আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৫৪

ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি আফগানিস্তান?

অনলাইন ডেস্ক
ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি আফগানিস্তান?

এশিয়া কাপে গতকাল শক্তিশালী শ্রীলঙ্কাকে হেসে খেলে হারায় আফগানিস্তান। আফগানদের দেওয়া ২৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫৮ রানেই অল-আউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। এশিয়া কাপ শুরুর আগে আফগানরা জানিয়ে দিয়েছিল তাঁরা এবার শুধু অংশগ্রহণ করতে আসেনি। তাঁরা এবার শিরোপা জয়ের জন্য মাঠেই নামবে। প্রথম ম্যাচে সেটাই প্রমাণ করে দেখাল আফগানিস্তান।  

কিন্তু শুরুর পথটা মসৃণ ছিল না আফগানদের। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে বসে স্বপ্ন দেখতেন নবী, শেহজাদ, রশিদরা। ক্রিকেটকে ভালবাসতেন তাঁরা। সেই ভালোবাসার মধ্যে ছিল নিজ দেশের লোকজন, নিজের পরিবারের লোকজনদের হারানোর বেদনা। সেই ভোগান্তি, অপমান, কষ্ট থেকেই নিজেদের তৈরি করে তাঁরা। নিজ দেশের জার্সি গায়ে বিশ্ব মাতাবেন এমন স্বপ্নই দেখতেন তাঁরা।

২০০৯ সাল থেকেই তাঁদের পরিবর্তন শুরু হতে থাকে। এর ঠিক আট বছর আগে অর্থাৎ ২০০১ সালে আইসিসি অনুমোদন দেয় আফগানিস্তানকে। আফগানদের এই পর্যন্ত আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান পাকিস্তান ও ভারতের। ভারতের থেকে স্টেডিয়াম ভাড়া করে আফগানরা অনুশীলন করতো। ২০০৯ সালে তারা বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে অংশ নেয়। ২০১০ সালে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আন্তঃমহাদেশীয় কাপের শিরোপা অর্জন করে তাঁরা। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

২০১১ সালে আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে ঢুকে পড়ে। সে বছর সেরা ১০ দলের মধ্যে নবম স্থান লাভ করে তারা। টি-টোয়েন্টিতে দারুণ পারফর্ম করার কারণে ২০১৩ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাসও পেয়ে যায়। এরপর আর তাঁদের পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৪ সালে এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে হারানোর সুখস্মৃতি। একই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ খেলে নবীরা। এরপরের বছর ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও তাদের পারফরম্যান্স প্রশংসা পায়।

সেই ধারাবাহিকতায় আইসিসির বড় টুর্নামেন্টের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতেও দারুণ খেলতে থাকে আফগানরা। সমসাময়িক দলগুলোর সঙ্গে প্রায় সময় সিরিজ জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে থাকে রশিদ-নবীদের। কিছুদিন আগেই শক্তিশালী বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবল ধোলাই করে আফগানরা।

আফগানিস্তানের ক্রিকেট যেই গতিতে আগাচ্ছে সেই হিসেবে আফগানিস্তান ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হতে বেশি সময়ের প্রয়োজন নেই। কেননা ইতিমধ্যে তাঁরা বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মতো দলগুলো বেশ কয়েকবার হারিয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে