আপডেট : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:০৯

জিম্বাবুয়ে সিরিজে সফলতা নাকি ব্যর্থতা, কী পেল বাংলাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক
জিম্বাবুয়ে সিরিজে সফলতা নাকি ব্যর্থতা, কী পেল বাংলাদেশ?

টেস্ট জয়ের মধ্য দিয়ে গতকাল আরও একটি সিরিজ শেষ করলো বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয় তুলে নিলেও সিরিজটি নিজেদের করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টে চরম ব্যর্থতার কারণেই সিরিজটি হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। টেস্টে ব্যর্থ হলেও ওয়ানডেতে বাংলাদেশ তাঁদের একক আধিপত্য ধরে রাখে।

এশিয়া কাপের পরপরই জিম্বাবুয়ে সিরিজ শুরু হয়। এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা বাংলাদেশ সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখে ওয়ানডে সিরিজেও। ওয়ানডে সিরিজে রানে ফিরেছেন ওপেনাররা। ইমরুল কায়েস ছিলেন পুরো সিরিজ জুড়ে অপ্রতিরোধ্য। প্রথম ম্যাচে ১৪৪ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ১০ রানের জন্য টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করার সুযোগ নষ্ট করেন ইমরুল। দ্বিতীয় ম্যাচে এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরির পর আবারও রানে ফেরেন লিটন দাস। ৮৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। ওপেনিং জুটিতে ১৪৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় ম্যাচে লিটন ব্যর্থ হলেও ইমরুল আবারও তুলে নেন সেঞ্চুরি। এদিকে অনেক দিন পর সুযোগ পেয়ে জ্বলে ওঠেন সৌম্য সরকার। দীর্ঘ দুই বছর রান খরায় থাকা সৌম্য ৯২ বলে ১১৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। সব মিলিয়ে ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা এই সিরিজে দারুণভাবে রানে ফেরেন।

নিজেদের প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডে সিরিজ থেকে টেস্টে ফিরতেই পারফরম্যান্সের সূচক নিচের দিকে যায় বাংলাদেশের। প্রথম টেস্ট সিলেটে দারুণভাবে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের কাছে ১৫১ রানের লজ্জার হার দেখতে হয় স্বাগতিকদের। এমন পরাজয়ে দারুনভাবে সমালোচিত হয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট।

সিলেট টেস্টের আগে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবাই শেষ ৭ ইনিংসে চরমভাবে ব্যর্থ ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শেষ ৭ ইনিংসে এভারেজ রান ছিল মাত্র ৬। এই সাত ইনিংসে তাঁর সর্বোচ্চ রান ছিল মাত্র ১৭। মুমিনুল হকও ছিলেন শেষ ৭ ইনিংসে দারুণভাবে ব্যর্থ। মমিনুল হক তার খেলা শেষ ৭ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন। সব মিলিয়ে ৮ রান গড়ে করেন ৫৯ রান। চারটি ইনিংসে তিনি কোনো রান করতে পারেননি।

ইমরুল কায়েস শেষ ৪ ইনিংসে রান করেন মাত্র ৬০ রান। সর্বোচ্চ ১৯ রান আসে এই চার ইনিংস থেকে। এভারেজ মাত্র ১৫। আরেক ওপেনার লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১১৮ রান। সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে তার খেলা শেষ ৭ ইনিংসে।বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিক। মুশির শেষ সাত ইনিংসের গড় মাত্র ১৭ রান। রান করেছেন ১২১ রান। শেষ ৭ ইনিংসে সিলেট টেস্টের ৩১ রানই সর্বোচ্চ ইনিংস।

সব মিলিয়ে দারুণভাবে আশাহত করেন দলের মুল খেলোয়াড়রা। সে কারণে বাংলাদেশকে এমন লজ্জার সম্মুখীন হতে হয় প্রথম টেস্টে।

দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স মুদ্রার আরেক পিঠ দেখিয়ে দেয়। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৫২২ রানের পাহারসম রান জড়ো করে। যেখানে আগের কয়েকটি টেস্টের একটি ইনিংসেও বাংলাদেশ ২০০ রান পাড় করতে পারেনি।

দলের বড় রানের পাশপাশি রানে ফেরে ব্যর্থ ব্যাটসম্যানরা। মুমিনুল হক প্রথম ইনিংসে ১৬১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। মুমিনুল হককেও ছাপিয়ে যান মুশফিক। তুলে নেন নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় ইনিংসে চমক দেখান অধিনায়ক রিয়াদ। দীর্ঘ আট বছর অপেক্ষার পর অবশেষে নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেই এই ব্যাটসম্যান।

পুরো টেস্ট সিরিজে তাইজুল ইসলাম ছিলেন এক কথায় অনন্য। ইনজুরির কারণে সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে একদমই টের পেতে দেননি তিনি। দুই টেস্ট মিলিয়ে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন এই বোলার।

বাংলাদেশের অনেকদিনের স্বপ্ন ছিল লম্বা দ্রুত গতির পেস বোলারের। জিম্বাবুয়ে সিরিজেই অভিষেক হয় খালেদ আহমেদের মতো লম্বা বোলারের। উইকেট না পেলেও পুরো সিরিজ জুড়েই দারুণ বোলিং করেছেন তিনি। নিয়মিত ১৪০ কি.মির আশেপাশে বোলিং করেছেন তিনি।

টেস্টে বোলিং-ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টের ব্যর্থতার থেকেও সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে ফিল্ডিং। একের পর এক মিস ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সহজ ক্যাচ মিস করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের এমন হারের পেছনে ফিল্ডিং অনেকটাই দায়ী। দ্বিতীয় টেস্ট বাংলাদেশ জয় পেলেও সেখানেও ছিল মিস ফিল্ডিং ও ক্যাচ মিসের মহড়া। 

সব মিলিয়ে প্রথম টেস্ট ব্যতীত বাংলাদেশ দারুণ একটা সিরিজ কাটিয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টে দুই ডিপার্টমেন্টের সফলতা পরবর্তী সিরিজেও টেনে নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে। সেই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ে ব্যাপক উন্নতি করতে হবে দলের সবাইকে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে