আপডেট : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:৫৫

'যেকোন একটি বেছে নিতে হবে মাশরাফিকে'

অনলাইন ডেস্ক
'যেকোন একটি বেছে নিতে হবে মাশরাফিকে'

হঠাৎ ঘোষণা আসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাণ ভোমরা মাশরাফি বিন মর্তুজা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদে লড়বেন। খবরটি তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে মাশরাফির ভক্ত-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। বেশিরভাগ মানুষের এই ঘটনা অপছন্দ করা দিয়েই বোঝা যায় যে মাশরাফির রাজনীতি করার পরিবেশ এখনও দেশে তৈরি হয়নি।

কারণ একজন খেলোয়াড় দেশের সকল মানুষের কাছে সমান কিন্তু রাজনীতিবিদদের সমর্থন কিন্তু দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। কারণ তাকে তো একটা দলের হয়ে কাজ করতে হবে। অন্যরা তার দোষ খোঁজার জন্য ব্যস্ত হয়ে থাকবে আর সব সময় কুৎসা রটাতেই থাকবে।

নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করা অধিকাংশ মানুষই মনে করেন, ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি ‘অবসর’ নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেয়া উচিত ছিল মাশরাফির। যদিও পেশাদার খেলা চালিয়ে যাওয়া অবস্থাতেই সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার উদাহরণ বিশ্বের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে নতুন নয়।

ক্রিকেটারদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর না নিয়েই শ্রীলঙ্কার ২০১০ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন; পরবর্তীতে তিনি ঐ নির্বাচনে বিজয়ীও হন। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই ঘটনা এবারই প্রথম।

বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে অধিনায়ক মাশরাফি বা অন্য কোনো ক্রিকেট খেলোয়াড়ের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বিসিবির কি কোন বিধিনিষেধ রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবির মুখপাত্র জালাল ইউনুস জানিয়েছিলেন, মাশরাফি তার ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের পর তিনি খেলা থেকে রিটায়ার করবেন। এটা কোন নিয়ম নাই যে কোন ক্রিকেটার রাজনীতি করলে খেলতে পারবেন না।

তার মতে, এটা যার যার সাংবিধানিক অধিকার। উনি যদি মনে করেন যে, রাজনীতির পাশাপাশি তিনি খেলাতেও পারফর্ম করতে পারবেন, তাহলে আমাদের কোনো নিয়ম নাই যে আমরা তাদেরকে কোনো বাঁধা দিতে পারবো। তাছাড়া মাশরাফিকে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য এক মাস দেড় মাস ব্যস্ত থাকবেন। বাকিটা তিনি ম্যানেজ করে নেবেন।

একই সঙ্গে রাজনীতি আর ক্রিকেট। দু’টো সমান তালে চালিয়ে যাওয়া কি সম্ভব? প্রভাব পড়বে নাতো মাঠের ক্রিকেটে? ম্যাশের পূর্বসূরী বর্তমান সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্পষ্ট জবাব, প্রভাবতো পড়বেই। তবে ক্রিকেটে মাশরাফির শেষ দেখে ফেলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

তার মতে, বিশ্বকাপ খেলেই অবসরে যেতে পারেন মাশরাফি। ফলে তার রাজনীতি করতে কোনো সমস্যা নেই।

বিসিবি সভাপতি বলেন, মাশরাফি খেলোয়াড় হিসেবে নয় ক্যাপ্টেন হিসেবে মাঠে রয়েছে, আমাদের টিমে রয়েছে। এটিই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ওর মতো ক্যাপ্টেন আর পাবো বলে মনে হয় না। বিশ্বকাপের পরে হয়তো বা সে অবসরে যেতে চাইবে। আর যদি তাই হয় তাহলে আমার কাছে মনে হয় এর চেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত আছে বলে মনে হয় না। এখান থেকে সে রাজনীতিতে গেলো।

নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেন, বিশ্বকাপের পরে হয়তো মাশরাফি অবসরে যাবে। এমপিদের অনেক কাজ। দুইটা আসলে একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।

তবে পাপন মনে করেন, মাশরাফি সাংসদ নির্বাচিত হলে খেলাধুলার আরও উন্নতি হবে। আর দুর্জয় শুভকামনা জানিয়েছেন সাবেক সতীর্থকে।

দুর্জয় বলেন, আমি যখন ক্যাপ্টেন ছিলাম তখন মাশরাফি দলে এসেছিল। রাজনীতিতেও মাশরাফি ভালো করুক, সফল হোক আমি সেটাই চাই।

পাপন বলেন, আমার মনে হয়, মাশরাফি আরেকটা লাইনে থাকলো। এর মাধ্যমে ক্রিড়া ক্ষেত্রে সে আরো উন্নতি ঘটাতে পারবে। জোরালোভাবে এটাই আমার বিশ্বাস।

এরই মধ্যে নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

উল্লেখ্য, ১২ নভেম্বর (সোমবার) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা করেন। নতুন তফসিলে ভোটগ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৮ নভেম্বর।

উপরে