আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০৯:৪৯

জন্ম নিলে মরতে হবে, তাই বলে এভাবে?

অনলাইন ডেস্ক
জন্ম নিলে মরতে হবে, তাই বলে এভাবে?

জন্ম নিলে মরতে হবে। অবধারিত মৃত্যুকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এ চিরন্তন সত্য মেনেও অনেকেই এই ধরণী ছেড়ে পরপারে যেতে নারাজ। সবারই প্রত্যাশা স্বাভাবিক এক মৃত্যুর। তারপরও সব প্রত্যাশার মাঝেও হানা দেয় অস্বাভাবিক মৃত্যু। দুনিয়ায় যত ধরণের রোমাঞ্চকর মুহূর্ত রয়েছে তার বেশিরভাগ মুহূর্তই আসে বিনোদনের মধ্য দিয়ে।

খেলা অনেকের কাছে আনন্দায়ক ও বিনোদনের একটি মুহূর্ত হলেও খেলোয়াড়দের কাছে এটি প্যাশনের জায়গা। প্যাশনের টানে অনেকে আবার খেলাকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করতেও দ্বিধা করেন না। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এশিয়া কাপে ইনজুরি আক্রান্ত দলকে টেনে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। এশিয়া কাপে সেনাপতি মাশরাফির শ্রেষ্ঠ সৈনিক ছিলেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম।

কিন্তু কখনো কখনো এই প্যাশনের জায়গা হয়ে ওঠে মৃত্যুফাঁদ। সেই মৃত্যুফাঁদে পতিত হয়ে আজ পর্যন্ত অনেক খেলোয়াড়ের নামের পাশে লেখা হয়েছে ‘নট আউট’। এমন ‘নট আউট’ খেলোয়াড়ের নিয়ে আজকের এই আয়োজন।

ফিলিপ হিউজ (অস্ট্রেলিয়া)

ক্রিকেট মাঠে মৃত্যুর সর্বশেষ ঘটনা এটি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান ফিলিপ হিউজের মৃত্যু প্রতিটি ক্রিকেট সমর্থকের মনে এখনো নাড়া দেয়। তাঁর অকাল মৃত্যুতে সম্পূর্ণ ক্রিকেট জগতকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল বেশ কিছু দিনের জন্য। ২৫ নভেম্বর, ২০১৪! হিউজের জীবনে মোকাবেলা করা শেষ বল। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া শেফিল্ড শীল্ড চলাকালীন ব্যাট করার সময় শন অ্যাবোটের একটি বাউন্সারই ওলট-পালট করে দেয় সবকিছু। এই আঘাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ও কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান হারায়। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৭ নভেম্বর ‘অপরাজিত ৬৩’ রানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হিউজের বিদায়ী ইনিংসটি সেদিন গ্যালারিতে বসে দেখছিলো তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

রমণ লাম্বা (ভারত)

বাংলাদেশের মাটিতে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে প্রথম ও সর্বশেষ প্রাণ হারানো ক্রিকেটার তিনি। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার রমণ লাম্বা ভারতে তেমন জনপ্রিয় না হলেও বাংলাদেশে ছিলেন বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে সে সময় অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন। ভারতের হয়ে ৪টি টেস্ট ও ৩২টি ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি। ভারতীয় দলে না খেললেও বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে খেলেছেন দীর্ঘ সময়। এই ক্রিকেট মাঠেই মাত্র ৩৮ বছর ৫১ দিন বয়েসে নিজের প্রাণ হারান লাম্বা। ১৯৯৮ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ও আবাহনী ক্রীড়া চক্রের পক্ষে ফিল্ডিংরত অবস্থায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ৩ দিন পর ২২ ফেব্রুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন তিনি। লাম্বার মৃত্যুতে সেসময় দেশের ক্লাব ক্রিকেটেও নেমে এসেছিলো শোকের ছায়া।

আব্দুল আজিজ (পাকিস্তান)

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বয়সে বলের আঘাতে মৃত্যু বরণ করা ব্যাক্তিটি পাকিস্তানের আব্দুল আজিজ। পাকিস্থানের প্রাক্তণ এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আব্দুল আজিজের বুকে বল লাগার কারণে মৃত্যু হয় । মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৫৯ সালের ১৭ জানুয়ারি পাকিস্থানের ঘরোয়া ক্রিকেট কায়েদ-এ-আজম টুর্নামেন্ট খেলতে যেয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বুকে বল লাগার কারনে মৃত্যু হয় পাকিস্তানের সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের।

জুলফিকার ভাট্টি (পাকিস্তান)

আব্দুল আজিজের মতো জুলফিকারের মৃত্যুর কারণও প্রায় একই ছিল। ঘরোয়া লিগে ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বলের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কিছু সময় যেতে না যেতেই ক্রিজেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মাত্র ২২ বছর বয়সেই বলের আঘাতে পৃথিবীকে বিদায় জানান।

ইয়ান ফোলি (ইংল্যান্ড)

১৯৯৩ সালে ঘরোয়া লিগের এক ম্যাচে ফোলি ব্যাটিং করার সময় চোখের নীচে বলের আঘাত পান। আঘাতে চোখের নিচে থেকে অঝোরে রক্ত বের হতে থাকে তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চিকিত্‍সার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আঘাতের ব্যথা থেকে উল্টো হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। হাসপাতালের বিছানাতেই মাত্র ৩০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

উপরে