আপডেট : ১৫ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:৪৩

আশরাফুলের জাতীয় দলে প্রয়োজন নেই?

অনলাইন ডেস্ক
আশরাফুলের জাতীয় দলে প্রয়োজন নেই?

ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক, ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগসহ সব ধরনের ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা থেকে দুইদিন আগেই মুক্তি পেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম পোস্টারবয় মোহাম্মদ আশরাফুল। এখন থেকে  জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য আর কোনো বাঁধা নেই আশরাফুলের।

পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করে ৫ বছর নিষেধাজ্ঞায় পড়েন সাবেক এই অধিনায়ক। যদিও দুই বছর আগে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার নিষেধাজ্ঞা কেটে যায়। এতদিন নিষেধাজ্ঞা ছিল জাতীয় দল ও বিপিএল সহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ক্রিকেট লীগে।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই আশরাফুলের ভক্ত ও সমর্থকরা আশরাফুলকে লাল সবুজের জার্সিতে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তাঁদের অনেকেরই দাবী আশরাফুলকে এখনই সুযোগ দেওয়া হোক দলে। অনেকেই আবার আশরাফুলকে এশিয়া কাপের ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দলে না রাখার জন্য বিসিবির দিকে আঙ্গুল উঠাচ্ছেন।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আশরাফুলকে দলে নেওয়া কতটুকু যৌক্তিক সেটাও ভেবে দেখতে হবে। আবেগ আর বাস্তবটা দুটি জিনিসই পুরোপুরি ভিন্ন। একসময়ের সুপারস্টার আশরাফুল বর্তমানে কেমন পারফর্ম করছেন সেটা চিন্তা করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার জন্য তিনি কতটুকু ফিট সেটাও ভাবতে হবে। 

বর্তমানে বাংলাদেশ দলের প্রধান সমস্যা ওপেনিং জুটি। তামিমকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারছেন না কেউ’ই। অনেকেই আশরাফুলকে তামিমের সঙ্গী হিসেবে সুযোগ দেওয়ার কথা চিন্তা করছেন। পারফরম্যান্স এবং ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার পর যদি আশরাফুলকে জাতীয় দলে তামিমের সঙ্গী হিসেবে সুযোগ দেওয়া হয় সেখানেও একটি ‘কিন্ত’ থেকে যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যদি ঠিকমত পারফর্ম না করে তাহলে? আবার পারফর্ম করলেও বয়সের ব্যাপারটা চলে আসছে সঙ্গে সঙ্গেই।

আশরাফুলের বর্তমান বয়স ৩৪। যেখানে উপমহাদেশীয় ক্রিকেটারদের থামার বয়স। খুব বেশি হলে এক অথবা দুই বছর সার্ভিস দিতে পারবেন তিনি। তামিমেরও বয়স বাড়ছে। যেখানে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও তামিমের সঠিক সঙ্গী খুঁজে বের করতে পারেনি বিসিবি। সেখানে তামিম আশরাফুল চলে যাওয়ার পর একই সঙ্গে দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান বিসিবি কিভাবে খুঁজে বের করবে?

‘লং টার্ম ইনভেস্টমেন্ট’ বলে একটা প্রথা রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। যার অর্থ দাঁড়ায়, এমন ভাবে কোথাও বিনিয়োগ করা যেখানে শুরুতেই লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে সেখান থেকে লাভের অংশ বের করে নিয়ে আসা সম্ভব। এখন বাংলাদেশকে লং টার্ম ইনভেস্টমেন্টের দিকেই চোখ দিতে হবে। আশরাফুলকে সুযোগ দেওয়া মানে ওপেনিং সমস্যা সাময়িকভাবে সমাধান করা। কিন্ত লং টার্ম ইনভেস্টমেন্টে পিছিয়ে পড়া। তামিমের সঙ্গী হিসেবে এখনই নতুন ও তরুণদের মধ্যে কাউকে খুঁজে বের করতে হবে বিসিবিকে। যারা বাংলাদেশের লং টার্ম ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে দলে নিয়মিত সুযোগ পাবে।

আশরাফুলের সুযোগ অবশ্য এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের ওপেনিং সমস্যার পর বড় সমস্যা ছয় সাতে একজন হার্ট হিটার ব্যাটসম্যান না থাকা। সেক্ষেত্রে আশরাফুলের একটা সুযোগ আসতে পারে। কেননা আশরাফুল বাংলাদেশের এক সময়ের হার্ট হিটার ব্যাটসম্যান হিসেবে তকমা পেয়েছিলেন। সেই হিসেবে দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রে তাঁকে বিবেচনা করা যেতে পারে। যদিও আশরাফুল এই পজিশনে খেলার জন্য কতোটুকু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন সেটা একটা বিষয়। আশরাফুলের উপরের দিকেই খেলার অভিজ্ঞতা ও স্বাচ্ছন্দ্যটাই বেশি। বর্তমান অবস্থায় সাকিব, মুশফিক ও রিয়াদকে সরিয়ে জায়গা করা আশরাফুলের জন্য প্রায় এক কথায় অসম্ভব।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিট ও পারফরম্যান্স থাকলে আশরাফুলের দলে ফেরা অবশ্য সময়ের ব্যাপার। বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু অবশ্য এমনটাই দাবী করছেন। তিনি বলেন, ‘বয়স কোন বিষয় না। আন্তর্জাতিক মানের ফিটনেস থাকলে যে কেউ দলে আসতে পারবে। ফিটনেস আগে জাতীয় দলের পর্যায়ে আনতে হবে তাঁকে। পাফরম্যান্সও করতে হবে অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো। কেননা সে যেখানে ব্যাট করেন সেখানে অনেক ক্রিকেটার স্থায়ী হয়ে গেছে’।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে