আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪৮

হাথুরুসিংহের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ শিকার ম্যাথুস!

অনলাইন ডেস্ক
হাথুরুসিংহের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ শিকার ম্যাথুস!

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনাতে আসেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। বাংলাদেশে এসে যেমন পাইয়েছেন সফলতা, তেমনি সমালোচিত হয়েছেন নানান বিতর্কিত কান্ডে। টাইগারদের দায়িত্ব ছেড়ে এবার তিনি যোগ দিয়েছেন নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার হেড কোচ হিসাবে। তবে সেখানে যেয়েও থেমে নেই তার অরাজকতা। লঙ্কানদের বর্তমান এই কোচেকে এবার ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন দলটি অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সাথে ঘটনার সূত্রপাত চলমান এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা দলের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে। যেখানে গত ১৩ আসেরর মধ্যে এই টুর্নামেন্টের ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন হয়ে খেলতে গেছিলো শ্রীলঙ্কা। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে এবারো বেশ আটঘাট বেঁধেই প্রস্তুতি নিয়েছিলো দলটি। তবে মাঠে নামার আগেই ইনজুরি বাঁধাতে পড়ে হারাতে হয়েছিলো দলের বেশকিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। এমতাবস্থায় খেলতে নেমে গ্রুপ পর্বে একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।

আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানের হার দিয়ে শুরু। পরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছেও হেরেছে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে। দুই ম্যাচের একটিতেও শ্রীলঙ্কা দল টপকাতে পারেনি দুইশ রানের গুণ্ডি। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দুর্বল দল হংকংও যেখানে ভারতের বিপক্ষে লড়েছিল শেষপর্যন্ত, সেখানে শ্রীলঙ্কা দল গড়তে পারেনি ন্যুনতম প্রতিরোধ। এশিয়া কাপের এমন ব্যর্থতাতে তাই নিজের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হলো অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে।

ব্যাপারটি মেনে নিলেও চিঠিতে নিজের কিছু যুক্তি উপস্থাপন করেছেন এই অলরাউন্ডার। যেখানে ম্যাথুস লিখেছেন, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এসএলসিতে এক বৈঠকে নির্বাচকমণ্ডলী এবং জাতীয় দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আমাকে শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্মিত হয়েছি এবং আমার মনে হয়েছে, এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে গোটা শ্রীলঙ্কা দলের বাজে পারফরম্যান্সের খেসারত হিসেবে আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। আমি দায় নিতে প্রস্তুত তবে শুধু আমার ওপর দায় চাপালে সেটি বিশ্বাসঘাতকতা এবং আমাকে সরানোর চেষ্টা বলেই মনে হয়।’

এরপর ম্যাথুস তাঁর চিঠিতে ধারাবাহিকভাবে কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে লঙ্কান দলে সব সংস্করণে পাঁচ বছর নেতৃত্ব দেওয়ার পর গত বছরের জুলাইয়ে তিনি অধিনায়কের নেতৃত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান। নতুন নেতৃত্ব আসুক—এই ভাবনা থেকেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন বলে জানান ম্যাথুস। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উপুল থারাঙ্গা, থিসারা পেরেরা, চামারা কাপুগেদেরা, লাসিথ মালিঙ্গা ও দিনেশ চান্ডিমালের কাঁধে নেতৃত্ব দিয়ে তেমন কোনো সাফল্য পায়নি শ্রীলঙ্কা।

ম্যাথুস তাঁর চিঠিতে এসব ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘হাথুরুসিংহে হেড কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেতৃত্বভার পুনরায় গ্রহণ করার অনুরোধ করেছিলেন।’

ম্যাথুস জানিয়েছেন, হাথুরুসিংহের অনুরোধে সাড়া না দিতে ম্যাথুসকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁর পরিবার ও কাছের বন্ধুবান্ধব। কিন্তু ম্যাথুস দলের হেড কোচের ওপর আস্থা রেখে ভেবেছিলেন, দলকে পথে ফেরাতে তিনি আবার দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু এশিয়া কাপের ব্যর্থতা যে তাঁর নেতৃত্ব কেড়ে নেবে, তা বোধ হয় ম্যাথুস কল্পনায়ও ভাবেননি। শ্রীলঙ্কার এই তারকা ক্রিকেটার চিঠিতে এ কথাও জানিয়েছেন, ‘নির্বাচকমণ্ডলী এবং হেড কোচ যদি মনে করেন আমি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার মতো ফিট নই এবং দলে জায়গা পাওয়ার মতো যোগ্য নই, তাহলে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়ে নেব। কখনো দলের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।’

উপরে