আপডেট : ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:৫৭

জিম্বাবুয়েকে ‘ফলোঅন’ করাবে বাংলাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক
জিম্বাবুয়েকে ‘ফলোঅন’ করাবে বাংলাদেশ?

শেষ ব্যাটসম্যান ব্যাটিংয়ে নামার আগেই ফলোঅনে পড়তে হয়েছে জিম্বাবুয়েকে। অতিথিদের ১১ তম ব্যাটসম্যান চাতারার ইনজুরির কারণে তাঁর আর ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ হয়নি। সে কারণে মাত্র ১৮ রানের জন্য ফলোঅনে পড়তে হয়েছে জিম্বাবুয়েকে। দিনের খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত জানা যায়নি জিম্বাবুয়েকে আবারও ব্যাটিংয়ে পাঠানো হবে কিনা।

১৩১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়েকে দেখেই মনে হয়েছিল ফলোঅনে পড়তে যাচ্ছে তাঁরা। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে ব্রেন্ডন টেইলর ও পিটার মুরের ১২৯ রানের অনবদ্য এক জুটির কারণে জিম্বাবুয়েকে ফলোঅনে ফেলার স্বপ্ন অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছিল টাইগারদের। কিন্তু শেষ বিকেলে তাইজুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণে জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত ফলোঅনে পড়তে বাধ্য হয়ে।

জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশ থেকে ২১৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে। চরম বুদ্ধি দীপ্ততার সঙ্গে এখন বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কাল ম্যাচের চতুর্থ দিন। পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচে চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে ব্যাটিং করা তুলনামূলকভাবে কঠিন কাজ যেকোনো দলের জন্য। সে কারণে অনেকটাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্তটা নিতে হবে টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।

জিম্বাবুয়েকে ২১৮ রানের আগেই বেঁধে ফেলার মতো শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ বাংলাদেশের রয়েছে কিনা সেটা ভেবে দেখতে হবে। আবারও ম্যাচের চতুর্থ দিন ব্যাটিং করা সহজ নয়। সে হিসেবে জিম্বাবুয়েকে এই রানের মধ্যেই অল আউট করার একটি চ্যালেঞ্জ নিতে পারে বাংলাদেশ।

কিন্তু কোনো কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়ে ঘুরে দাঁড়ালে বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। কেননা শেষ ইনিংস ও ম্যাচের পঞ্চম দিন ১৫০ রানের টার্গেটও অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাল জিম্বাবুয়ে যে দ্বিতীয় টেস্ট জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে এমনও না। কাল আবারও ব্যাটিংয়ে নামলে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য থাকবে যতক্ষণ সম্ভব ক্রিজে টিকে থাকা এবং ধীরে ধীরে রান তোলা। কোন কারণে জিম্বাবুয়ে ৪০০ রানের আশেপাশে কিংবা বাংলাদেশকে ১৬০-১৮০ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাড় করিয়ে দিতে পারলেই বাংলাদেশের জন্য বিপদ হতে পারে ম্যাচের শেষ দিন। অবশ্য চতুর্থ দিন ৪০০ রান করা টেস্টে প্রায় অসম্ভব। আবার ম্যাচের চতুর্থ দিন থেকে পঞ্চম দিন অর্থাৎ টানা দেড় দিন ব্যাটিং করাও কঠিন কাজ। এমন হলে বাংলাদেশের জেতা সহজ হবে। কেননা দ্রুত রান তুলতে গেলেই উইকেট হারাবে জিম্বাবুয়ে। আবার ধীরে ধীরে ব্যাটিং করলে আউট হওয়ার পাশাপাশি রানেও বেশ পিছিয়ে থাকবে জিম্বাবুয়ে।

আবার বাংলাদেশ কাল যদি জিম্বাবুয়েকে ফলোঅনে না ফেলে নিজেরাই ব্যাটিংয়ে নামে সে ক্ষেত্রে বিপদ হতে পারে বাংলাদেশের। স্বাভাবিকভাবেই কাল ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২০০ রান করেই ইনিংস ঘোষণা দিবে। কেননা ৪০০ রানের ওপরে লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হবে জিম্বাবুয়েকে। এখন পর্যন্ত ৪০০ রানের ওপর রান তাড়া করে জেতানোর ইনিংস রয়েছে মাত্র ৪টি। এমন হলে শেষ সেশনে ব্যাটিং নামবে জিম্বাবুয়ে। কোনো কারণে শেষ সেশনে উইকেট ফেলতে না পারলে ম্যাচের পঞ্চম দিন মাটি আঁকড়ে ধরে থাকার চেষ্টা করবে। শেষ দিনে ১০ উইকেট নিতে না পেরে ম্যাচ ড্র’য়ের ইতিহাস অনেক রয়েছে। এমন ইতিহাস আবারও গড়ে ফেললে সিরিজটাই হারাতে হবে বাংলাদেশকে।

সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জয়কে সহজ করে দিবে। অবশ্য ম্যাচের যেই অবস্থা সে হিসেবে বাংলাদেশের জয় অনেকটাই নিশ্চিত।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে