আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০১৮ ১১:১০

টেস্টে যে লজ্জার খাতায় নাম নেই টাইগারদের!

অনলাইন ডেস্ক
টেস্টে যে লজ্জার খাতায় নাম নেই টাইগারদের!

১৯৫৫ সালের ২৫ মার্চ অকল্যান্ডের এই ইডেন পার্কেই নিউজিল্যান্ডকে ২৬ রানে অল আউট করেছিল ইংল্যান্ড। যা আজ পর্যন্ত টেস্ট ইতিহাসের কোন ইনিংসের সর্বনিম্ন রান। এর ঠিক ৬৩ বছর পর, সেই মার্চেই (২২ মার্চ) ইংলিশদের নিজেদের ইতিহাসের ষষ্ঠ সর্বনিম্ন রানের মুখোমুখি করেছে কিউইরা।

দুই কিউই বোলার ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদি মিলে মাত্র ২০.৪ ওভারে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছেন সফরকারীদের। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে। বোল্ট ৬ ও সাউদি নেন ৪ উইকেট। ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের জন্য রীতিমতো লজ্জারই। তবে এই সর্বনিম্ন রানের ইনিংসের রেকর্ড তালিকায় টেস্ট খেলা প্রায় সব দলের চেয়ে এগিয়ে আছে টাইগাররা। টেস্টে তাদের সর্বনিম্ন রানের ইনিংস ৬২ রানের। এই রেকর্ডে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে শুধু শ্রীলঙ্কা (৭১)।

তবে ইংলিশদের সর্বনিম্ন রান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ১৮৮৭ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৫.৩ ওভারে মাত্র ৪৫ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। চার্লি টার্নার ৬ ও জেজে ফেরিস ৪ উইকেট নিয়েই মূলত ইংলিশদের এ সর্বনাশ করেন।

নিউজিল্যান্ডের পর টেস্টে সবচেয়ে কম রানের ইনিংসের রেকর্ডটি অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার। সেটি ১২২ বছর আগের ঘটনা। ১৮৯৬ সালে পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জ পার্কে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮.৪ ওভারে মাত্র ৩০ রানে অল আউট হয়ে যায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংলিশ পেসার জর্জ লোহম্যান ওই ইনিংসে একাই নেন ৮ উইকেট। আর প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। ওই টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৩০.৪ ওভার খেলে ৯৩ রানে অল আউট হয় প্রোটিয়ারা।

এরপরেই আছে আরেক অভিজাত দল অস্ট্রেলিয়া। ১৯০২ সালে বার্মিংহামের এজবাস্টন টেস্টে করা ৩৬ রানের ইনিংসটি তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্কোর। টেস্ট ইতিহাসের যা পঞ্চম সর্বনিম্ন। এখানেও জর্জ হার্স্ট ৩ ও উইলফ্রেড রোডস ৭ উইকেট নিয়ে এ লজ্জায় ডোবান অস্ট্রেলিয়াকে।

ভারতও তাদের টেস্টে ইনিংসের সর্বনিম্ন রান করেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। ১৯৭৪ সালে লর্ডসে ফলো অনে পড়ে তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুই ইংলিশ বোলারের তোপের মুখে ১৭ ওভারে ৪২ রান করতেই সব ক’টি উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। ওই ইনিংসে জেফ আরনল্ড ৪ ও ক্রিস ওল্ড ৫ উইটেন নেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনিম্ন টেস্ট ইনিংস ৪৭ রানের। এটিও ইংলিশদের বিপক্ষে। ২০০৪ সালে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে তৃতীয় ইনিংসে স্টিভ হ্যারমিসনের তোপের মুখে ২৫.৩ ওভারে ৪৭ রান করতে পারে স্বাগতিকরা। ওই ইনিংসে হ্যারমিসন একাই নেন ৭ উইকেট।

উপমহাদেশের দল পাকিস্তানের সর্বনিম্ন টেস্ট ইনিংস অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, জোহানেসবার্গে। ২০১৩ সালে ওয়ান্ডারার্সে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রোটিয়া পেসারদের আক্রমণের মুখে ২৯.১ ওভারে ৪৯ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ওই ইনিংসে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যাদের মাঠছাড়া করতে নেতৃত্ব দেন ডেইল স্টেইন। ৬ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া ভারনন ফিল্যান্ডার ও জ্যাক ক্যালিস ২টি করে উইকেট নেন।

জিম্বাবুয়ে টেস্ট ইনিংসে তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১২ সালে নেপিয়ারের ম্যাকলেন পার্কে কিউই বোলারদের তোপের মুখে ২৮.৫ ওভারে ৫১ রানে অল আউট হয়ে ফলো অনে পড়ে সফরকারীরা। ওই ইনিংসে ক্রিস মার্টিন, ট্রেন্ট বোল্ট, ডগ ব্রেসওয়েল ও টিম সাউদি ২টি করে উইকেট নেন। আর ড্যানিয়েল ভেট্টরি নেন ১ উইকেট।

টাইগারদের সর্ননিম্ন টেস্ট ইনিংস অবশ্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০০৭ সালে কলম্বোর পি সারা ওভালে মুত্তিয়া মুরালিধরনের ঘূর্ণি ও লাসিথ মালিঙ্গার তোপের মুখে ২৫.২ ওভারে ৬২ রান করে অল আউট হয়ে যায় সেই সময়ের নবীন টেস্ট খেলুড়ে দল বাংলাদেশ। তবে সার্বিক রেকর্ড বিবেচনা করলে পারফরম্যান্সটা খুব একটা হতাশার নয়। যেখানে অভিজাত টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর সর্বনিম্ন রান পঞ্চাশের নিচে, সেখানে নবীন দল হিসেবে সেসময় ভালোই প্রতিরোধ গড়েছিল টাইগাররা।

তবে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। টেস্টের ইনিংসে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ৭১, যা অন্য যেকোন দলের চেয়ে সর্বোচ্চ। ১৯৯৪ সালে ক্যান্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসের তোপের মুখে ২৮.২ ওভারেই নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন রানে অল আউট হয়ে যায় লঙ্কানরা। ওই ইনিংসে আকরাম ৪ ও ইউনিস ৬ উইকেট নেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে