।’

কাল যখন তিনি বিশ্রামের খবর সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, তখন এ প্রশ্নও অবধারিতভাবেই এলো যে এ রকম চোট মাহমুদ উল্লাহর বিশ্বকাপ অনিশ্চিত করে দেওয়ার মতো কি না। জবাবে দেবাশীষের বক্তব্যে নিরাশার চেয়ে আশাই বেশি, ‘মাহমুদ উল্লাহ বিশ্বকাপ খেলতে পারবে কি না, তা অনেক পরের ব্যাপার। কারণ বিশ্বকাপ শুরু হতেও তো এখনো অনেক দিন বাকি। এর আগে আমাদের ভাবা উচিত যে সে আয়ারল্যান্ড সিরিজটি (ত্রিদেশীয় সিরিজ) খেলতে পারবে কি না। তবে এ রকম ইনজুরি নিয়ে কিন্তু অনেকেই ক্রিকেট খেলছে।’

মুশফিকুর রহিম যেমন গত বছর পুরো এশিয়া কাপেই খেলেছেন পাঁজরের চোট সহ্য করে। মাহমুদ উল্লাহর চোট কাঁধে হলেও একই সমস্যায় অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করাতে হয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে। তবে মাহমুদ ব্যাটসম্যান হওয়ায় তাঁর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তা ছাড়া হাতে এখনো যথেষ্ট সময় আছে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন যেমন বলেছেন, ‘মাহমুদের চোট যে খুব গুরুতর কিছু, এ রকম কোনো তথ্য আমরা এখনো পাইনি। মনে হয় না গুরুতর কিছু।’ বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগেই মাহমুদ সেরে উঠবেন বলেও আশাবাদী তিনি, ‘বিশ্বকাপ দল ঘোষণার ডেডলাইন ২২ এপ্রিল। এর আগেই ওর বিশ্রাম শেষ হচ্ছে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দল দেশ ছাড়বে ১ মে। বিশ্বকাপ ৩১ মে থেকে। কাজেই আমাদের হাতে এখনো প্রচুর সময় আছে। আমি তাই উদ্বিগ্ন হচ্ছি না।’

মিনহাজুলের উদ্বেগ বরং অন্য জায়গায়। চোটের জন্য মাহমুদ উল্লাহর প্রিমিয়ার লিগ খেলার সম্ভাবনা না থাকলেও বিশ্বকাপ দলের সম্ভাব্যদের প্রায় সবাই খেলছেন। কিন্তু তাঁদের অনেকের পারফরম্যান্স সন্তুষ্ট করতে পারছে না প্রধান নির্বাচককে, ‘কারো কারো তো ফর্মও নেই। এখন সৌম্য সরকার যেমন খেলছে, তাতে কি ও ফর্মে আছে বলা যায়?’

তা যাক বা না যাক, এ মুহূর্তে মাহমুদ উল্লাহর চোট নিয়েই সাধারণ্যে উদ্বেগটা বেশি। তা আরো না বাড়াতেই দুই সপ্তাহের বিশ্রাম। আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৭ মে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেই হিসাবে বর্ধিত বিশ্রাম পাওয়া মাহমুদ উল্লাহর হাতে এখনো মাসখানেক সময় আছে। বিশ্বকাপ তো আরো পরে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে