আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:০২

‘পুঁচকে’ বাংলাদেশই আবারও পেছনে ফেলবে উইন্ডিজকে!

অনলাইন ডেস্ক
‘পুঁচকে’ বাংলাদেশই আবারও পেছনে ফেলবে উইন্ডিজকে!

‘পা পিছলে বাংলাদেশের আরও কাছে উইন্ডিজ!’ এমনই শিরোনাম করেছে জ্যামাইকা-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার। সেখানে শুরুর অনুচ্ছেদেই বাংলাদেশকে ‘পুঁচকে’ সম্বোধর করে তারা লিখেছে, আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে এখনও তারা নবম স্থানেই পড়ে আছে, সেই সাথে আরও কাছাকাছি চলে এসেছে বাংলাদেশের।

লেখার ভাষা থেকে যে কারোই মনে হতে পারে, র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের কাছাকাছি চলে আসার মত লজ্জাজনক বুঝি আর কিছুই হতে পারে না। অথচ খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। এ বছরের মার্চ মাসেই এই ‘পুঁচকে’ বাংলাদেশই আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে পেছনে ফেলে দিয়েছিল উইন্ডিজদের। মে মাসের প্রথম দিন প্রকাশিত নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী চার পয়েন্ট অর্জন করে বাংলাদেশ পৌঁছে গিয়েছিল ৭৫ রেটিং পয়েন্টে। আর ওদিকে পাঁচ পয়েন্ট হারিয়ে উইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়িয়েছিল ৬৭। অর্থাৎ উইন্ডিজের চেয়ে পুরো আট রেটিং পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। আর এভাবেই টেস্ট স্ট্যাটাস লাভের অষ্টাদশ বছরে এসে প্রথমবারের মত র‍্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে উঠে আসে টাইগাররা।

তবে সেই সুখ অবশ্য খুব বেশিদিন সহ্য হয়নি। এই উইন্ডিজদের বিপক্ষেই তাদের মাটিতে ভরাডুবি হয়েছিল বাংলাদেশের। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তো গুটিয়ে যেতে হয়েছিল মাত্র ৪৩ রানেই। ফলাফলঃ ইনিংস ও ২১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়। পরের ম্যাচে অবশ্য কিছুটা উন্নতি হয়েছিল বাংলাদেশের। হেরেছিল ঠিকই, তবে এবার ইনিংস ব্যবধানে নয়, শুধু ১৬৬ রানে।

ফলে আট পয়েন্ট হারিয়ে, ৬৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন আবার নয়ে। ওদিকে উইন্ডিজ উঠে গিয়েছিল আটে। তবে সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ২৭২ রানে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে তারা হেরেছে দশ উইকেটে, আর তাই তাদের রেটিং পয়েন্ট এখন ৭৬। অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়ে তারা এখনও নয় পয়েন্টে এগিয়ে।

কিন্তু এমন অবস্থা যে চিরদিন থাকবে, তা তো নয়। বরং বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে নাকউঁচু উইন্ডিজদের পেছনে ফেলে আবারও র‍্যাংকিংয়ের আট নম্বরে উঠে যাওয়ার। আর তাও সরাসরি এই উইন্ডিজদের হারিয়েই।

সামনেই বাংলাদেশের আছে জিম্বাবুয়ের সাথে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। বাংলাদেশ এখন ক্রিকেট বিশ্বে জিম্বাবুয়ের চেয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে। আর যেহেতু খেলা হবে বাংলাদেশের ঘরের মাঠেই, তাই এই সিরিজের ফলাফল ২-০ ব্যবধানে বাংলাদেশের অনুকূলে আসবে বলেই পূর্বানুমান সকলের। সেক্ষেত্রে মূল্যবান দুইটি রেটিং পয়েন্ট অর্জন করবে টাইগাররা। ৬৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে উইন্ডিজের সাথে তারা ব্যবধান কমিয়ে আনবে মাত্র সাতে।

আর এরপরই নভেম্বরে ঘরের মাঠে এই উইন্ডিজের সাথেই বাংলাদেশের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। উইন্ডিজ সফরে গিয়ে বাংলাদেশ কী ফল করেছে, তা ভুলে যান। অতীত পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে বাংলাদেশ একদমই ভিন্নমূর্তিতে আবির্ভূত হবে। ২০১৬ সালে তারা ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। আর গতবছর অস্ট্রেলিয়াকে। তাই এবছর উইন্ডিজকে হারিয়ে দেয়াও অসম্ভব কিছু নয়।

ধরা যাক উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ একটি ম্যাচ জিতল। অন্যটি উইন্ডিজ জিতল। অর্থাৎ ১-১ সমতায় শেষ হলো সিরিজ। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট অপরিবর্তিতই থাকবে, কিন্তু উইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট এক কমে হবে ৭৫। অর্থাৎ বাংলাদেশের সাথে তাদের ব্যবধানও কমে হবে মাত্র ছয়। কিন্তু ধরুন বাংলাদেশ যদি একটি ম্যাচ জেতে, আর অন্য ম্যাচটি ড্র হয়? তাহলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৭৪, আর উইন্ডিজের ৭২। অর্থাৎ উইন্ডিজকে দুই পয়েন্টে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ উঠে যাবে র‍্যাংকিংয়ের আট নম্বরে।

এবার চলুন আরও একটু উচ্চাকাঙ্ক্ষী মনোভাব পোষণ করি। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থেকে এটুকু তো দিনের আলোর মত পরিষ্কার যে স্পিনে এই উইন্ডিজ দল একদমই আনাড়ি। ভারতীয় স্পিন বিষের কোনো প্রতিষেধক জানা ছিল না তাদের। তাই দুই ম্যাচেই করুণ আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে তারা। এদিকে বাংলাদেশের শক্তির জায়গাও তো এই স্পিনই। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে তো স্পিনের ফাঁদে ফেলেই কাবু করেছিল তারা।

সুতরাং একই টোটকা কেন উইন্ডিজের বিপক্ষেও ব্যবহার করা হবে না? উইন্ডিজের বিপক্ষেও বিসিবি নিশ্চয়ই স্পিন সহায়ক পিচ তৈরী করে হোম কন্ডিশনের পূর্ণ সুবিধা আদায় করে নিতে চাইবে, ঠিক যেমনটি উইন্ডিজ নিয়েছিল বাংলাদেশ তাদের দেশে সফরে গেলে। এখন বাংলাদেশ যদি স্পিন সহায়ক উইকেট তৈরী করে উইন্ডিজকে কাবু করতে পারে, আর আবহাওয়াও অনুকূলে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের পক্ষে উইন্ডিজকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে দেয়া তো অসম্ভব কিছুই না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াবে ৭৬, আর উইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট কমে হবে ৭১। অর্থাৎ পুরো পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধানে বাংলাদেশ উইন্ডিজের কাছ থেকে র‍্যাংকিংয়ের অষ্টম অবস্থানটি ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

তাহলে উইন্ডিজ মিডিয়া এখন যতই বাংলাদেশকে ‘পুঁচকে’ বলে সম্বোধন করে নিজেদের দাম্ভিকতার পরিচয় দিক না কেন, এই বছর শেষ হওয়ার আগেই হয়ত আবারও তাদের থেকে এগিয়ে যাবে ‘পুঁচকে বাংলাদেশ’ দলই।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে