আপডেট : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫২

নদীতে মিললো বুমরার দাদার লাশ, নেপথ্যে করুণ কাহিনী!

অনলাইন ডেস্ক
নদীতে মিললো বুমরার দাদার লাশ, নেপথ্যে করুণ কাহিনী!

জসপ্রীত বুমরা যখন ভারতের হয়ে মাঠে খেলছেন, সে সময়ই বয়ে এল এক দুঃসংবাদ। লাশ মিলেছে বুমরার নিখোঁজ দাদা সান্তোক সিং বুমরার। প্রিয় নাতিকে দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আহমেদাবাদে গিয়েছিলেন এই ৮৪ বছর বয়সী।

শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অবশেষে আজ স্থানীয় দমকল বাহিনী সবরমতী নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, হয়তো অভিমানে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন এই বৃদ্ধ। কারণ, নাতির সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর।

আসল কারণটা যা-ই হোক, বড় করুণ পরিণতি দিয়ে জীবনের শেষটা টানলে বুমরার দাদা। একসময়ে গুজরাটের সফল ব্যবসায়ী, তিনটি কারখানার মালিক সান্তোক শেষ বয়সে অটোরিকশা চালিয়ে জীবনধারণ করতেন। বুমরার মতো একজন তরুণ কিন্তু সফল ক্রিকেটারের দাদার এই করুণ গল্প ফলাও করে ছাপা হয় পত্রপত্রিকায়। বুমরার বাবা জসবীরের মৃত্যুর পর সান্তোক সবকিছু বেচে নিয়ে উত্তরাখন্ডে চলে গিয়েছিলেন। সেখানেই অটো চালাতেন।

বুমরার দাদার পরিবারের সঙ্গে তাঁর বিধবা মায়ের সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন আছে বলে আঁচ করা যাচ্ছে। কারণ, ১৭ বছর ধরে বুমরার দাদা তাঁর নাতিকে দেখতে পাননি বলে জানা গেছে। ৬ ডিসেম্বর বুমরার জন্মদিনে নাতিকে দেখবেন বলে পণ করেছিলেন। কিন্তু বুমরার মা তাঁর ছেলের ঠিকানা বা ফোন নম্বর কিছুই দেননি সান্তোককে। এমনটাই দাবি করেছেন সান্তোকের মেয়ে, বুমরার ফুপু রাজিন্দর। ১ ডিসেম্বর আহমেদাবাদে মেয়ে রাজিন্দরের বাড়িতেই গিয়ে উঠেছিলেন সান্তোক।

আহমেদাবাদ মিররের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, নাতিকে দেখতে না পাওয়ার হতাশা থেকে অভিমান জন্মায় সান্তোকের। এরপর তিনি আরেক ছেলে, বুমরার চাচা বলবিন্দরকে ফোন করে বলেন, তিনি চলছেন স্বর্গত স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে।

রাজিন্দরের দাবি, ‌‘বুমরার মা দালজিৎ কাউর স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষিকা। আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পর উনি কিছুতেই জসপ্রীতের সঙ্গে বাবার যোগাযোগ করিয়ে দিতে রাজি হননি। এমনকি ফোন নম্বরও নয়। আমার বাবা এতে খুব কষ্ট পান। শুক্রবার দুপুরে তিনি আমার বাসা ছেড়ে বেরিয়ে যান, আর ফেরেননি।’

এ ব্যাপারে বুমরার মা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে বুমরা ধর্মশালায় ভারতের হয়ে শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলছেন। বেশ ভালো বোলিং করছিলেন তিনি। মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সময় মাঠেই ছিলেন এই পেসার। ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়াও জানা সম্ভব হয়নি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে